জানেন কী দক্ষিণেশ্বরের ভবতারিণী মায়ের আসল নাম ? জানুন অজানা তথ্য

Share:

পৃথ্বীজিৎ চট্টোপাধ্যায় : বহুকাল আগের কথা। কথিত আছে, একদা এখানকার দেউলিপোতার জমিদার বাণরাজা স্বপ্নাদিষ্ট হয়ে গঙ্গা তীরবর্তী  এই জঙ্গলাকীর্ণ এলাকায় একটি শিবের সন্ধান পান এবং তিনি সেটির নিত্যপূজার ব্যবস্থা করেন ও একটি মন্দিরও প্রতিষ্ঠা করেন। দক্ষিণবঙ্গে এই শিবটি পাওয়ার ফলে তিনিই সেই শিবের নামকরণ করেন ‘দক্ষিণেশ্বর’ এবং সেই মহাদেবের নামানুসারেই স্থানটির নাম হয়— ‘দক্ষিণেশ্বর’। খুবই আশ্চর্যজনক ভাবে এই দক্ষিণেশ্বরেই ১৮৫৫ সালে রানী রাসমণির হাত ধরে প্রতিষ্ঠা পায় দক্ষিণেশ্বর কালী মন্দিরের। কিন্তু, কেন রাসমণি দক্ষিণেশ্বরেই মন্দির গড়েছিলেন ? এর নেপথ্যে কি এমন মাহাত্ম্য আছে ?

জনশ্রুতি আছে, ১৮৪৭ খ্রিস্টাব্দে রানী রাসমণি বিশ্বনাথ ও অন্নপূর্ণা দর্শনের জন্য কাশীযাত্রায় উদ্যোগী হয়েছিলেন। কিন্তু, যাত্রার ঠিক আগের দিন রাতে তিনি স্বপ্নে মা কালীর কাছ থেকে কাশীযাত্রার নিষেধাজ্ঞা পান এবং গঙ্গাতীরেই দেবীর মূর্তিপ্রতিষ্ঠা ও অন্নভোগ দেবার আদেশ পান। এরপরই তিনি জগন্মাতার মন্দির ও মূর্তি প্রতিষ্ঠার কাজে ব্রতী হয়েছিলেন। তবে রানীমার এই সঙ্কল্পে বারংবার বাধা পড়ছিল। পূর্বে মন্দির প্রতিষ্ঠার জন্য গঙ্গার পশ্চিমকূলে জমি কেনার বাসনায় যেমন প্রথম বাধা পড়েছিল, তারপরের বাধাটি কিন্তু আরও সাংঘাতিক ছিল । মন্দির নির্মাণ কাজ ও নবীন ভাস্করকে দিয়ে মূর্তি নির্মাণের কাজ নির্বিঘ্নে হয়ে গেলে উপযুক্ত দিনে মন্দির-প্রতিষ্ঠা ও দেবীকে অন্নভোগ দেবার জন্য রানী যখন সচেষ্ট হয়েছিলেন, ঠিক তখনই তিনি এক কঠিন বাধার সম্মুখীন হন। কারণ রানী রাসমণি জাতিতে শূদ্র হওয়ায় সামাজিক প্রথানুযায়ী কোনও ব্রাহ্মণই, এমনকি রানীর নিজের গুরুও এই মন্দির প্রতিষ্ঠা করতে রাজি হননি ।

আরও পড়ুনঃ খালি হাতে ফেরান না কাউকে কুলপুকুরের এই জাগ্রত কালী

জানা যায়, কলকাতার ঝামাপুকুর চতুষ্পাঠীর পণ্ডিত ‘উচ্চকোটি-মাতৃসাধক’ রামকুমার চট্টোপাধ্যায় সেদিন সকল শাস্ত্রীয় অপব্যাখ্যা উপেক্ষা করে এবং সমুদয় পণ্ডিতবর্গের গোঁড়া মনোভাবের বিরুদ্ধে একাকী সংগ্রামী সৈনিকের মতো রুখে দাঁড়িয়ে রানী রাসমণিকে তাঁর অঙ্গীকারে অগ্রসর হতে সহায়তা করেছিলেন। তখন রামকুমার চট্টোপাধ্যায়ের কাছ থেকে বিধান আসে যে, প্রতিষ্ঠার আগে যদি কোনও ব্রাহ্মণকে ওই মন্দির দান করা যায় এবং সেই ব্রাহ্মণ যদি ওই মন্দিরে দেবীকে প্রতিষ্ঠা করে অন্নভোগের ব্যবস্থা করেন, তবে তা অশাস্ত্রীয় কাজ হবে না। জানা যায়, তিনি ছিলেন ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণের জ্যেষ্ঠভ্রাতা এবং কলকাতার ঝামাপুকুর টোলের প্রতিষ্ঠাতা। সেই সময় শ্রীরামকৃষ্ণ তথা গদাধরও ঝামাপুকুরে দাদা রামকুমারের সঙ্গে বাস করতেন।

কিন্তু, এতকিছুর পরেও সেইসব গোঁড়া ব্রাহ্মণ-পণ্ডিত রাসমণির বিরুদ্ধে ‘কৈবর্ত্য’, ‘শূদ্রাণী’ ইত্যাদি নানা ন্যক্কারজনক অভিযোগ এনেছিলেন। অগত্যা রাসমণি রামকুমারকেই এই কাজ করার জন্য আহ্বান জানিয়েছিলেন। এরপর রামকুমার সৎসাহসের সঙ্গে সকল বাধাকে তুচ্ছজ্ঞান করে তাঁর কনিষ্ঠ-ভ্রাতা শ্রীরামকৃষ্ণকে (তৎকালীন গদাধর) ঝামাপুকুর থেকে নিয়ে এসে রানী রাসমণির ইচ্ছানুযায়ী ১২৬২ বঙ্গাব্দের ১৮ জ্যৈষ্ঠ, বৃহস্পতিবার, স্নানযাত্রার দিনে (১৮৫৫ খ্রিস্টাব্দের ৩১ মে) মাতৃ মন্দির-প্রতিষ্ঠার পুণ্যকাজ সমাধা করেছিলেন।

জানা যায়, কালী মন্দির প্রতিষ্ঠার সময় দেবীর প্রকৃত নাম ছিল “জগদীশ্বরী কালী মাতা ঠাকুরানী”। কথিত আছে, রানী রাসমণির কুলগুরু এককালে নবদ্বীপের পোড়া মা-তলায় সাধনা করতেন এবং নিকটস্থ ‘ভবতারিণী’ কালীমাতার মন্দিরে গিয়ে জপ-ধ্যান ও প্রসাদ গ্রহণ করতেন। ১২৩২ বঙ্গাব্দে মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্রের প্রপৌত্র গিরিশচন্দ্র এই ‘ভবতারিণী-কালীমন্দির’ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এই ভবতারিণীর নামানুসারেই রানীর গুরুদেব দক্ষিণেশ্বরের ‘জগদীশ্বরী’ কালীর নাম ‘ভবতারিণী’ রেখেছিলেন । আবার শোনা যায়, শ্রী রামকৃষ্ণই দেবীকে ‘ভবতারিণী’ নামে সম্বোধন করতে থাকায় ভক্তকুলে সেই নামেরই প্রচলন হয় ৷

প্রথাগত ভাবে কালীপুজোর রাতে মা ভবতারিণীর বহু জাঁকজমকের সাথে পুজো হয়। পুজোয় থাকে নানা উপচার। বিশেষ করে এই দিনটিতে সারাদিনই মন্দির খোলা থাকে। ভক্তদের বিশ্বাস, এই দীপান্বিতা কালীপুজোয় মা ভবতারিণীর দর্শন করলে ও তাঁকে মন দিয়ে ডাকলে ভক্তের মনস্কামনা পূর্ণ করেন তিনি। জয় মা।

প্রকাশ্য রাস্তায় বিজেপি জেলা সভাপতির কাছে হাত জোড় করে ক্ষমা চাইলেন ASP

সুস্থ থাকতে পাতে রাখুন সর্ষে শাক, রইল ৪ পুষ্টিকর পদের হদিশ

চোরবাগানে পদপিষ্ট হয়ে মৃত শুভমের বাড়িতে মুখ্যমন্ত্রী, তুলে দিলেন আর্থিক সাহায্য

বিহারের সিওয়ানে বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে ছিন্নভিন্ন সাত শ্রমিক

এশিয়ান প্যারা গেমসে ৩০টি সোনা-সহ ১১৪ পদক জিতে ইতিহাস ভারতের ক্রীড়াবিদদের

দীপাবলিতে খুলবে ভাগ্যের দরজা! গজকেশরী রাজযোগে ফুলেফেঁপে উঠবেন ৩ রাশির জাতকরা

লাভের আশায় লক্ষ্মী প্রতিমা বানিয়ে জুটছে হতাশা! ভিড় কমছে পটুয়াপাড়ায়

চোরবাগানের পুনরাবৃত্তি এড়াতে পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী

সীমান্তে ভারত-চিন সংঘাতের জন্য লাল ফৌজকে দায়ী করল বিদেশ মন্ত্রক

শেষকৃত্যের সময়ে জর্ডানের গির্জায় এলোপাথাড়ি গুলি বন্দুকবাজদের, কমপক্ষে সাতজন নিহত

‘মমতা মানেই তৃণমূল কংগ্রেস,’ বিলম্বিত বোধোদয় মদন মিত্রের

‘ষষ্ঠী থেকে লক্ষ্মীপুজো পর্যন্ত সরকারি হাসপাতালে ছুটি বন্ধ,’ নির্দেশ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

ঋতব্রত শিবিরের বিধায়কদের পদ খারিজের দাবিতে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ শোভনদেব

‘পুলিশের ছোট ভুলের জন্য বড় ঘটনা ঘটল,’ চোরবাগান কাণ্ডে মন্তব্য দিলীপের