এই মুহূর্তে

ভুলেও উপেক্ষা করবেন না পায়ের এই ৪ সমস্যা , হৃদরোগ বা কিডনির মারাত্মক রোগের লক্ষণ হতে পারে

নিজস্ব প্রতিনিধি: শরীরের মধ্যে কোনও রোগ বাসা বেঁধে রয়েছেন কিনা তা বাইরে থেকেই বোঝা যায়। শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের ফোলা ভাব বা অন্যান্য প্রতিক্রিয়া দেখে বোঝা যায় রোগ আসলে কোথায় বাস বেঁধেছে। আমাদের শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ একে অপরের সাথে সংযুক্ত, তাই কখনও কখনও অসুস্থতার লক্ষণ অন্য কোথাও দেখা দিতে পারে। পায়ের কিছু পরিবর্তন  একাধিক রোগের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে। এই লক্ষণগুলি আগে থেকেই শনাক্ত করলে গুরুতর জটিলতা এড়ানো যায়। পায়ের পরিবর্তন দেখে কীভাবে  গুরুতর অসুস্থতার লক্ষণ  বুঝবেন…  

 ১.  পা ফোলা

যদি আপনার পা, গোড়ালি বা পায়ের পাতা হঠাৎ করে ফুলে ওঠে এবং ফোলা হয়ে যায়, তাহলে এটিকে একেবারে হালকাভাবে নেবেন না। এটি বিভিন্ন অঙ্গের সমস্যার কারণে হতে পারে। যখন রক্ত প্রবাহ ঠিকঠাক না হয়, তখন শরীরের টিস্যুতে তরল জমা হতে শুরু করে, যাকে এডিমা বলা হয়। এই সমস্যাটি প্রায়শই হৃদযন্ত্রের বিকল হওয়ার লক্ষণ হতে পারে। যখন হৃদপিণ্ড সঠিকভাবে রক্ত পাম্প করতে অক্ষম হয়, তখন মাধ্যাকর্ষণ শক্তির কারণে পায়ে তরল জমা হয়, যার ফলে পা  ফুলে যায়। কিডনি বা লিভারের রোগের কারণেও পায়ে রক্ত জমাট বাঁধতে পারে। যদি আপনার পায়ের ফোলাভাব হঠাৎ করে বেড়ে যায় অথবা শ্বাসকষ্ট বা বুকে ভারী ভাবের মতো লক্ষণ দেখা দেয়, তাহলে অবিলম্বে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন। আগে পরীক্ষা  করলে গুরুতর সমস্যা এমনকি প্রাণহানির সম্ভাবনা এড়ানো যায়। 

 ২. ঠান্ডা পা

শীতকালে পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়া লাগা স্বাভাবিক। কিন্তু গরম পোশাক পরা এবং সঠিকভাবে ঢেকে রাখার পরেও যদি আপনার পা অতিরিক্ত ঠান্ডা থাকে, তাহলে এটি উদ্বেগের কারণ হতে পারে। এটি পেরিফেরাল আর্টারি ডিজিজ (PAD) এর লক্ষণ হতে পারে। এই অবস্থার ফলে পায়ের শিরায় প্লাক তৈরি হয়, যার ফলে রক্ত প্রবাহ কমে যজাওয় এর ফলে পায়ে ঠিকমতো অক্সিজেন পৌঁছায় না। পেরিফেরাল আর্টারি ডিজিজ উপেক্ষা করা বিপজ্জনক হতে পারে, কারণ এটি হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করে। ঠান্ডা আবহাওয়া এই সমস্যাটিকে আরও বাড়িয়ে তোলে। ঠান্ডা আবহাওয়া শিরাগুলিকে আরও সংকুচিত করে, যার ফলে রক্ত প্রবাহ আরও ধীর হয়।

 ৩.  রাতে পায়ে ব্যথা

ক্লান্তিভরা  দিনের পর, রাতে ঘুমিয়ে পড়তে যাওয়ার সময় হঠাৎ করেই আপনার পায়ের পাতায় তীব্র ব্যথা এবং  টান অনুভব হতে পারে। এটি কয়েক সেকেন্ড বা মিনিটের মধ্যেই কমে যেতে পারে, কিন্তু যদি এটি বারবার পুনরাবৃত্তি হয়, তাহলে এটি উপেক্ষা করা উচিত নয়। ঘন ঘন পায়ের  টান শরীরে জলশূন্যতা, ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা ইলেক্ট্রোলাইট ভারসাম্যহীনতার কারণে হতে পারে। রক্ত সঞ্চালনের দুর্বলতা এবং কিডনির সমস্যাও এর কারণ হতে পারে। পায়ে এই ঝিনঝিন সাধারণ মনে হতে পারে, কিন্তু যদি ঘন ঘন হয়, তাহলে ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসকরা আপনার স্নায়ু এবং স্নায়ু পরীক্ষা করার পরামর্শ দেন যাতে কোনও গুরুতর সমস্যা প্রাথমিকভাবে সনাক্ত করা যায়।   

৪. পায়ে অসাড়তা 

কখনও কখনও, দীর্ঘক্ষণ ধরে এক অবস্থানে বসে বা শুয়ে থাকার ফলে পায়ে অসাড়তা বা ঝিনঝিন ভাব দেখা দিতে পারে। তবে, যদি এই সমস্যাটি অব্যাহত থাকে বা ঘন ঘন চলতে থাকে, তবে এটিকে হালকাভাবে নেবেন না। পায়ে পিন এবং সূঁচের অনুভূতি ডায়াবেটিক নিউরোপ্যাথির লক্ষণ হতে পারে। এটি তখন ঘটে যখন দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ রক্তে শর্করার মাত্রা স্নায়ুর ক্ষতি করে। ডায়াবেটিস এই সমস্যার সবচেয়ে সাধারণ কারণ তাছাড়া, ব্যথা না থাকলেও পায়ের অবিরাম অসাড়তা হৃদরোগের ঝুঁকি নির্দেশ করতে পারে। এটি আগে থেকে না চিনলে আঘাত, পোড়া এবং আলসারের ঝুঁকি বাড়তে পারে, যার ফলে অঙ্গচ্ছেদ হতে পারে।

Published by:

Ei Muhurte

Share Link:

More Releted News:

চুলের জন্য দারুন উপকারী আমলকির রস, তবে মাখার সঠিক নিয়ম না জানলে হবে বিপদ

পাখিদের মেলা দেখতে এবার অন্য ঠিকানায়, রইল কলকাতার একদম কাছে ৩টি সেরা লোকেশন

বাড়িতে শালিক পাখি আসা কিসের ইঙ্গিত? জেনে কিন কি বলছে বাস্তুশাস্ত্র

‘৩৮ কেজি ওজন, ২৩ ইঞ্চি কোমর, না খেয়ে শুকিয়ে যাচ্ছি’, চরম ডিপ্রেশনে চলে গিয়েছেন উরফি

শিবরাত্রিতে জলাভিষেকের বিশেষ মুহূর্ত কখন জানেন?

ভ্যালেন্টাইন্স ডে’তে পাওয়া ফুল দীর্ঘদিন সতেজ রাখতে চান, মেনে চলুন এই পদ্ধতিগুলি…

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ