নিজের গুমের বর্ণনা দিতে গিয়ে অঝোরে কাঁদলেন বাংলাদেশের‌ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

Share:

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: ২০১৫ সালে গুম হওয়ার পর টানা ৬১ দিনের বন্দিদশা। এরপর ভারতের মেঘালয়ে কেটে যায় প্রায় ৯ বছর। সেই দীর্ঘ ও দুঃসময়ের অভিজ্ঞতা এবার প্রকাশ্যে তুলে ধরলেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। শনিবার (২৯ আগস্ট) ঢাকার শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় নিজের জীবনের সেই ভয়াবহ অধ্যায়ের কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন তিনি। আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে ‘মায়ের ডাক’ আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানের বিষয় ছিল- নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান, আইন, ন্যায়বিচার, জবাবদিহি এবং মানবাধিকার। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন সালাহউদ্দিন আহমদ।

২০১৫ সালের ১০ মার্চ ঢাকার উত্তরা এলাকা থেকে পুলিশের পরিচয়ে তাঁকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি। এরপর একটি অন্ধকার ও অত্যন্ত ছোট ঘরে তাঁকে ৬১ দিন আটকে রাখা হয়। তিনি বলেন, ঘরটির আয়তন ছিল প্রায় ৮ ফুট বাই ৪ ফুট। সেখানে ছিল একটি জলের কল এবং শৌচকর্মের জন্য নর্দমার সঙ্গে যুক্ত একটি ছোট ছিদ্র। দুর্গন্ধে ওই ঘরে থাকা অত্যন্ত কষ্টকর ছিল। তাঁর শোয়ার জন্য একটি কম্বল ও বালিশই যথেষ্ট ছিল। ঘরের মেঝেতেই তাঁকে শুতে দেওয়া হতো। প্রচণ্ড গরমে দরজার উপরের সামান্য ফাঁক দিয়ে যে হাওয়া ঢুকত, সেটিই ছিল স্বস্তির একমাত্র উপায়। কারণ দরজার বাইরে একটি বৈদ্যুতিক পাখা চালিয়ে রাখা হতো। হৃদরোগের সমস্যা থাকা সত্ত্বেও বন্দি অবস্থায় তিনি কোনও চিকিৎসা পাননি বলেও জানান। শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর একসময় চোখ বেঁধে তাঁকে অন্য আরেকটি জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকেই শুরু হয় আরও অনিশ্চিত এক যাত্রা। সালাহউদ্দিনের দাবি, প্রথমে চোখ বাঁধা অবস্থায় তাঁকে মাইক্রোবাসে এবং পরে গভীর রাতে জিপে করে অজ্ঞাত কোনও জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। দীর্ঘ পথ পেরিয়ে এক জায়গায় পৌঁছে হাত ও চোখ বাঁধা অবস্থাতেই তাঁকে চামচ দিয়ে নুডলস খেতে দেওয়া হয়। বাইরের পৃথিবী থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন থাকায় দেশে কী ঘটছে, তার কোনও খবরই তাঁর কাছে পৌঁছত না। এমনকি যুদ্ধাপরাধী কামরুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার খবরও তিনি জানতেন না। বিষয়টি জানতে পেরে জিজ্ঞাসাবাদকারী কর্মকর্তাও বিস্মিত হয়েছিলেন বলে জানান সালাহউদ্দিন। 

আরও পড়ুন: প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী স্ট্যালিনের নিরাপত্তায় কাটছাঁট বিজয় সরকারের

পরে ভোরের দিকে তাঁকে একটি নির্জন পাহাড়ি এলাকায় নামিয়ে দেওয়া হয়। অপহরণকারীরা মুখ ঢেকে দ্রুত সেখান থেকে চলে যায়। তাঁদের চলে যাওয়ার পর একটি বিলবোর্ড দেখতে পান সালাহউদ্দিন। সেটি দেখে তিনি বুঝতে পারেন, তিনি ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিলংয়ে রয়েছেন। স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে একটি হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে তাঁকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলে সন্দেহ করে একটি মানসিক হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে মানসিক রোগীদের সঙ্গে তাঁকে রাখা হয়েছিল বলে জানান তিনি। জোর করে মানসিক রোগের ওষুধ খাওয়ানো এবং চোখের চশমা নিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করেন সালাহউদ্দিন। দাড়ি ও চুল কেটে দেওয়ার পর নিজের পরিচয় নিয়েও আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন তিনি। একসময় পরিস্থিতি এতটাই অসহনীয় হয়ে ওঠে যে, বিদেশের মাটিতেই তাঁর মৃত্যু হতে পারে বলে আশঙ্কা করেছিলেন। সেই সময়ের কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি বলেন, বিদেশে পাগল অবস্থায় মারা গেলে তাঁর পরিবার হয়তো তাঁর কবরটিও দেখতে পাবে না। তবে একদিন হাসপাতালে তাঁর স্ত্রীর ফোন আসে। ফোনের ওপারে স্ত্রীর কান্নার আওয়াজ শুনে তিনি বুঝতে পারেন, পরিবার তাঁর বেঁচে থাকার খবর পেয়েছে। পরে সিভিল হাসপাতালে স্থানান্তরের সময় সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে নিজের পরিচয় জানিয়ে চিৎকার করে বলেছিলেন, ‘ইয়েস, আই অ্যাম সালাহউদ্দিন।’ শিলংয়ে থাকার সময় তাঁর বিরুদ্ধে ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে ফরেনার্স অ্যাক্টে মামলা হয়। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর ২০১৮ সালের ২৬ অক্টোবর শিলংয়ের নিম্ন আদালত তাঁকে মুক্তি দেয়। পরে ২০২৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আপিল আদালতও সেই রায় বহাল রাখে। ভারতে থাকার সময়ই বিএনপির ষষ্ঠ কাউন্সিলে সালাহউদ্দিন আহমদকে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য করা হয়। এরপর ২০২৪ সালের অগস্টে বাংলাদেশে গণ-অভ্যুত্থানের পর তাঁর দীর্ঘ নির্বাসনের অবসান ঘটে এবং দেশে ফেরেন তিনি। নিজের বক্তব্যে দেশে ফেরার ক্ষেত্রে জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন সালাহউদ্দিন। আন্দোলনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের কারণেই ভারত থেকে দেশে ফিরতে পেরেছেন তিনি। 

সাঙ্ঘাতিক ঘটনা! ভিয়েনার জাদুঘর থেকে গায়েব মিশরের রানির ৬৭৩ হিরের মহামূল্যবান হার

মাত্র ১৫ বছরেই সেনাপতির দায়িত্ব, ফের এক কীর্তি গড়লেন বৈভব সূর্যবংশী

কিশোরীকে ধর্ষণ, অভিযুক্ত টোটো চালকের ফাঁসির দাবিতে উত্তপ্ত ঝাড়গ্রাম

আগে ভর্তি হলেও ফের কাউন্সেলিংয়ে অংশ নিতে পারবে পড়ুয়ারা, বড় সিদ্ধান্ত জয়েন্ট এন্ট্রান্স বোর্ডের

ভোররাতে রেভ পার্টিতে চলল গুলি, নিহত ১, আহত ৫

গরম ভাতের সঙ্গে জমে যাবে পাঙাশ মাছের দোপেঁয়াজি, রইল সহজ রেসিপি

সম্পত্তি নিয়ে বিবাদ, আত্মীয়দের বিরুদ্ধে FIR করলেন শাহরুখের সহ অভিনেতা চন্দ্রচূড়

Nepal Flash Flood: গাড়ি চালকের বুদ্ধিতে বাঁচল প্রাণ, নিরাপদে ফিরলেন বসিরহাটের শিক্ষক দম্পতি

নিজের গুমের বর্ণনা দিতে গিয়ে অঝোরে কাঁদলেন বাংলাদেশের‌ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

‘উত্তম কুমারের অভিনয় প্রজন্মের পর প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করেছে,’ জন্মশতবর্ষে মহানায়ককে স্মরণ মোদির

মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারির পরেই অ্যাকশন, মোছা হল যাদবপুর ক্যাম্পাসের ‘দেশবিরোধী’ দেওয়াল লিখন

কিডনি পাচার চক্রে বাংলাদেশ যোগ, বাগুইআটি থেকে গ্রেফতার রাসেল সম্পর্কে জানলে চমকে উঠবেন

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী স্ট্যালিনের নিরাপত্তায় কাটছাঁট বিজয় সরকারের

সমুদ্রে ট্রলারডুবিতে মৃত মৎস্যজীবীদের পরিবারকে হোমগার্ডের নিয়োগপত্র দিলেন শুভেন্দু অধিকারী