এই মুহূর্তে

অ্যাম্বুলেন্স না থাকায় স্ত্রীকে ঠ্যালা গাড়িতে তুলে ছুটলেন বৃদ্ধ স্বামী, ডবল ইঞ্জিন রাজ্যে কী ঘটল?‌

নিজস্ব প্রতিনিধি: নির্মম এবং নিষ্ঠুর ঘটনা ঘটল ডবল ইঞ্জিন রাজ্যে। আর একজন গরিব মানুষকে কতটা অভাবের যন্ত্রণা সহ্য করতে হয় সেটা যেন চোখে আঙুল গিয়ে দেখিয়ে দিল ঘটনাটি। গরিব হওয়া কি পাপের?‌ এমনই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কারণ ঠ্যালা গাড়ি দিয়ে সবজি বহন করা হয়। সেটা মৃত ব্যক্তির জন্য ব্যবহারযোগ্য নয়। কিন্তু শনিবার ডবল ইঞ্জিন রাজ্য মধ্যপ্রদেশের সাগরে দেখা গেল, একজন বয়স্ক ব্যক্তি তাঁর পরিবারের জন্য খাবার জোগাড় করতে প্রত্যেকদিন যে গাড়িটি ব্যবহার করেন এবার সেই একই গাড়িটি তাঁর একমাত্র ‘‌অ্যাম্বুলেন্স’‌ হয়ে উঠল।

এদিকে পবন সাহু নামের ওই ব্যক্তির কোনও শিক্ষাগত জ্ঞান নেই। ওই ব্যক্তি সিস্টেম জানে না, কাকে ফোন করতে হবে এবং কীভাবে সাহায্যের ব্যবস্থা করতে হবে তাও জানে না। আর তার জন্যই মানুষের দুয়ারে সাহায্য চেয়ে ঘুরলেও কেউ এগিয়ে এল না। যখন পবন সাহুর স্ত্রীর শারীরিক অবস্থা হঠাৎ খারাপ হয়ে গেল, তখন তিনি সেই কাজটিই করলেন যা দরিদ্র হলে করতে হয়। তিনি ঘরে ঘরে গিয়েছিলেন, হাতজোড় করেছিলেন এবং প্রতিবেশীদের কাছে অ্যাম্বুলেন্স ডাকতে সাহায্য চেয়েছিলেন। কিন্তু কেউ একটা ফোন করে সাহায্য করেনি। এমনকী সরকারি সাহায্যে অ্যাম্বুলেন্স পেতে কোনও প্রচার না থাকায় সেটিও জোগাড় করতে পারেননি বলে অভিযোগ। যা নির্মমতার চরম উদাহরণ।

অন্যদিকে যখন কারও সাহায্য পেলেন না তখন নিজেকে পরাজিত মনে করেও শেষ চেষ্টা করলেন। তিনি তাঁর অসুস্থ স্ত্রীকে তুলে নিয়ে সেই ঠ্যালা গাড়িতে শুইয়ে দিলেন। যেখানে তিনি সাধারণত আলু, টমেটো এবং মরশুমি শাকসবজি নিয়ে ঘুরে বিক্রি করে থাকেন। এমন পরিস্থিতিতে পড়ে পবন সাহু উন্মত্ত, নিঃশ্বাসহীন হয়ে ওঠেন। তাই খালি হাতেই সময়ের সঙ্গে লড়াই করে হাসপাতালের দিকে গাড়িটি টেনে আনতে শুরু করলেন। কিন্তু মাতা মাধিয়া এলাকার কাছে পথেই তাঁর স্ত্রী শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন। তখন রাস্তায় যা পড়ে ছিল সেটা শুধুই একটি গাড়ির উপর একটি মৃতদেহ ছিল না। এটি ছিল এমন একটি সমাজের দারিদ্র্যের নির্মম প্রতিচ্ছবি যা শিউরে তোলার জন্য যথেষ্ট। এমন একটি ব্যবস্থা যা প্রায়শই অনেক দেরি হয়ে যাওয়ার পরেই আসে।

এছাড়া পবন সাহু মূলত উত্তরপ্রদেশের ললিতপুর জেলার সেসাই গ্রামের বাসিন্দা। তিনি গত ১২ বছর ধরে সাগরে বসবাস করছেন। তিনি ঠ্যালা গাড়ি দিয়ে সবজি বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। পবনের স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। পরিবারের সঞ্চয় যা কিছু ছিল তা ইতিমধ্যেই চিকিৎসার জন্য খরচ হয়ে গিয়েছিল। শনিবার যখন স্ত্রীর অবস্থার অবনতি ঘটে, তখন পরিবারের কাছে ব্যক্তিগত গাড়ির জন্য অর্থও ছিল না। সময়মতো জরুরি সাহায্য পাওয়ার জ্ঞানও ছিল না। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, তাঁর স্ত্রী মারা যাওয়ার মুহূর্তে বৃদ্ধ লোকটি রাস্তার ধারে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েন। এই দৃশ্যটি দেখে অনেকেরই চোখে জল চলে আসে। এতকিছুর পর সাগরের সিএমএইচও মমতা তিমোরি বলেন, ‘‌বিষয়টি তাঁর নজরে এসেছে। কেন দম্পতি অ্যাম্বুলেন্স পেলেন না তার তদন্ত চলছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সম্ভাব্য সকল সহায়তা প্রদান করা হবে।’‌

Published by:

Ei Muhurte

Share Link:

More Releted News:

কাঁধে বাঁক নিয়ে ১৭০ কিমি হেঁটে শিবলিঙ্গে জল ঢাললেন মুসলিম তরুণী

ইজরায়েলি পর্যটককে গণধর্ষণের পরে খুনের দায়ে তিন পাষণ্ডকে ফাঁসির সাজা শোনাল আদালত

সলমন খানের কৃষ্ণসার হরিণ মামলার শুনানি থেকে সরে দাঁড়ালেন বিচারপতি

‘আমরা বড্ড সেকেলের…’, বিয়ের আগে শারীরিক সম্পর্কে জড়ানো নিয়ে পর্যবেক্ষণ বিচারপতির

অন্তঃসত্ত্বা মায়ের ফোটোশ্যুটের সময় জলাশয়ে পড়ে মৃত্যু ৩ বছরের সন্তানের

১.৫০ কোটি টাকা জমা দিয়ে ১১ দিন পর অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পেলেন রাজপাল যাদব

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ