এই মুহূর্তে

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ, ইরানে যুদ্ধে যেতে নারাজ মার্কিন সেনার একাংশ

নিজস্ব প্রতিনিধি: আজ ১৩ দিন ধরে ইরান বনাম ইজরায়েল-আমেরিকার যুদ্ধে পুড়ছে মধ্যপ্রাচ্য। এমতাবস্থায় মার্কিন সেনাদের একাংশ ইরানে যুদ্ধে যেতে চাইছেন না, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশ মানতে নারাজ তাঁরা। এমনটাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সের একটি পোস্টে জানিয়েছে ‘সেন্টার অন কনশিয়েনশস অ্যান্ড ওয়ার’-এর নির্বাহী পরিচালক। এই অলাভজনক প্রতিষ্ঠানটি সেনাবাহিনী তে যোগ দিতে বা যুদ্ধ করতে নারাজ এমন ব্যক্তিদের নিয়ে কাজ করে। জানা গিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির ফোন ক্রমাগত বেজে চলেছে। মার্কিন সেনারা তাদের ফোন করে জানাচ্ছেন, তাঁরা ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নিতে চান না। ইরানে যুদ্ধ করা নিয়ে ভিতর থেকে আপত্তি জানিয়েছেন মার্কিন সেনারা।

সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মাইক প্রাইজনার সমাজমাধ্যম হ্যান্ডেলে লিখেছেন, সরকারের তরফে জনগণকে যা বলা হয়েছিল, তার থেকে অনেক বেশি সেনা ইউনিটকে যুদ্ধে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া গত সপ্তাহে একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ইরানে বিশেষ বাহিনী পাঠানোর কথা ভাবছে আমেরিকা। অর্থাৎ ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার সেনা বাহিনীর সংখ্যা আরও বাড়বে। এমনকি এও শোনা গিয়েছে, ইরানে যুদ্ধের জন্যে সম্প্রতি মার্কিন সেনাবাহিনী তাদের ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের বড় প্রশিক্ষণ মহড়া বাতিল করেছে। যাঁরা স্থলযুদ্ধে বিশেষজ্ঞ। তারা আকাশপথে দ্রুত শত্রু বিনাশ করতে সক্ষম।

যদিও সেনাদের নিয়োগ করা অলাভজনক সংস্থা এক্সে আরও একটি পোস্টে জানিয়েছে যে, ‘আমাদের একজন সেনাসদস্য ফোন জানিয়েছে, তিনি সেনাবাহিনীতে মোতায়েন হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। তিনি ‘কনশিয়েনশস অবজেক্টরস’ হিসেবে আবেদন করতে চাইছেন। তিনি আরও জানিয়েছেন, তাঁর ইউনিটের মধ্যে অনেকে ইরানে যুদ্ধ যাওয়া নিয়ে আপত্তি প্রকাশ করেছেন।’ পোস্টে আরও বলা হয়েছে, মার্কিন সেনারা আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইরানি যুদ্ধজাহাজের ওপর হামলা করা নিয়ে চরম বিরক্তি প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি গত সপ্তাহে ইরানের একটি মেয়েদের স্কুলে আমেরিকা-ইজরায়েলের হামলার ঘটনাতেও তাঁরা দুঃখ প্রকাশ করেছেন। যে হামলায় অন্তত ১৬৫ জন নিহত হয়েছিল, যাঁদের মধ্যে বেশির ভাগই বালিকা ছিল। ইরানের মিনাব শহরের ওই স্কুলটিতে দুবার হামলা করা হয়েছিল। সেই স্কুলে যুক্তরাষ্ট্রের বোমা বর্ষণের প্রমাণও পাওয়া গিয়েছে। সেকশনে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা হামলা চালানো হয়েছিল। যদিও ট্রাম্প প্রশাসনকে এ হামলার বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি। যদিও ট্রাম্প এই হামলায় ইরানকেই দায়ী করেছে। কিন্তু তিনি এই দাবির পক্ষে কোনও প্রমাণ দেখাতেও পারেননি। এমতাবস্থায় অবস্থায় ট্রাম্পের নির্দেশের বিরোধিতা করে আর ইরানে যুদ্ধে যেতে চাইছেন না মার্কিন সেনাদের একাংশ। শেষবার, ১৯৭২ সালের ডিসেম্বরে ভিয়েতনাম যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে সেনাদের আপত্তিতে তাদের যুদ্ধে পাঠিয়েছিল আমেরিকার। সুতরাং বিদেশে যুদ্ধে যেতে নারাজ, আমেরিকায় এমন ইতিহাস রয়েছে।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

‘বাঁচতে হলে হরমুজ অবরোধের সিদ্ধান্ত থেকে সরুন’, ট্রাম্পকে হুঁশিয়ারি সৌদি যুবরাজের

ইরান যুদ্ধের জের, ইজরায়েলের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি স্থগিত করল ইতালি!

গাজার আশ্রয়শিবিরে ঘুমন্ত মানুষদের শরীর কামড়ে খাচ্ছে ইঁদুর

‘যিশুর’ বেশে ট্রাম্প! সমালোচনার জেরে পোস্ট মুছলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট

আশার ‘শেষ শ্রদ্ধায়’ নিষিদ্ধ গান সম্প্রচার! পাকিস্তানি চ্যানেলকে শোকজ

‘ইরানের কাছে থাকবে না কোনো পারমাণবিক অস্ত্র’, কড়া বার্তা ট্রাম্পের

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ