পতিত হয়েছিল সতীর কানের দুল, জানুন বিশালাক্ষী শক্তিপীঠের অজানা মাহাত্ম্য

Share:

পৃথ্বীজিৎ চট্টোপাধ্যায় :        ধ্যায়েদ্দেবীং বিশালাক্ষীং তপ্তজাম্বুনদপ্রভাম্।

দ্বিভুজামম্বিকাং চণ্ডীং খড়গখেটকধারিণীম্।।

পূণ্যতীর্থ ভারতের প্রাচীনতম হিন্দু তীর্থস্থলগুলির মধ্যে বিশালক্ষী শক্তিপীঠ একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম। এটি ভারতের উত্তর প্রদেশের বারাণসী শহরের গঙ্গার তীরে মীর ঘাটের নিকট অবস্থিত। এই পবিত্র স্থানটি হিন্দুধর্মাবলম্বীদের কাছে বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ, কারণ এটি ৫১টি শক্তিপীঠের একটি। কথিত রয়েছে, কাশীর এই সুপ্রাচীন মন্দিরে সতীর কানের দুল পতিত হয়েছিল, এবং এখানে দেবী পার্বতী “বিশালক্ষী” রূপে পূজিত হন। এই “বিশালাক্ষী” শব্দটির অর্থ “বিস্তৃত বা বিশাল চোখবিশিষ্টা” বা “যার দৃষ্টি সর্বত্র পৌঁছায়”।

দেবীর রূপ ও তাৎপর্য

বিশালাক্ষী হলেন দেবী পার্বতীর এক তান্ত্রিক রূপ। তাঁকে দৃষ্টি, জ্ঞান, অন্তর্দৃষ্টি ও করুণার প্রতীক হিসেবে উপাসনা করা হয়। বিশ্বাস করা হয়, দেবীর করুণাময় দৃষ্টি যে কারও অন্তরের গভীর আকাঙ্ক্ষা বুঝে নিতে পারে এবং সত্যিকার ভক্তি সহকারে আরাধনা করলে তিনি সেই ইচ্ছাপূরণ করেন। বিশেষ করে নারী ভক্তদের কাছে দেবী বিশালক্ষী আশীর্বাদদাত্রী হিসেবে পরিচিত। গৃহস্থ জীবন, পারিবারিক মঙ্গল, সন্তান কামনা এবং জীবনের বিভিন্ন অভিপ্রায় পূরণের জন্য এই মন্দিরে নারীরা নিয়মিত পূজা করে থাকেন।

পৌরাণিক প্রেক্ষাপট

এই মন্দিরটি সতী-শিবের কিংবদন্তির সঙ্গে যুক্ত। দেবী সতী স্বামী মহাদেবের অপমান সহ্য করতে না পেরে নিজেকে দক্ষযজ্ঞাগ্নিতে আহুতি দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে শোকগ্রস্ত শিব ভীষণ ক্রুদ্ধ হয়ে সতীর দেহ কাঁধে নিয়ে প্রলয় নৃত্য শুরু করেন। বিশ্ব ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে বিষ্ণু সুদর্শন চক্রের দ্বারা সতীর দেহ খণ্ড-বিখণ্ড করেন। এই দেহাংশগুলি বিভিন্ন স্থানে পতিত হয় এবং সেই স্থানগুলো শক্তিপীঠ নামে পরিচিতি পায়। বিশ্বাস করা হয়, সতীর কানের দুল বারাণসীর এই স্থানে পতিত হয়েছিল। ফলে এখানে দেবীর শক্তি বিশেষভাবে প্রকাশিত হয় ‘দৃষ্টি’র প্রতীকে—যা “বিশালাক্ষী” নামের মাধ্যমে ফুটে ওঠে।

কৌশল্যার উপাখ্যান

জনশ্রুতি অনুসারে, এক ধার্মিক ভক্তা কৌশল্যা গঙ্গার তীরে ধ্যানমগ্ন অবস্থায় দেবী পার্বতীর ঐশ্বরিক রূপ দর্শন পান। দেবীর চোখ ছিল অতল, করুণাময় ও শক্তিতে পরিপূর্ণ। দেবীর অনুরোধে কৌশল্যা এই স্থানে একটি মন্দির নির্মাণের নির্দেশ দেন, যেখানে ভবিষ্যতে বহু ভক্ত দেবীর দর্শন ও আশীর্বাদ লাভ করবেন। সেই থেকেই এখানে দেবী বিশালক্ষী পূজিত হয়ে আসছেন।

শক্তিপীঠ ও তীর্থগমন

এই মন্দিরটি শুধু একটি শক্তিপীঠ নয়, এটি কাশী শহরের এক অপরিহার্য তীর্থস্থল। তীর্থযাত্রীরা কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরে যাওয়ার সময় প্রায়ই বিশালক্ষী মন্দিরেও যান। দুটি মন্দিরের মধ্যে দূরত্ব মাত্র ২৫০ মিটার, এবং দুই মন্দির মিলিয়ে শিব-শক্তির তাত্ত্বিক পূর্ণতা ঘটে। বিশ্বাস অনুযায়ী, কাশীতে মৃত্যুবরণ মুক্তির পথ, এবং বিশালক্ষী দেবীর আশীর্বাদ আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে মৃত্যুর আগে ও পরে আত্মার কল্যাণ সাধনে সাহায্য করে।

মন্দিরের স্থাপত্য ও দর্শনীয়তা

মন্দিরটি উত্তর ভারতের নাগর শৈলীর ভিত্তিতে নির্মিত। এর গঠন কাঠামোতে রয়েছে জটিল খোদাই, সুসজ্জিত স্তম্ভ এবং এক সুউচ্চ শৃঙ্গ। মন্দিরের স্থাপত্য ঐতিহ্য ও ধর্মীয় মর্যাদাকে একত্রে ধারণ করে।

এছাড়া, মন্দিরের প্রবেশপথ ও অভ্যন্তর সাজানো হয়েছে শৈব ও শাক্ত ঐতিহ্যের বহু চিহ্ন দিয়ে। গঙ্গার পবিত্র স্রোত থেকে খুব কাছেই মন্দির অবস্থিত হওয়ায় মন্দির দর্শনের পূর্বে বহু ভক্ত গঙ্গাস্নান করেন।

উৎসব ও পূজা-পদ্ধতি

বিশালক্ষী মন্দিরে নিয়মিত পূজা-অর্চনার পাশাপাশি বিভিন্ন উৎসব অত্যন্ত আড়ম্বরের সঙ্গে পালিত হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য:

  • কাজলী তিজ: ভাদ্রপদ মাসের কৃষ্ণপক্ষের তৃতীয়া তিথিতে অনুষ্ঠিত হয়। এই উৎসব নারীদের পরিবার ও স্বামীর দীর্ঘায়ুর জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
  • নবরাত্রি: দেবী দুর্গার নবরূপের আরাধনার সময়, বিশালক্ষী দেবীকেও তান্ত্রিক মতে আরাধনা করা হয়।
  • মহা শিবরাত্রি ও দীপাবলি: এই উৎসবগুলোতেও মন্দিরে বিপুল সংখ্যক ভক্তসমাগম হয়।

দেবী ও নারীত্ব

দেবী বিশালক্ষী শুধুমাত্র এক তান্ত্রিক শক্তির রূপ নন, তিনি নারীর সমতা, আত্মবিশ্বাস ও শক্তির প্রতীক। এই মন্দিরে বহু নারী তাদের ব্যক্তিগত সংকল্প, আত্মোন্নতি, ও আত্মবিশ্বাসের জন্য দেবীর কাছে প্রার্থনা করেন। তাঁর “বিশাল দৃষ্টি” ভক্তকে অশুভতা থেকে রক্ষা করে, এবং আত্মিক আলোর দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়।

মন্দিরে পৌঁছানোর উপায় ও সময়সূচি

পূজার সময়: প্রতিদিন সকাল ৪:৩০ থেকে ১১:০০ এবং বিকেল ৫:০০ থেকে রাত ১০:০০ পর্যন্ত।

কিভাবে যাবেন: বারাণসীর যে কোনও স্থান থেকে সহজেই অটো, রিকশা বা গাড়ি ধরে মন্দিরে পৌঁছনো যায়। তা ছাড়া কাশী বিশ্বনাথ মন্দির থেকে হেঁটেও যাওয়া যায়।

নিঃসন্দেহে বলা যেতে পারে, বিশালক্ষী শক্তিপীঠ হল ভক্তি, বিশ্বাস ও ঐশ্বরিক করুণার এক উজ্জ্বল আলয়। এটি শুধু একটি ধর্মীয় স্থান নয়, বরং নারীত্বের শক্তি, জ্ঞান এবং অন্তর্দৃষ্টির প্রতীক। দেবী বিশালক্ষীর দৃষ্টি যতটা করুণাময়, ততটাই শক্তিশালী। বারাণসীর হৃদয়ে অবস্থিত এই মন্দির যুগ যুগ ধরে ভক্তদের আস্থা ও আশীর্বাদের এক চিরন্তন কেন্দ্রস্থল হয়ে রয়ে গেছে।

আলফানসো না কেশর? গরমের সেরা ম্যাঙ্গো রেসিপির জন্য কোন আম বেছে নেবেন?

স্যান্ডো গেঞ্জি পরিয়ে ও কোমরে দড়ি বেঁধে তণমূল নেতা বনিকে রাস্তায় হাঁটাল পুলিশ

মাঝগঙ্গায় কৃষকদের ডিঙি উল্টে মৃত ২, নিখোঁজ ৫

গরমে শরীর রাখুন ঠান্ডা, চিনি ছাড়াই বানিয়ে ফেলুন তরমুজ পুদিনার স্বাস্থ্যকর জুস

লক্ষ্মীবারেই খুলে গেল ‘‌অন্নপূর্ণা যোজনার’‌ পোর্টাল, প্রতিশ্রুতি পূরণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী

গরমে পেট ঠান্ডা রাখতে ও হজম সমস্যা থেকে বাঁচতে বানিয়ে নিন দই লাউ

ট্যাংরায় তৃণমূলের কার্যালয় থেকে উদ্ধার রাশি রাশি ভোটার ও আধার কার্ড

তোলাবাজি, মারধর-সহ একাধিক অভিযোগ, পুলিশের জালে ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গির ঘনিষ্ঠ ইসরাফিল

মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরে প্রথমবার মায়াপুরে শুভেন্দু, গোশালায় দিলেন বিশেষ পুজো

কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা, জারি হল ‘কমলা’ সতর্কতা

হায়দরাবাদকে দুরমুশ করে গুজরাতের মুখোমুখি রাজস্থান

স্বাদে ও গন্ধে  দুর্দান্ত! ঘরেই বানান রেস্তরাঁ স্টাইল মশলাদার ফিশ কারি

সুইমিংপুলে নামতেই মর্মান্তিক পরিণতি স্কুল ছাত্রের, ব্যাপক চাঞ্চল্য আসানসোলে

২৯ বলে ৯৭ রান করে সমাজমাধ্যমে ৩ শব্দের বিশেষ বার্তা বৈভবের, কি লিখলেন?