এই মুহূর্তে

লিপস্টিক দিয়ে দেওয়াল ভর্তি সুইসাইড নোট, পরকীয়া সন্দেহে স্ত্রীকে খুন করে আত্মঘাতী স্বামী

নিজস্ব প্রতিনিধি: লিপস্টিক দিয়ে ঘরের দেওয়ালে চিঠি লিখে স্ত্রীকে খুন করে আত্মঘাতী হলেন স্বামী। সোমবার (২৪ অক্টোবর) ছত্তিশগড়ের বিলাসপুরের অটল আবাস কলোনি থেকে তাঁদের রহস্যজনক মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। প্রাথমিক ধারণা, পারিবারিক কলহের জেরেই এই সম্ভাব্য খুন-আত্মহত্যার ঘটনাটি ঘটেছে। লিপস্টিক দিয়ে লেখা বার্তা দেখে পুলিশ সেটাই অনুমান করছেন। ঘটনার দিন নিহতদের বাড়ির ভেতরের দৃশ্যটি ছিল ভয়াবহ। ৩০ বছর বয়সী শিবানী তাম্বে ওরফে নেহা বিছানায় মৃত অবস্থায় পড়েছিলেন, এবং তাঁর স্বামী রাজ তাম্বেকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছিলেন। কিন্তু পুলিশ তাঁদের ঘরের দেওয়ালে লিপস্টিক দিয়ে লেখা বার্তাগুলি দেখে অবাক হয়ে গিয়েছিলেন।

যেখানে স্পষ্ট ছিল হৃদয় ভেঙে যাওয়া এবং হতাশার ইঙ্গিত। এমনকী লেখাগুলির মধ্যে রাজেশ বিশ্বাস নামে একজন ব্যক্তির নাম এবং মোবাইল নম্বর ছিল। এবং তাঁকে এই দম্পতির দাম্পত্য জীবনে অশান্তি সৃষ্টির জন্য অভিযুক্ত করা হয়েছিল। একটি লাইনে লেখা ছিল, “রাজেশ বিশ্বাসের কারণে আমরা মারা যাচ্ছি। অন্য একটি আবেগঘন নোটে লেখা ছিল, “বাচ্চারা, আমি তোমাদের ভালোবাসি।” সূত্রের খবর, প্রেম করেই বিবাহ করেছিলেন এই দম্পতি। তাদের প্রায় ১ দশকের সংসার, এবং তিন সন্তান। তাঁরা দুজনেই একটি বেসরকারি সংস্থায় পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। এবং সেই রোজগারেই বাচ্চাদের লালন-পালন করতেন। তবে প্রতিবেশীরা প্রকাশ করেছেন যে, তাদের মধ্যে প্রায়শই ঝগড়া লেগেই থাকতো। কিন্তু ইদানিং তাদের ঝগড়া নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছিল। দুজন দুজনকে অবিশ্বাস করতেন এবং তাঁরা পরস্পরকে বিশ্বাসঘাতকতার জন্যে দায়ী করতেন।

২৪ নভেম্বর যখন রাজ বা নেহা কেউই বিকেল পর্যন্ত ঘর থেকে বের হচ্ছিলেন না, তখনই নেহার মা, রিনা চিন্না উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন এবং তাদের খোঁজ নিতে যান। দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। এরপর ধাক্কাধাক্কিতে দরজা খুলে গেলে, তিনি দেখতে পান তাঁর মেয়ে বিছানায় শুয়ে আসছে রক্তাক্ত অবস্থায় এবং তার জামাই ঝুলছেন।ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা নেহার ঘাড়ে আঁচড়ের চিহ্ন দেখতে পেয়েছেন, যাতে স্পষ্ট যে, রাজ আত্মহত্যার আগে নেহাকে শ্বাসরোধ করে খুন করেন। ঘর থেকে উদ্ধার হওয়া একটি সুইসাইড নোট পাওয়া যায়, এবং তাঁরা দেওয়ালেও লেখা একই অভিযোগ করে গিয়েছেন। তবে পুলিশ কোনও কিছুই এখন উড়িয়ে দিচ্ছে না। লেখা, সুইসাইড নোট, আঘাত এবং ঘটনার সময়রেখা সবকিছুই তীব্র তদন্তাধীন। নগর পুলিশ সুপার (সিএসপি) নিমিতেশ সিং নিশ্চিত করেছেন যে, দুটি মৃতদেহ একই ঘরে পাওয়া গিয়েছে এবং একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে, তা এখনও পুলিশ তদন্ত করছে।

Published by:

Ei Muhurte

Share Link:

More Releted News:

রক্ত বন্ধ করতে মাথায় সেলাইয়ের পরিবর্তে স্ট্যাপলার পিন! চিকিৎসকের কীর্তি নিয়ে শোরগোল

রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার না পেয়ে যা করলেন মহিলা, দেখে চমকে উঠল সবাই

যমজ বোনকে ৮৪ বার ছুরির কোপ! ‘তোমার জন্য সারপ্রাইজ আছে’ মা বলল ইঞ্জিনিয়ার ছেলে

সুপ্রিম কোর্টে মুখ পোড়ার আগেই সোনম ওয়াংচুককে মুক্তির সিদ্ধান্ত শাহের মন্ত্রকের

‘স্যার বিয়েটা হতে দিন’, মণ্ডপ থেকে গ্যাংস্টার বরকে পুলিশ তুলে নিয়ে যেতেই যা করল কনে…

গ্যাসের লাইনে কনের বাবা, বিয়ে নিয়ে দুশ্চিন্তায় বহু তরুণ-তরুণী

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ