চোখ রাখুন
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

২০২৬ প্রার্থী তালিকা

জেলা বদলালে শুধু সেই জেলার বিধানসভা কেন্দ্রগুলো দেখা যাবে।

লোড হচ্ছে...

সাতক্ষীরার যশোরেশ্বরী মন্দিরে মানত করেন মুসলিমরাও

নিজস্ব প্রতিনিধি : কথিত আছে, স্বামী ভোলনাথের অপমান সহ্য করতে না পেরে দক্ষ যজ্ঞে শরীর ত্যাগ করেছিল সতী। এরপর মহাদেব সেই দেহ নিয়ে তান্ডব করতে শুরু করেছিল। অবশেষে বিশ্ব ব্রহ্মান্ডকে বাঁচাতে ভগবান বিষ্নুর সুদর্শন চক্রে খণ্ডিত হয়ে সতীর দেহ ৫১ খন্ডে ভাগ হয়ে ভিন্ন ভিন্ন স্থানে পড়েছিল। তার মধ্যে অন্যতম হল যশোরেশ্বরী মন্দির। এই মন্দির বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার ঈশ্বরীপুর গ্রামে অবস্থিত। মনে করা হয় এখানে সতীর করকমল বা তালুদ্বয় পড়েছিল। ভক্তদের বিশ্বাস, এই সতীপীঠে নিষ্ঠাভরে পুজো করলে ভক্তের মনের ইচ্ছে পূর্ণ হয়।

এখানে মায়ের মুখটুকুই শুধু দেখা যায়। শ্রীযশোরেশ্বরীর বাকিটুকু কাপড় দিয়ে ঢাকা দিয়ে থাকে। মায়ের মাথার ওপর টুকটুকে লাল রঙের চাঁদোয়া। মায়ের প্রিয় রক্তজবার মালা। তাই মাকে সকলে লাল জবাব মালা দিয়ে পুজো দেন। নানা অলংকারে ভূষিতা মা। মাথায় সোনার মুকুট নজর কাড়ে। অনেকেই বলেন, মালদার জাগ্রত জহুরা মায়ের সঙ্গে দেবীর অনেকটা মিল রয়েছে। এখানে কালী পুজো হয় বেশ ধুমধাম করেই। এইসময় পাঁঠা বলিও হয়। বহু দূর দুরান্ত থেকে হাজার হাজার ভক্তের সমাগম ঘটে এখানে। এই মন্দিরে দেবী খুবই জাগ্রত বলে বিশ্বাস ভক্তদের।

বলা হয়, বঙ্গদেশের হিন্দু রাজা প্রতাপাদিত্য মানুষের হাতের তালুর আকারের এক খণ্ড পাথর পেয়েছিলেন অলৌকিক ভাবে। তার পরেই তিনি প্রতিষ্ঠা করেন এই মন্দির। যা নির্মাণ করেছিলেন আনাড়ি নামে এক ব্রাহ্মণ। তিনিই এই মন্দিরে ১০০টি দরজা তৈরি করেন। পরবর্তী কালে মন্দির সংস্কার করেন লক্ষ্মণ সেন ও রাজা প্রতাপাদিত্য। সেই সঙ্গে পাশেই তৈরি করা হয় নাট মন্দির।

আরও পড়ুন :সতীর মালাইচাকি পড়েছিল এখানে, কালীপুজোয় ঘুরে আসুন মেলাইচণ্ডী পীঠে

এই মন্দির হল সম্প্রীতির আরেক নাম। কেননা এখানে শুধু হিন্দুরা নন, এখানে মানত করতে আসেন মুসলিম ভক্তরাও। যাদের মনোস্কামনা পূরণ হয় তাঁরা মন্দিরের বারান্দা থেকে জোড়া পায়রা উড়িয়ে দেওয়ার রীতি রয়েছে। শুধু মন্দির নির্মাণ নয়। তৎকালীন সমাজে আরও এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তাও দেন রাজা প্রতাপাদিত্য। মন্দিরের অদূরে নির্মাণ করান একটি মসজিদ ও একটি গীর্জা। মসজিদটির নাম টেঙ্গা মসজিদ। টেঙ্গা শব্দের অর্থ যুদ্ধ শিবির। মসজিদটি উৎসর্গ করেন তাঁর কর্মচারী কামালউদ্দিনের উদ্দেশে, যিনি প্রথম দেবীস্থানে অলৌকিক দৃশ্য দেখেছিলেন। মসজিদ থেকে কিছুটা দূরেই একটি গীর্জা তৈরি করান তিনি। নাম, ঈশ্বরীপুর চার্চ।

কথিত আছে রাজা প্রতাপাদিত্যের কর্মচারী কামালউদ্দিন কাজ করতে গিয়ে দেখেন, ঝোপের আড়ালে জ্যোতির্ময় আলোর ছটা। সেখান থেকে বের হচ্ছে ধোঁয়া। ঘটনার কথা রাজাকে জানান তিনি। জঙ্গলের মধ্যে গিয়ে রাজা দেখেন, এক পরিত্যক্ত মন্দির ও এক প্রস্তরখণ্ড। পাথরের খণ্ডটি অনেকটা হাতের তালুর মতো দেখতে। পাশেই পড়ে রয়েছে টাটকা জবা ফুল। সেই থেকে সেখানে গড়ে তোলেন মন্দির। 

আরও পড়ুন : জানেন কী বিদ্যাসুন্দর কালী বাড়ির হাড় হিম করা ঘটনা,কেন বন্ধ হয়েছিল নরবলি ?

Published by:

Share Link:

More Releted News:

ভোটের দায়িত্ব পালনে অস্বীকার করায় দুই কলেজ শিক্ষককে বরখাস্ত করল নির্বাচন কমিশন

জ্বালানি সঙ্কট তুঙ্গে, ঢাকার সরকারি হাসপাতালে মোবাইলের আলোয় চলছে চিকি‍ৎসা

তিন বছরের শিশুসহ একই পরিবারের ৪ জনকে গলা কেটে খুন, আতঙ্ক এলাকাজুড়ে

বাংলাদেশে ডিগবাজি মতুয়া নেত্রীর, হাসিনাকে ছেড়ে ধরলেন তারেকের হাত

বাংলাদেশের দিনাজপুরে এবার ঘরে আগুন ধরিয়ে জ্যান্ত পুড়িয়ে মারা হল হিন্দু দম্পতিকে

জীবন বাঁচাতে সম্পত্তি বেচে ভারতে আসার পথে খুন হিন্দু ব্যবসায়ী

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ