আমরা আসছি
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

তাপমাত্রা বৃদ্ধির ধাক্কা ধানে, ফলন কমার আশঙ্কায় মাথায় হাত কৃষকদের

নিজস্ব প্রতিনিধি: ভারত একটি কৃষিনির্ভর দেশ। যেখান ধান হল প্রধান খাদ্যশস্য এবং কৃষি অর্থনীতির মূল ভিত্তি। দেশের পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চল—বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা, অন্ধ্রপ্রদেশ, তামিলনাড়ু এবং পাঞ্জাব—এ লক্ষ লক্ষ কৃষক ধান চাষের উপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের ধান উৎপাদন বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

বিশেষ করে বোরো ও খারিফ মৌসুমে অতিরিক্ত তাপমাত্রা ধানের বৃদ্ধি, ফুল ফোটা, পরাগায়ন এবং দানা গঠনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলোকে ব্যাহত করছে। গবেষণায় দেখা গেছে, ধানের জন্য আদর্শ তাপমাত্রা সাধারণত ২০–৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলেও ৩৪–৩৫ ডিগ্রির বেশি তাপমাত্রা ফলনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। 

ধান চিটা হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হলো ফুল ফোটা ও পরাগায়ন পর্যায়ে অতিরিক্ত তাপমাত্রা। এই সময়ে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রা থাকলে পরাগের কার্যক্ষমতা কমে যায়, পরাগায়ন বাধাগ্রস্ত হয় এবং দানা পূর্ণতা পায় না। ফলে শীষে অনেক দানা ফাঁকা থেকে যায়। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, উচ্চ তাপমাত্রা পরাগের অঙ্কুরোদগম ও পরাগনালীর বৃদ্ধি ব্যাহত করে, যার ফলে ফলন কমে যায়।

অন্যদিকে, রাতের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়াও একটি বড় সমস্যা। ভারতের অনেক অঞ্চলে দেরিতে ধান রোপণের প্রবণতা এই সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। সেচের সমস্যা, শ্রম সংকট বা আবহাওয়ার অনিশ্চয়তার কারণে চারা রোপণ দেরিতে হলে ফুল ফোটা ও দানা ভরাট পর্যায় এপ্রিল–মে মাসের তীব্র গরমে পড়ে। এতে ফলন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। এই পরিস্থিতিতে কৃষকদের জন্য কিছু কার্যকর করণীয় তুলে ধরেছেন Indian Council of Agricultural Research এবং Indian Agricultural Research Institute-এর বিশেষজ্ঞরা—

প্রথমত, সময়মতো ধান রোপণ করা অত্যন্ত জরুরি। এতে গাছের সংবেদনশীল পর্যায়গুলো তীব্র গরমের মধ্যে পড়ে না। দ্বিতীয়ত, তাপ সহনশীল ও স্বল্প মেয়াদী জাত ব্যবহার করা উচিত। ভারতে ইতিমধ্যেই বেশ কিছু জলবায়ু সহনশীল ধানের জাত উদ্ভাবন হয়েছে। তৃতীয়ত, জমিতে ২–৫ সেন্টিমিটার পানি ধরে রাখা দরকার। এতে মাটির তাপমাত্রা কিছুটা নিয়ন্ত্রিত থাকে এবং গাছ তাপের ক্ষতি কম অনুভব করে। চতুর্থত, সুষম সার ব্যবস্থাপনা—বিশেষ করে পটাশ সার—গাছের তাপ সহনশীলতা বাড়ায় এবং দানা ভরাটে সহায়তা করে।পঞ্চমত, কৃষিজমির পাশে তাপ উৎপাদক শিল্প বা ইটভাটা নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি, যাতে স্থানীয় তাপমাত্রা বৃদ্ধি কমানো যায়।

 

 

Published by:

Share Link:

More Releted News:

চাকরি না পেয়ে আমেরিকায় আত্মঘাতী ভারতীয় তরুণ, অন্ধ্রে ছেলের দেহের অপেক্ষায় ঋণগ্রস্ত বাবা

উজ্জয়নের মহাকাল মন্দির চত্বর খুঁড়তেই মিলল একবিংশ শতাব্দীর বিশাল শিবলিঙ্গ

স্বপ্নের সাজে অপেক্ষায় কনে, বিয়ের অনুষ্ঠানে হাজির বরের লিভ-ইন-পার্টনার! তারপর…

মদ্যপান করে বিধানসভায়? মুখ্যমন্ত্রীর ‘কীর্তি’ নিয়ে ব্যাপক শোরগোল, দেখুন ভিডিও

বিয়ের মরসুমে বড় ধাক্কা! LPG-এর মূল্য বৃদ্ধিতে দামি হতে পারে ফুচকা-পুরি-রসগোল্লা

জ্বালানির দাম বৃদ্ধিতে আরও দামি বিমান সফর, পরিষেবা বন্ধ করবে একাধিক সংস্থা?

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ