আমরা আসছি
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

বিনোদ খান্না কেন বলিউড ছেড়ে ওশো আশ্রমে গিয়েছিলেন, কী বলেছিলেন স্ত্রী কবিতা?

নিজস্ব প্রতিনিধি: বলিউডে যখন সাফল্যের শিখরে অভিনেতা বিনোদ খান্না, তখনই আচমকা সিনেমা ছেড়ে আধ্যাত্মিক জীবনের পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। ১৯৮২ সালে তাঁর এই পদক্ষেপে স্তম্ভিত হয়ে যায় গোটা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি। কেন এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বিনোদ খান্না, পরে তাঁর স্ত্রী, ছেলে ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের কথাতেই সামনে আসে সেই অজানা কাহিনি। 

হিন্দি সিনেমার অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা বিনোদ খান্না ১৯৮০-র দশকের শুরুতে একের পর এক হিট ছবি উপহার দিচ্ছিলেন। তখন তিনি বলিউডের বড় তারকাদের মধ্যে অন্যতম। সেই সময়েই হঠাৎ সংবাদমাধ্যম ডেকে তিনি ঘোষণা করেন, তিনি অভিনয় ছেড়ে আধ্যাত্মিক সাধনার পথে যাচ্ছেন। তিনি ওশোর আশ্রমে যোগ দিতে আমেরিকার ওরেগনের রাজনীশপুরমে চলে যান। সেখানে ধ্যান, নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন এবং গুরু ওশোর সান্নিধ্যে সময় কাটাতে শুরু করেন। তাঁর এই সিদ্ধান্তে ভক্তদের পাশাপাশি পরিবারও গভীরভাবে প্রভাবিত হয়।পরবর্তীতে এক সাক্ষাৎকারে বিনোদ খান্না বলেন, এই সিদ্ধান্ত অনেকের কাছে স্বার্থপর মনে হতে পারে, কিন্তু নিজের অন্তরের শান্তি খুঁজে পাওয়ার জন্য এটা তাঁর কাছে জরুরি ছিল। তিনি জানান, তাঁর মন সবসময় অস্থির থাকত। অতিরিক্ত চিন্তা, রাগ, উত্তেজনা এবং মানসিক ক্লান্তিতে তিনি ভুগছিলেন। ধ্যানের মাধ্যমে তিনি বুঝতে পারেন, মনের উপর নিয়ন্ত্রণ না আনলে শান্তি সম্ভব নয়। সেই কারণেই তিনি সবকিছু ছেড়ে সম্পূর্ণ সময় আধ্যাত্মিক সাধনায় দিতে চেয়েছিলেন।তাঁর কথায়, তিনি পরিবারকে ছেড়ে পালিয়ে যাননি। পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিলেন এবং সব দায়িত্বও পালন করতেন।

বিনোদ খান্নার ছেলে অক্ষয় খান্না তখন খুব ছোট। পরে তিনি বলেন, ওই বয়সে বিষয়টি বোঝার মতো বয়স ছিল না। তবে বড় হওয়ার পর তিনি বুঝেছেন, প্রত্যেক মানুষের নিজের মতো করে বাঁচার অধিকার আছে। অক্ষয়ের মতে, যদি কোনও সম্পর্ক মানুষকে সুখ না দেয়, তবে শুধু সমাজের জন্য তা টেনে নিয়ে যাওয়ার অর্থ নেই। তিনি আরও বলেন, নিজের সুখের জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাহস খুব কম মানুষের থাকে। বিনোদ খান্নার দ্বিতীয় স্ত্রী কবিতা জানান, তাঁর স্বামীর আধ্যাত্মিকতার প্রতি আকর্ষণ অনেক ছোটবেলা থেকেই ছিল। মাত্র ১৭ বছর বয়সে তিনি ‘অটোবায়োগ্রাফি অফ আ যোগী’ বই পড়ে গভীরভাবে প্রভাবিত হন। কবিতা জানান, জে কৃষ্ণমূর্তির বক্তৃতা শুনতেও তিনি নিয়মিত যেতেন। পরে পরিবারের মধ্যে একের পর এক পাঁচটি মৃত্যু, বিশেষ করে মায়ের মৃত্যু তাঁকে ভেঙে দেয়। এরপরই তিনি ওশোর আশ্রমে গিয়ে সন্ন্যাস গ্রহণ করেন। কবিতার কথায়, আশ্রমে বিনোদ খান্নার জীবন ছিল অত্যন্ত সাধারণ। পুনের আশ্রমে তাঁর একটি ছোট ঘর ছিল, যার আকার ছিল মাত্র চার ফুট বাই ছয় ফুট। সেখানে খুব কষ্টে থাকতে হতো তাঁকে। তিনি জানান, ক্যামেরার সামনে তিনি সিনেমার শুটিং করতেন, আর ক্যামেরার বাইরে ধ্যানমগ্ন জীবন কাটাতেন। আশ্রমে তিনি বাগানের কাজও করতেন। পরে সেখান থেকে ওরেগনেও যান।

কবিতার মতে, বিনোদ খান্না যা খুঁজছিলেন, তা তিনি পেয়ে গিয়েছিলেন। তাই আশ্রমে থাকার আর প্রয়োজন অনুভব করেননি। তিনি জীবনের মধ্যে থেকেই শান্ত ও স্থির থাকার শিক্ষা নিয়ে ফিরে আসেন। অভিনেতা কবীর বেদি বলেন, বিনোদ খান্নার মধ্যে দার্শনিক মনোভাব ছিল। তিনি ওশোর প্রতি গভীরভাবে অনুরক্ত ছিলেন। আশ্রম জীবনে ক্লান্ত লাগলে মাঝে মাঝে লস অ্যাঞ্জেলেসে তাঁর কাছে চলে আসতেন বিনোদ। প্রায় পাঁচ বছরের বিরতির পর ১৯৮৭ সালে ‘ইনসাফ’ ছবির মাধ্যমে ফেরেন বিনোদ খান্না। এরপর ‘সূর্যা’, ‘চাঁদনি’-র মতো সফল ছবি করেন। পরবর্তী সময়ে ‘ওয়ান্টেড’, ‘দাবাং’, ‘দাবাং ২’, ‘দিলওয়ালে’-তে পিতৃচরিত্রে অভিনয় করে নতুন প্রজন্মের কাছেও সমান জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি। 

Published by:

Share Link:

More Releted News:

‘স্মিতা পাটিলের চেয়ে সুন্দর কাউকে দেখিনি’, বলিউডে বর্ণবিদ্বেষ নিয়ে বিস্ফোরক নওয়াজউদ্দিন

‘এবার সওয়ারি বড়’, উটিতে চলছে জোরকদমে শুটিং, প্রকাশ্যে ‘গোলমাল ৫’-এর প্রথম ঝলক

‘দেখুন কী রোগা হয়ে গিয়েছে’, দিব্যজ্যোতির চেহারায় পরিবর্তন নিয়ে দুঃখপ্রকাশ মুখ্যমন্ত্রীর

ছেলের প্রশংসা শুনে আবেগঘন, ‘এক দিন’-এর অনুষ্ঠানে অঝোরে কাঁদলেন আমির

‘ওঁরা তো চোখ দিয়ে ধর্ষণ করে’, বিজেপির বিরুদ্ধে বিস্ফোরক রূপাঞ্জনা

কীভাবে মারা গিয়েছিলেন মহুয়া? ৪১ বছর পর জানা যাবে সেই রহস্য

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ