এই মুহূর্তে

বিরোধীদের বিরাট জয়, সঞ্চার সাথী অ্যাপ নিয়ে নির্দেশ প্রত্যাহার কেন্দ্রের

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ফের বড় জয় বিরোধীদের। তীব্র চাপের মুখে স্মার্টফোনে ‘সঞ্চার সাথী’ অ্যাপ বাধ্যতামূলক প্রি-ইনসটেলশনের নির্দেশিকা প্রত্যাহার করল কেন্দ্র। সাইবার নিরাপত্তার অছিলায় স্মার্টফোন নির্মাতাদের প্রতিটি নতুন মোবাইল ফোনে আগে থেকেই সঞ্চার সাথী’ অ্যাপ ইনস্টল বাধ্যতামূলক করার নির্দেশ দিয়েছিল টেলি যোগাযোগ মন্ত্রক। শুধু নতুন ফোনই নয়, যাঁদের কাছে পুরনো ডিভাইস রয়েছে, তাঁরাও ভবিষ্যতের সফটওয়্যার আপডেট পেলেই এই অ্যাপকে ফোনে পেয়ে যাবেন। সরকারের নির্দেশ ছিল Apple, Samsung, Xiaomi-সহ সমস্ত বড় স্মার্টফোন নির্মাতা সংস্থাকে মাত্র ৯০ দিনের মধ্যে এই প্রি-ইনস্টলেশন বাধ্যতামূলক করতে হবে।সবচেয়ে চমকে দেওয়ার মতো বিষয় হল— একবার ফোনে ঢুকে গেলে এই সঞ্চার সাথী’ অ্যাপ আর আনইনস্টল বা ডিসেবল করা যাবে না!

কেন এত কঠোর নিয়ম আনল সরকার?

সরকারের বক্তব্য, দেশে চুরি হওয়া ফোন, ফেক হ্যান্ডসেট, সিম জালিয়াতি, সাইবার প্রতারণা ইত্যাদি বাড়তে থাকায় মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই অ্যাপটিকে বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।

টেলি যোগাযোগ দফতর (DoT) জানিয়েছিল, ‘নাগরিকদের জাল হ্যান্ডসেট কেনা থেকে বাঁচানো, টেলিকম রিসোর্সের অপব্যবহার দ্রুত রিপোর্ট করা এবং সঞ্চার সাথী উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করতেই এই সিদ্ধান্ত। অ্যাপটির মাধ্যমে চুরি যাওয়া ফোন চিহ্নিত করা যাবে, ভুলবশত ব্যবহার হওয়া সিম ব্লক করা যাবে, আর সন্দেহজনক কার্যকলাপ সরাসরি রিপোর্ট করা যাবে বলে জানানো হয়েছে।’

সরকারের ওই নির্দেশ জানাজানি হতেই শোরগোল পড়ে যায়। বিরোধী দলগুলির পাশাপাশি মানবাধিকার কর্মীরা অভিযোগ তোলেন, ‘সরকার নাগরিকদের ওপর বাড়তি নজরদারি বসাতে চাইছে। কারণ অ্যাপটি ফোনের ক্যামেরা পারমিশন, কল লগ, মেসেজ ডিটেলস-এই সমস্ত সংবেদনশীল ডেটা অ্যাক্সেস করতে পারে।আরও এক বিতর্ক সামনে এসেছে- গণতান্ত্রিক দেশগুলির  মধ্যে ভারত প্রথম, যেখানে এমন একটি সরকার অনুমোদিত অ্যাপ সব নাগরিকের ফোনে বাধ্যতামূলকভাবে ঢোকানো হচ্ছে। অনেকে বলছেন, “নিরাপত্তা জরুরি, কিন্তু এত বড় সিদ্ধান্ত কি নাগরিকের মতামত না নিয়ে নেওয়া উচিত?”

তাহলে অন্যান্য দেশ কী করছে?

বিশ্বের বড় বড় গণতান্ত্রিক দেশগুলো সাইবার অপরাধ রুখতে অন্য পথ নিয়েছে।

  • আমেরিকা
    কোনও সরকারি অ্যাপ বাধ্যতামূলক নয়। তারা STIR/SHAKEN সিস্টেম চালু করে কল ভেরিফিকেশন শক্তিশালী করেছে। FBI, CISA-র মতো এজেন্সি ২৪ ঘণ্টা নজর রাখে, কিন্তু নাগরিকের ফোনে কোনো অ্যাপ চাপিয়ে দেয় না।
  • ইংল্যান্ড
    Online Safety Act অনুযায়ী Facebook, Google-এর মতো প্ল্যাটফর্মকে প্রতারণামূলক কনটেন্ট সরাতে বাধ্য করা হয়েছে। সরাসরি মানুষের ব্যক্তিগত ফোনে হস্তক্ষেপ নেই।
  • ইউরোপীয় ইউনিয়ন
    ফোন সংস্থাগুলোর জন্য বাধ্যতামূলক ৫ বছরের সিকিউরিটি আপডেট। আর বড় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে স্ক্যাম সরাতেই হবে— নইলে বিপুল জরিমানা। তাদের EUDI Wallet অ্যাপ সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাসেবী।
  • সিঙ্গাপুর
    ScamShield অ্যাপ আছে, যা কল-মেসেজ ফিল্টার করে। কিন্তু এটাও স্বেচ্ছায়, প্রি-ইনস্টল নয়।
  • দক্ষিণ কোরিয়া
    তারা এক সময় শিশুদের জন্য SmartSheriff বাধ্যতামূলক করেছিল। কিন্তু প্রাইভেসি ও ডেটা সিকিউরিটির সমস্যা দেখে ২০১৫ সালে পুরো সিদ্ধান্তই প্রত্যাহার করে।

একমাত্র উদাহরণ যেখানে সরকারি অ্যাপ বাধ্যতামূলকভাবে ফোনে ঢোকানো হয়, সেটি রাশিয়া— সেখানে ১৯টি অ্যাপ প্রি-ইনস্টল বাধ্যতামূলক। এর মধ্যে সরকারি আইডি ও অন্যান্য পরিষেবার অ্যাপও আছে।

Published by:

Ei Muhurte

Share Link:

More Releted News:

পেট্রোল বা গ্যাসের দরকারই পড়বে না, মাত্র ৫০ হাজার টাকায় মিলছে এই দুই চাকা

মদ্যপান করতে বারণ করেছিলেন স্বামী, তারপরই স্ত্রীয়ের চরম সিদ্ধান্ত.. শুনে শিউরে উঠবেন আপনিও!

বাংলার ১৫০ আসনের প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত পদ্ম শিবিরের, বাদ পড়ছেন ১০-১৫ বিধায়ক!

গ্যাস সঙ্কটে রাস্তার খাবারের দামে বড় ধাক্কা, ১০ টাকার চা একলাফে ২০ টাকা

মোবাইলের ‘মাসিক’ রিচার্জ ২৮ দিন কেন? প্রশ্ন তুলেন রাঘব চাড্ডা

গুগল-অ্যামাজন-মাইক্রোসফট-এ হামলার হুমকি ইরানের, কর্মচারীদের সতর্ক থাকার নির্দেশ

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ