এই মুহূর্তে

মমতার পথেই অবশেষে হাঁটল অধীর, পত্রবোমা নির্বাচন কমিশনকে

নিজস্ব প্রতিনিধি:‌ শিয়রে বিধানসভা নির্বাচন। আর তাতে মূল বিতর্কিত আলোচ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা। কারণ এসআইআর করতে গিয়ে বাংলার বিপুল বৈধ ভোটারের নাম কেটে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। শুধু তাই নয়, বিপুল ভোটারকে বিচারাধীন বলে তালিকায় তুলে ধরা হয়েছে। এই বিষয়টি এতদিন একা লড়াই করে যাচ্ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যান্য বিরোধীরা তখন চুপ করেছিলেন। এবার গোটা বিষয়টি সামনে আসতেই সকলেই টের পেয়েছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী এতদিন ধরে সঠিক দাবিই করছিলেন। তাই কল্কে পেতে এখন সিপিএম মাঠে নেমে পড়েছে। আর কংগ্রেস নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী পত্রবোমা নিক্ষেপ করলেন নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে।

এদিকে বৈধ ভোটারদের নাম কেটে দেওয়া এবং বিচারাধীন করে তালিকায় রেখে দেওয়ার প্রতিবাদে আগামী ৬ মার্চ ধর্মতলায় ধর্নায় বসতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই আবহে বঙ্গ–রাজনীতিতে কল্কে পেতে অবশেষে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে কড়া চিঠি লিখলেন অধীর চৌধুরী। আর ভোটারদের মৌলিক অধিকার রক্ষার কথা উল্লেখ করে অধীররঞ্জন চৌধুরী চিঠিতে লিখলেন, এসব মামলা নিষ্পত্তির পরই যেন বঙ্গে ভোট ঘোষণা করা হয়। কোন সব মামলার নিষ্পত্তি?‌ এসআইআরের খসড়া তালিকায় বাদ পড়েছিল ৫৮ লক্ষ নাম। আর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর দেখা গেল, বাতিল করা হয়েছে আরও ৫ লক্ষ ৪৬ হাজার ৫৩ জনের নাম। অর্থাৎ, ২০২৫ সালের তালিকার নিরিখে বাদের খাতায় মোট ৬৩ লক্ষেরও বেশি ভোটার। এমনকী ৬০ লক্ষ ভোটার এখনও ‘বিচারাধীন’ (অ্যাডজুডিকেশন)।

অন্যদিকে এই বিচারাধীন থাকা বিপুল ভোটারের বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিধানসভা নির্বাচন স্থগিত রাখার কথা বলেছেন চিঠিতে বহরমপুরের প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ। অধীর চৌধুরী চিঠিতে লিখেছেন, ‘‌পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়ায় ২৮ ফেব্রুয়ারি যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়েছে তাতে প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম ‘বিচারাধীন’ তালিকায় রাখা হয়েছে। দেশের সার্বভৌমত্ব সুনিশ্চিত করতে বাংলার কোনও বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে যেন না বাদ পড়ে। দেশের নির্বাচনে বৈধ ভোটারদের মত প্রকাশের অধিকার সংবিধান দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আমার দাবি, পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর প্রক্রিয়ায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম বিচারাধীন তালিকায় রয়েছে। সেটা সম্পূর্ণ হওয়ার পরই বাংলার নির্বাচনের দিন ঘোষণা করা হোক।’‌

তাছাড়া নির্বাচন কমিশনের কাছে এই দাবি তুলে আন্দোলনও করেছে কংগ্রেস। তাতেও সেভাবে কাজ হয়নি। তাই এবার কড়া চিঠি লিখলেন অধীর। মনে রাখা দরকার, এমন ৬টি চিঠি অনেক আগেই লিখেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাতে সাড়া না পেয়েই সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেদিন পাশে কেউ দাঁড়ায়নি। আর আজ কংগ্রেস নেতাকে সেই পথে হেঁটেই লিখতে হল, যতদিন পর্যন্ত বাংলার প্রত্যেকটি বৈধ ভোটারের অধিকার নিশ্চিত হবে তার আগে কোনওভাবেই যেন ভোট ঘোষণা না করা হয়। এসআইআরের বিচারাধীন প্রক্রিয়ার জন্য লক্ষ লক্ষ মানুষের নাম গোলকধাঁধায় আটকে রয়েছে। এই অনিশ্চয়তার হাত থেকে বাংলার মানুষকে মুক্ত করে তবেই নির্বাচনের দিন ঘোষণার দাবি জানাচ্ছি।

Published by:

Ei Muhurte

Share Link:

More Releted News:

দু’‌দফায় বিধানসভা নির্বাচন হবে বাংলায়, কোন দুটি তারিখে?‌ ফলাফল ঘোষণা ৪ মে

অসম, কেরল, পুদুচেরিতে ৯ এবং তামিলনাডুতে ২৩ এপ্রিল ভোট, গণনা ৪ মে

LIVE

অপেক্ষার অবসান, বাংলা-সহ ৫ রাজ্যের ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করল নির্বাচন কমিশন

‘‌বিজয়ের দলের সঙ্গে কোনও জোট নয়’‌, বিজেপিকে ধাক্কা দিয়ে জানালেন পলানিস্বামী

মার্চ মাস থেকেই বকেয়া ডিএ কার্যকর, ভোট ঘোষণার আগে মাস্টারস্ট্রোক মমতার

মাস্টারস্ট্রোক মমতার, ভোট ঘোষণার আগেই পুরোহিত -মুয়াজ্জেনদের ভাতা ৫০০ টাকা বৃদ্ধি

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ