আর কিছুক্ষণ, তারপরেই বদলাচ্ছি আমরা

আমরা আসছি

00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
আমরা এখন লাইভ!
এই মুহূর্তে

বিহারে ‘অব কি বার, নীতীশ সরকার’, ইঙ্গিত বুথফেরত সমীক্ষায়

নিজস্ব প্রতিনিধি, পটনা: বিপুল জনাদেশ নিয়ে ফের পাটলিপুত্রের কুর্সি দখল করতে চলেছে এনডিএ। পাঁচ বছর আগে ২০২০ সালের বিধানসভা ভোটের চেয়ে এনডিএ শিবিরের আসন অনেকটাই বাড়ছে। অন্যদিকে তেজস্বী যাদবের নেতৃত্বাধীন মহাজোটকে ভরাডুবির মুখে পড়তে হচ্ছে। প্রথমবার ভোটের ময়দানে লড়া ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোরের ‘অরবিন্দ কেজরিওয়াল’ হয়ে ওঠা হচ্ছে না। তাঁর দল জন সুরাজ পার্টি পেতে পারে মাত্র ২টি আসন। মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) দ্বিতীয় দফার ভোট শেষ হওয়ার পরেই বিভিন্ন সমীক্ষক সংস্থার বুথফেরত সমীক্ষায় এমনই ইঙ্গিত মিলেছে।

এদিন দ্বিতীয় দফার ভোট শেষ হওয়ার পরেই বিভিন্ন সমীক্ষক সংস্থার তরফে বুথফেরত সমীক্ষা প্রকাশ করা হয়। যদিও বুথফেরত সমীক্ষার কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই এবং বহু ক্ষেত্রেই বুথফেরত সমীক্ষায় প্রকাশিত ফলাফল মুখ থুবড়ে পড়েছে। তার জলজ্যান্ত প্রমাণ গত বছরের লোকসভা ভোট। যদিও বিজেপি পন্থী গদি মিডিয়ার তরফে প্রত্যেক ভোট শেষেই এনডিএ’র জয়-জয়কার ঘোষণা করা হয় বুথফেরত সমীক্ষায়। এবারেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি।

বিজেপি-পন্থী হিসাবে পরিচিত ‘দৈনিক ভাস্কর’ এর বুথফেরত সমীক্ষা অনুযায়ী বিহারে ১৪৫ থেকে ১৬০টি আসন জিতে সরকার গঠন করছে এনডিএ। আরজেডির নেতৃত্বাধীন মহাজোট পেতে পারে ৭৩ থেকে ৯১ আসন। প্রশান্ত কিশোরের জন সুরাজ পার্টির ঝুলিতে যেতে পারে ০-৩ আসন। নির্দল ও অন্যান্যরা জয়ী হতে পারে ৫-৭ আসনে।

‘জেভিসি’ নামে অন্য সমীক্ষা সংস্থার বুথফেরত সমীক্ষায় আভাস দেওয়া হয়েছে, ১৩৫ থেকে ১৫০ আসনে জয় পেতে চলেছে এনডিএ। উল্টোদিকে মহাজোট পেতে পারে ৮৮ থেকে ১০৩ আসন। জন সুরাজের ঝুলিতে যেতে পারে মাত্র একটি আসন। অন্যান্যরা পেতে পারে ৩-৬ আসন।

‘চাণক্য স্ট্র্যাটেজিস’ –এর সমীক্ষা বলছে, এনডিএ জিততে পারে ১৩০ থেকে ১৩৮ আসন। আরজেডির নেতৃত্বাধীন মহাজোট জয়ী হতে পারে ১০০ থেকে ১০৮ আসনে। খালি হাতে ফিরবে প্রশান্ত কিশোরের দল। তিন থেকে ৫ আসন জিততে পারে অন্যান্যরা।

‘ম্যাট্রিজ’-এর সমীক্ষা অনুযায়ী, এনডিএ জিততে চলেছে ১৪৭ থেকে ১৬৭ আসনে। মহাজোটের দখলে যেতে পারে ৭০ থেকে ৯০ আসন। প্রশান্ত কিশোরের দল সর্বাধিক পেতে পারে দুটি আসন। নির্দল ও অন্যান্যরা জয়ী হতে পারে ২-৮ আসনে।

‘পি-মার্ক’ বলছে, ১৪২ থেকে ১৬২টি আসনে জিতে ফের ক্ষমতায় ফিরতে চলেছে এনডিএ। ৮০ থেকে ৯৮ আসন নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হবে তেজস্বী যাদবের মহাজোটকে। প্রশান্ত কিশোরের জন সুরাজ জিততে আরে ১-৪ আসনে। নির্দল ও অন্যান্যরা পেতে পারে ০-৩টি আসন।

সমীক্ষক সংস্থা ‘পিপলস ইনসাইট’ তাদের বুথফেরত সমীক্ষায় জানিয়েছে ১৩৩ থেকে ১৪৮ আসনে জিতে ফের পাটলিপুত্রের কুর্সিতে ফিরছে নীতীশ কুমারের এনডিএ। ৮৭ থেকে ১০২টি আসন নিয়ে ফের বিরোধী দলের জন্য নির্ধারিত বেঞ্চেই বসতে হবে মহাজোটকে। প্রশান্ত কিশোরের দল জন সুরাজ জয়ী হতে পারে ০-২ আসনে। আর নির্দল ও অন্যান্যদের ঝুলিতে যেতে পারে ৩-৬টি আসন।

‘পিপলস পালস’ এর বুথফেরত সমীক্ষা অনুযায়ী, ‘১৩৩ থেকে ১৫৯টি আসন জিততে চলেছে এনডিএ। ৭৫ থেকে ১০১ আসনে জিততে পারে মহাজোট। ০ থেকে ৫টি আসনে জিততে পারে জন সুরাজ। ২ থেকে ৮টি আসনে জিততে পারেন অন্যান্যরা।

বিহারে সরকার গড়ার নির্বাচনে এবার ‘বাম্পার ভোটিং’ হয়েছে। প্রথম দফায় যেখানে ভোট পড়েছিল ৬৫ দশমিক ০৮ শতাংশ সেখানে দ্বিতীয় দফায় বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত ভোট পড়েছে ৬৭.১৪ শতাংশ। বহু আসনে যেহেতু সন্ধে ছয়টা পর্যন্ত ভোট নেওয়া হবে, ফলে ভোটের হার আরও বাড়বে তা বলাই নিশ্চিত। ভোট পড়ার হার কোথায় গিয়ে পৌঁছবে তা অনুমান করতে পারছেন না নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকরা। উল্লেখ্য ২০০০ সালে বিহারে বিধানসভা নির্বাচনে ৬২ দশমিক ৫৭ শতাংশ। ১৯৯৮ সালে লোকসভা নির্বাচনে পড়েছিল ৬৪ দশমিক ৬০ শতাংশ ভোট। বিহারের ইতিহাসে সেটাই ছিল রেকর্ড সংখ্যক ভোটদান।

মঙ্গলবার সকাল সাতটা থেকে বিহারে দ্বিতীয় তথা শেষ দফার ভোটগ্রহণ শুরু হয়। রাজ্যের ২০ জেলার ১২২ আসনে ভোট দেওয়ার জন্য সকাল থেকেই বুথগুলিতে ভোটারদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রথম দু’ঘন্টায় অর্থা‍ৎ সকাল ৯টা পর্যন্ত ভোট পড়ে ১৪.৫৫ শতাংশ। প্রথম দফার নির্বাচনের দিন সকাল ৯টা পর্যন্ত ভোট পড়েছিল ১৩.১৩ শতাংশ। দুপুর ১টা পর্যন্ত  ভোট পড়ার হার ছিল ৪৭.৬২ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি ভোট পড়েছে কিশনগঞ্জ এবং গয়ায়। দুই বিধানসভা কেন্দ্রেই ভোটের হার ইতিমধ্যে ৫০ শতাংশ ছাপিয়ে যায়। দুপুর ৩টে পর্যন্ত ভোট দানের হার দাঁড়ায় ৬০.৪০ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি ভোট পড়েছে কিশনগঞ্জে (৬৬.১০ শতাংশ)। তার পরেই রয়েছে পূর্ণিয়া (৬৪.২২ শতাংশ)। কাটিহারেও ৬৩.৮০ শতাংশ ভোট পড়েছে। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি রাজনেতারাও দাঁড়িয়েছিলেন ভোটের লাইনে। রোহতস জেলার করগহর বিধানসভা কেন্দ্রে ভোট দেন জন সুরাজ পার্টির প্রধান প্রশান্ত কিশোর। পূর্ণিয়ায় ভোট দেন নির্দল সাংসদ পাপ্পু যাদব। সুপৌলে ভোট দেন বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র শাহনওয়াজ হোসেন।

প্রথম দফায় লখিসরাইয়ে উপমুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা বিজয়কুমার সিনহার কনভয়ে হামলার অভিযোগ উঠেছিল। কনভয় লক্ষ্য করে পাথর-গোবর ও চপ্পল ছোড়ার অভিযোগ উঠেছিল আরজেডি সমর্থকদের বিরুদ্ধে। প্রথম দফায় সেই অশান্তির কথা মাথায় রেখে দ্বিতীয় দফায় কড়া নিরাপত্তার বন্দোবস্থ করেছিল নির্বাচন কমিশন। চার লক্ষাধিক নিরাপত্তা রক্ষী মোতায়েন করা হয়েছিল। চলতি বিধানসভা ভোটে রেকর্ড সংখ্যক ভোট পড়া নিয়ে শুরু হয়েছে কাঁটাছেড়া। ভোটের ময়দানে থাকা রাজনৈতিক দলগুলির তরফ থেকে বিপুল ভোটদানের পিছনে কারণ খোঁজা শুরু হয়েছে। সাধারণত প্রচুর পরিমাণে ভোট যদি পড়ে সে ক্ষেত্রে তা ক্ষমতা পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে থাকে। তবে বিহারে আদৌ পরিবর্তনের জন্যই বাম্পার ভোটিং হল কিনা তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত। ওই দিনই ইভিএম খোলা হবে।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

লোকাল ট্রেনেই মিলল ‘ফ্লাইট’-এর আমেজ! ইনফ্লুয়েন্সারের ‘এয়ার হোস্টেস’ হওয়ার ভিডিও ভাইরাল

গণনায় অশান্তি এড়াতে বড় পদক্ষেপ, ৪৮ ঘণ্টা বন্ধ থাকবে ভারত-ভুটান সীমান্ত

অফিসে ভুলেও মুখ খুলবেন না এই বিষয়গুলো নিয়ে! ভাইরাল অ্যামাজন কর্মীর ভিডিও

৯ বছরের নাবালিকাকে জোর করে গোপনাঙ্গ স্পর্শের চেষ্টা, গ্রেফতার পুলিশের সহকারী কমিশনার

প্রশ্নফাঁসের নামে প্রতারণা, লখনউতে এসআই-হোম গার্ড পরীক্ষাকাণ্ডে গ্রেফতার-২

সম্পত্তির লোভে মা-বাবাকে খুন করে দেহ পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ , গ্রেফতার ছেলে-বৌমা

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ