আমরা আসছি
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

দক্ষিণ কাশ্মীরে ঘাঁপটি মেরে বসে রয়েছে পহেলগাঁওয়ের সন্ত্রাসীরা, পাচ্ছে সব রকমের রসদ

নিজস্ব প্রতিনিধি, পহেলগাঁও: ভূস্বর্গ আকস্মিকভাবেই বেশ কয়েক বছর পর আতঙ্ক, ক্রোধের নামান্তর হয়ে উঠেছে। গত ২২ এপ্রিল পাহেলগাঁওয়ের বৈসরণের সবুজ তৃণভূমি ভিজেছে ২৫ জন নিরীহ পর্যটক ও এক প্রতিবাদী সাহসী কাশ্মীরীর রক্তে। পর্যটকদের উপর পাঁচ সন্ত্রাসীর কাপুরুষোচিত আক্রমণ নাড়িয়ে দিয়েছে গোটা বিশ্বকে। এই নক্কারজনক হামলার তদন্তভার নিয়েছে জাতীয় তদন্ত সংস্থা। একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, ২২ এপ্রিল দক্ষিণ কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে ঘটানো ওই সন্ত্রাসীরা এখনও পর্যন্ত সম্ভবত ওই এলাকাতেই রয়েছে। তাদের কাছে রয়েছে পূর্ণমাত্রায় রসদ।

এনআইএ সূত্র জানিয়েছে যে সন্ত্রাসীরা স্বাবলম্বী। সম্ভবত তারা নিজেদের রসদ নিজেরাই বহন করছিল। তাই ঘন জঙ্গলে লুকিয়ে থাকাও তাদের পক্ষে সম্ভব। সেই জন্যই এতদিন ধরে এনআইএ’র শনাক্তকরণ এড়িয়ে যেতে পেরেছে তারা। নিজেদের সঙ্গে রসদ থাকার কারণে বাইরে থেকে সন্ত্রাসীদের রসদ সংগ্রহের প্রয়োজনও নেই। সম্ভবত সেই জন্যই পাকিস্তান যাবতীয় দোষারোপ অস্বীকার করছে। এই মুহূর্তে এএনআই যাদের আটক ও গ্রেফতার করেছে তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা গিয়েছে যে সন্ত্রাসীরা বৈসরণ উপত্যকায় উপস্থিত ছিল কমপক্ষে ৪৮ ঘন্টা আগে থেকে।

হামলার পর ওভার গ্রাউন্ড ওয়ার্কার্সদের (যারা সন্ত্রাসীদের প্রতি সহানুভূতিশীল) জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা জানায় সন্ত্রাসীরা আরু ভ্যালি, বেতাব ভ্যালি, স্থানীয় একটি পার্ক বৈসরণকে হামলা করার জন্য বেছেছিল। কিন্তু বৈসরণ ছাড়া অন্যান্যগুলিতে নিরাপত্তা বেষ্টনী প্রবল, তাই শেষ পর্যন্ত বৈসরণকেই বেছে নেওয়া হয়। গোয়েন্দা সংস্থাগুলির বিশ্বাস সন্ত্রাসীদের কাছে উন্নতমানে যোগাযোগ সরঞ্জাম ছিল। সেগুলি এতটাই উন্নত যে তাতে সিম কার্ড ব্যবহারের প্রয়োজন ছিল না। স্বল্প-দৈর্ঘ্যের এনক্রিপ্টেড ট্রান্সমিশন ছিল। সন্ত্রাসীরা তিনটি স্যাটেলাইট ফোন ব্যবহার করেছিল সম্ভবত দুপুর ১.১৫ তে শুরু হওয়া হামলার আগ পর্যন্ত তাদের অবস্থান গোপন রাখতে।

হামলার পরিকল্পনা ছিল খুব সহজ ছিল। তিনজন সন্ত্রাসী বৈসরণের আশপাশের গোপন স্থান থেকে বেরিয়ে এসে পর্যটকদের উপর গুলি চালায়। চতুর্থজন চারদিকে নজর রাখছিল।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন যে সন্ত্রাসীরা সকল পুরুষদের কলমা (ইসলামিক আয়াত) পড়তে বলেছিল। যারা পেরেছিলেন তাঁরা বেঁচে যান, যারা ব্যর্থ হন তাদের খুব কাছ থেকে মাথায় গুলি করা হয়।

এই হামলার পর ভারতের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া ছিল কূটনৈতিক বিধিনিষেধের ঝড়। যার মধ্যে রয়েছে দেশ থেকে পাকিস্তানি নাগরিকদের বহিষ্কার, সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত, পাকিস্তানি কূটনীতিকদের অবাঞ্ছিত ঘোষণা। প্রসঙ্গত, ইন্দাস ওয়াটার ট্রিটি বা সিন্ধু জল চুক্তি একটি গুরুত্বপূর্ণ জল-বণ্টন চুক্তি যা পাকিস্তানকে ৮০ শতাংশেরও বেশি জল সরবরাহ করে। সেই জলেই কৃষিনির্ভর পাকিস্তান বেঁচে থাকে।

ভারতের পদক্ষেপ করার পরেই পাকিস্তানও ভারতীয়দের বহিষ্কার করে এবং সিমলা চুক্তি স্থগিত করে প্রতিক্রিয়া জানায়। দুই দেশ একে অপরের বিমানের জন্য নিজেদের আকাশসীমাও বন্ধ করে দিয়েছে।

বুধবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল এবং প্রতিরক্ষা প্রধান জেনারেল অনিল চৌহানের সঙ্গে একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে ভারতের তিন বাহিনীকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করার জন্য পূর্ণ স্বাধীনতা দেন।

এদিকে, পাকিস্তান যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন অব্যাহত রেখেছে। বুধবার রাতেও পাক সেনাবাহিনী কুপওয়ারা, উরি এবং আখনুর সেক্টরে বিনা প্ররোচনায় গুলি চালিয়েছে। ভারতও তার জবাব দিয়েছে। এই নিয়ে পাকিস্তানের টানা সপ্তম রাতে গুলিবর্ষণের ঘটনা।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

সমুদ্রে ডাইভ করার সময় খেলেন কচ্ছপের ‘থাপ্পড়’! ভাইরাল ভিডিও দেখে হেসে লুটোপুটি নেটনাগরিকরা

দামি গাড়ি, মুম্বইতে 3BHK-5BHK ফ্ল্যাট, মডেলদের এই বিলাসিতার আসল রহস্য জানেন?

ই–ফার্মেসির প্রতিবাদে ভারত বনধের ডাক, ১২ লক্ষাধিক ওষুধের দোকান বন্ধের সম্ভাবনা

একসময় ছিলেন NDA-র শিক্ষক, এখন মন্দিরে দিনযাপন! সময় বদলের নির্মম গল্প ভাইরাল

ডিগবাজি খেয়ে গিয়েছিলেন বিজেপিতে, এবার গ্রেফতারির মুখে রাজ্যসভার সাংসদ

নিজেদের সার্কুলার মেনে চলুন, গণনায় সরকারি কর্মচারী নিয়োগ নিয়ে কমিশনকে নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ