এই মুহূর্তে

ঢাকার গোপীবাগের রামকৃষ্ণ মিশনে নির্বিঘ্নে সম্পন্ন কুমারী পুজো

নিজস্ব প্রতিনিধি : দুর্গাপুজোর আজ হল মহাঅষ্টমী। দিকে দিকে মাতৃ আরাধনায় ব্যস্ত ভক্তরা। এই অষ্টমী তিথিতে পুজিতা হয় ছোট্ট কুমারী। শুক্রবার (১১ অক্টোবর) গোপীবাগের রামকৃষ্ণ মঠে সকাল ১০.৩০ অনুষ্ঠিত হয়েছে কুমারী পুজো। কুমারী পুজোকে কেন্দ্র করে প্রস্তুতি শুরু করেছিল ঢাকার গোপীবাগের রামকৃষ্ণ মঠ। এই পুজোকে কেন্দ্র করে সকাল থেকে ব্যস্ততা দেখা গিয়েছিল রামকৃষ্ণ মঠে। এই মঠে প্রাঙ্গণে বহু ভক্তদের সমাগম হয়েছিল।

আজ গোপীবাগের রামকৃষ্ণ মঠে কুমারী পুজোর আগে সকাল ৬টা ১০ মিনিটে মহাঅষ্টমী পূজা শুরু হয়। সকাল ১০টায় হয় পুষ্পাঞ্জলি। শাস্ত্র অনুযায়ী,অগ্নি, জল, বস্ত্র, পুষ্প ও বাতাস এই পাঁচ উপকরণ প্রয়োজন হয় ‘কুমারী’ পুজোয়। এই পুজো চলে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে। পুজোর অর্ঘ্য দেওয়ার পর দেবীর গলায় পরানো হয় পুষ্পমাল্য। এরপরই হয় দেবী মায়ের চরণে পুষ্পাঞ্জলি। সবশেষে শুরু হয় প্রসাদ বিতরণ।

কুমারী পুজোর সময় পুরোহিতের মন্ত্রপাঠ শুরু করে। এর মাঝে মাঝেই বাজানো হয় ঢাক-ঢোলের বাদ্য, কাঁসর-ঘণ্টা ও শঙ্খ। এই সময় উপস্থিত সকলে উলুধ্বনি দেয়। একসঙ্গে সকলে বলে ওঠে ‘জয় কুমারী দেবী ও দুর্গা দেবীর জয়।’

কুমারী পুজোর কার্যক্রম শেষে কুমারী মায়ের নাম ঘোষণা করেন রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠের অধ্যক্ষ স্বামী পূ্র্ণাত্মানন্দ মহারাজ। তিনি জানান, এই বছর কুমারী মা হয়েছেন সংহিতা ভট্টাচার্য। তাঁর বয়স ৮ বছর, জন্ম ২০১৭ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর।

শাস্ত্রমতে এইদিন তাঁর নামকরণ করা হয় ‘কুবজিকা’। সংহিতার বাবার নাম হল সঞ্জয় ভট্টাচার্য, মা অর্পিতা ভট্টাচার্য। কক্সবাজারের রামুর একটি স্কুলের কেজি শ্রেণির শিক্ষার্থী সংহিতা। তাঁদের বাড়ি হল ঢাকার রামপুরার বনশ্রী এলাকায়।

স্বামী পূ্র্ণাত্মানন্দ আরও জানিয়েছেন,‘আমরা নিরাপত্তার বেড়াজালে পুজো করিনি। স্বতঃস্ফূর্তভাবে পূজা করেছি। তবে আমরা কোনো নিরাপত্তার অভাব অনুভব করিনি। এই পুজো দেখতে দেখতে হাজার হাজার মানুষ এসে উপস্থিত হয়েছে। কোন বিশৃঙ্খলা ছাড়াই এই পুজো সম্পন্ন হয়েছে।’

উল্লেখ্য, ১৯০১ সালে স্বামী বিবেকানন্দ কলকাতার বেলুড় মঠে কুমারী পুজোর ঐতিহ্য সূচনা করেছিলেন। সেবার দুর্গাপুজোর সময় স্বামী বিবেকানন্দ ৯ জন কুমারীকে পুজো করেছিলেন। তখন থেকে প্রতিবছর দুর্গাপুজোর অষ্টমী তিথিতে এই পুজো চলে আসছে।

তবে কুমারী পুজোর নিয়ম হল, পূজার আগে পর্যন্ত কুমারীর নাম ও পরিচয় গোপন রাখা হয়। এই পুজোয় যে কুমারীকে নির্বাচিত করা হয়, পরবর্তী সময়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন আচার-অনুষ্ঠান করতে পারে। কুমারীপুজোর আগে সাধক কুমারীকে নতুন বস্ত্র, ফুলের মালা ও মুকুটে সাজান। পায়ে আলতা, কপালে সিঁদুর ও তিলক সৌন্দর্যে রাঙিয়ে তোলেন।

Published by:

Ei Muhurte

Share Link:

More Releted News:

ভারতীয়রা চুলোয় যাক, বাংলাদেশকে বাঁচাতে ৫০০০ টন ডিজেল পাঠাচ্ছে মোদি সরকার

‘পাক এজেন্টকে বিদেশ মন্ত্রকে চাকরি দিতে হবে’, আবদার জামায়াতের আমির

বিরাট চক্রের পর্দা ফাঁস! উদ্ধার ৪৭টি মাথার খুলি-হাড়গোড়, গ্রেফতার ডেন্টালের শিক্ষার্থীসহ ৪

শ্রীলঙ্কার দশা বাংলাদেশের, লুট রুখতে তেল ডিপো পাহারায় মোতায়েন সেনাবাহিনী

বাংলাদেশে চরম তেল সঙ্কট, চিনের কাছে জ্বালানি ‘ভিক্ষা’ চাইল তারেকের সরকার

ঢাকার চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ অপু বিশ্বাসের, কী বললেন?

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ