এই মুহূর্তে

রাজৌরিতে অনুপ্রবেশের ছক বানচাল, সন্দেহভাজনদের লক্ষ্য করে গুলি সেনার

নিজস্ব প্রতিনিধি: বুধবার ভোরে জম্মু ও কাশ্মীরের রাজৌরি জেলায় নিয়ন্ত্রণ রেখা (LOC) সংলগ্ন এলাকায় সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করে ভারতীয় সেনা জওয়ানরা গুলি চালায়। সূত্রের খবর, ভোর প্রায় ৪টা ৩০ মিনিট নাগাদ সীমান্তে টহলরত সেনারা কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে কাঁটাতারের বেড়া টপকে ঢোকার চেষ্টা করতে দেখতে পান। সঙ্গে সঙ্গে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সন্দেহভাজন দিক লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। সেনাবাহিনীর দাবি, এই পদক্ষেপের ফলে সম্ভাব্য অনুপ্রবেশের চেষ্টা নস্যাৎ হয়েছে। ঘটনার পরপরই এলাকায় অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং গোটা অঞ্চল জুড়ে তল্লাশি অভিযান জোরদার করা হয়েছে।

গত ১৯ ফেব্রুয়ারি জম্মু ও কাশ্মীরের রাজৌরি জেলার সুন্দরবানি সেক্টরে নিয়ন্ত্রণ রেখা (LOC) বরাবর এক অনুপ্রবেশের চেষ্টা নস্যাৎ করে ভারতীয় সেনাবাহিনী। সেনার তরফে জানানো হয়, সন্দেহভাজন সন্ত্রাসীদের গতিবিধি ধরা পড়তেই হোয়াইট নাইট কর্পসের সতর্ক জওয়ানরা দ্রুত ও নিয়ন্ত্রিত ফায়ারিং করে পরিস্থিতি সামাল দেন এবং অনুপ্রবেশের প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেন।

আরও পড়ুন: আফগানিস্তান সহ ৪ দেশের শিক্ষার্থীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা চাপাল ব্রিটেন

জম্মু ও কাশ্মীরে মোট প্রায় ৭৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ নিয়ন্ত্রণ রেখা রয়েছে। এর একটি বড় অংশ কাশ্মীর উপত্যকার বারামুল্লা, কুপওয়ারা ও বান্দিপোরা জেলায় অবস্থিত। পাশাপাশি পুঞ্চ ও রাজৌরি জেলা এবং জম্মু বিভাগের জম্মু জেলার কিছু অংশেও এলওসি বিস্তৃত। এছাড়া জম্মু বিভাগের জম্মু, সাম্বা ও কাঠুয়া জেলায় প্রায় ২৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে। নিয়ন্ত্রণ রেখার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকে ভারতীয় সেনাবাহিনী, আর আন্তর্জাতিক সীমান্তে মোতায়েন থাকে সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনী (বিএসএফ)।

সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ, চোরাচালান এবং বহিষ্কার ঠেকাতে সেনা ও বিএসএফ যৌথভাবে নজরদারি চালায়। বিশেষ করে পাকিস্তান সীমান্তঘেঁষা এলাকা থেকে ড্রোনের মাধ্যমে অস্ত্র, গোলাবারুদ, নগদ অর্থ ও মাদক পাচারের ঘটনা রুখতে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অতীতে সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলি পাকিস্তানি বাহিনীর সহায়তায় ড্রোন ব্যবহার করে এইসব সামগ্রী উপত্যকায় পৌঁছে দিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে, যার উদ্দেশ্য বলে অভিযোগ ছিল কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ জিইয়ে রাখা।

এদিকে, জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থা সন্ত্রাসবাদ দমনে ধারাবাহিক ও কড়া অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। শুধু সশস্ত্র জঙ্গিদের বিরুদ্ধেই নয়, তাদের আন্ডারগ্রাউন্ড ওয়ার্কার (ওজিডব্লিউ) এবং সমর্থকদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। লক্ষ্য একটাই-সন্ত্রাসবাদের গোটা পরিকাঠামো ভেঙে ফেলা। মাদক পাচারচক্র, ড্রাগ ব্যবসায়ী এবং হাওলা লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাও নিরাপত্তা বাহিনীর নজরদারিতে রয়েছেন। তদন্তকারীদের মতে, এই বেআইনি অর্থের বড় অংশ শেষ পর্যন্ত সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়, যা রাজ্যের নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।

Published by:

Ei Muhurte

Share Link:

More Releted News:

বাংলার ১৫০ আসনের প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত পদ্ম শিবিরের, বাদ পড়ছেন ১০-১৫ বিধায়ক!

গ্যাস সঙ্কটে রাস্তার খাবারের দামে বড় ধাক্কা, ১০ টাকার চা একলাফে ২০ টাকা

মোবাইলের ‘মাসিক’ রিচার্জ ২৮ দিন কেন? প্রশ্ন তুলেন রাঘব চাড্ডা

অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচার পর প্রথম প্রতিক্রিয়া দিলেন ফারুক আব্দুল্লাহ, যা বললেন তিনি…

কেরলের বাসভবন থেকে উদ্ধার জনপ্রিয় অভিনেতার পচাগলা দেহ

যুদ্ধের আবহেও আকাশছোঁয়া হবে না পেট্রোল-ডিজেলের দাম

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ