সমাজের কথা উপেক্ষা করে স্বামীর স্বপ্নপূরণে প্রতিমা গড়ছেন সান্ত্বনা

Share:

নিজস্ব প্রতিনিধি: স্বামী না থাকলে সমাজ মেয়েদের অনেককিছু থেকেই আটকায়। আমারা বর্তমানে একবিংশ শতাব্দী বাস করলেও বিধবাদের জন্য বহু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। তবে সেই সবকিছু উপেক্ষা করে স্বামীর ইচ্ছাপূরণ করছেন সান্ত্বনা সূত্রধর। গড়েন মায়ের মূর্তি। যাবতীয় বাধা-বিপত্তিকে দূরে সরিয়ে মন দিয়ে প্রতিমা গড়ে চলেছেন সান্ত্বনা । সমাজ কি বলবে তা নিয়ে একেবারেই ভাবেন না, নিজের কাজে ডুবে যান বলে জানান শান্তুনা। এমনকি অনেকে অমঙ্গলের ভয় দেখিয়েছিলেন বলেও জানান তিনি।

নানুরের চারকল গ্রামে থাকেন সান্ত্বনা সূত্রধর। তাঁর স্বামী গিরিধারী সূত্রধর ছিলেন প্রতিমা শিল্পী। প্রতিমা গড়েই চলত তাঁদের সংসার। গিরিধারী যখন নানা রকমের প্রতিমা তৈরি করতেন তখন সান্তনা সাহায্য করতেন স্বামীকে। সেখান থেকেই এই কাজে হাতেখড়ি বলে জানিয়েছেন শান্তনা। তবে এই মাটির মূর্তি গড়ার কাজই যে অসময়ের সঙ্গী হবে তা ভুলেও ভাবেননি বছর ৪৫-এর সান্ত্বনা সূত্রধর। স্বামী চলে যাওয়ার পর প্রতিমা গড়ার কারিগরের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন। ধরেছেন সংসারের হাল। এই মৃৎশিল্পী হওয়ার পিছনে রয়েছে বহু কাহিনী। এক পুজোয় গিরিধারী শিকার হন নিউমোনিয়া। তখন তাঁর হাতে ছিল বহু কাজ। চারটি অর্থনির্মিত প্রতিমা পড়ে সময়ে মূর্তি দেওয়ার জন্য ঘন ঘন চাপ দিচ্ছেন পুজো কমিটির কর্তারা। তখন মাথায় হাত পরে সান্ত্বনার। মাথায় তখন স্বামীর চিকিৎসার জন্য টাকা জোগাড় আবার মূর্তি শেষ করার চাপ। উপায় না দেখে দুই সন্তানকে নিয়ে সান্ত্বনা নিজেই হাজির হন মণ্ডপে। শুরু করেন প্রতিমা নির্মাণের কাজ। সেই থেকেই শুরু। একা হাতেই তিনি গড়ে ফেলেন সব অসমাপ্ত প্রতিমা। তাঁর স্বামী শুধু চক্ষুদান করে দেন।

হলকর্ষণ এবং প্রতিমার চক্ষুদান নাকি করতে নেই মহিলাদের। তবে ২০০৪ সালে গিরিধারীর মৃত্যু পর সেই প্রথাকে ভেঙে দেন। শুরু হয় দুই নাবালক সন্তান দোলগোবিন্দ এবং অষ্টমকে নিয়ে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াই। সামাজিক বাধা উপেক্ষা করে স্বামীর পেশাকেই বেঁচে থাকার হাতিয়ার করে তোলেন সান্ত্বনা। টাকার অভাবে সন্তানরা পড়াশোনা করতে না পারাই তিনি নিজে হাতে শিখিয়েছেন মূর্তি গড়ার কাজ। দোলগোবিন্দ এবং অষ্টম মাটি লেপা থেকে চক্ষুদানের কাজ শিখেছে মায়ের কাছ থেকেই। এখনও পর্যন্ত সাতটি প্রতিমা গড়েছেন সান্ত্বনা। তাঁদের পাশেই থাকা মৃৎশিল্পীরা শান্তনার এই লড়াইকে কুর্নিশ জানিয়েছে। এই এগিয়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে শান্তনা বলেছেন,”উনিই রোগশয্যায় শুয়ে আমাকে প্রতিমা গড়ার কথাই বলেছিলেন। তাঁর কথা উপেক্ষা করি কী করে।” স্বামীর ইচ্ছাকে মর্যাদা দিয়েছেন বলে জানান সান্ত্বনা।

‘ভারতের মতোই শত্রু’,পাক অধিকৃত আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে তোপ পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর

জল্পনার অবসান, কলকাতা নাইট রাইডার্সে যোগ দিলেন পদত্যাগী ভারতীয় দলের সহকারী কোচ

অচেনা নম্বর থেকে ফোন, তারপরই মহিলাদের মাথার চুল উধাও! তামিলনাড়ুর এই ঘটনা চমকে দেবে আপনাকে

ইডির দফতরে হাজিরা দেওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা মদনের, শুনে যা বললেন দিলীপ

ভারত-চিনের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্কের প্রস্তাব আমেরিকার

উত্তরপ্রদেশে লিভ-ইন সঙ্গীর হাতে নৃশংস ভাবে খুন বাংলার সমকামী যুবক

আমেরিকা-সৌদি আরবের যৌথ হামলায় ইরাকে নিহত ৮, উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য

স্বর্গের চেয়েও সুন্দর, বর্ষায় ঘুরে আসুন উত্তর ভারতের এই ৫ অসাধারণ গ্রামে

দক্ষিণবঙ্গে দমকা হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টির পূর্বাভাস, উত্তরবঙ্গে ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা

মাথার দাম ছিল ১ কোটি! ধানবাদ থেকে গ্রেফতার পলিটব্যুরোর শেষ জীবিত সদস্য মিসির বেসরা

জাপানে ৭.১ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্পে নিহত ১৩, চলছে অনুসন্ধান অভিযান

কৃষ্ণ সাগরে হামলা! ইউক্রেনের কাছে জাহাজে আটকে ১৩ ভারতীয় নাবিক

৫০ পার হলেও কমবে না গ্ল্যামার, এই ৫ সহজ অভ্যাসে বজায় থাকবে তারুণ্য

নেশামুক্তি কেন্দ্রে তরুণীকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে গণধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেফতার কর্ণধার