এই মুহূর্তে

কিভাবে শিশুর আচরণগত সমস্যার সমাধান করবেন

নিজস্ব প্রতিনিধি: প্রত্যেক শিশু একক এবং অদ্বিতীয়। কোনো শিশুর আচরণগত সমস্যা তৈরি হলে সেই শিশুর বাড়ির, স্কুলের, এবং মনের পরিসরে তাকাতে হবে।

আচরণগত সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে 3C টেকনিক অনুসরণ করা হয়।

1. C= connection
2. C= communication
3. C= cooperation

কানেকশন বা সংযোগ অর্থাৎ শিশুটির সাথে একটা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করা। একটা ভালোবাসার বন্ডিং তৈরি করা। বয়স অনুযায়ী তার মতন করে তার কাছে পৌঁছে যাওয়া। যাতে সে খোলাখুলি আপনাকে সব কথা বলতে পারে ও আপনার সাথে মিশতে পারে।

কমিউনিকেশন বা যোগাযোগ অর্থাৎ প্রতিদিনের কাজে তার সাথে যুক্ত থাকা। তার ছোট ছোট চাহিদা, প্রয়োজন ইত্যাদি সম্পর্কে জানা এবং প্রতিদিনের প্রয়োজনের সাথে যুক্ত থাকা। যোগাযোগ রাখা।

কোঅপোরেশন বা সহযোগিতা অর্থাৎ তার সমস্যা সমাধানের অংশ হিসেবে কাজ করা। তার প্রয়োজন মেটানোর অংশ হিসেবে কাজ করা। তাকে তার চারপাশকে বুঝতে সাহায্য করা। সমস্ত রকমের গাইডেন্স দেওয়া।

কিভাবে এই টেকনিক গুলি ফলো করবেন

১) আপনার বাচ্চার প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করুন। আমরা অনেক সময় ভেবে নেই যে ‘আমরা বাবা-মা, আমরা তো আমাদের বাচ্চাকে ভালোবাসবোই। এটি প্রকাশ করার কি আছে?’ কিন্তু ভালবাসার সাথে সাথে এই ভালবাসার প্রকাশ ও জরুরি। প্রকাশ না থাকলে সেই ভালবাসার উষ্ণতা হারিয়ে যায়। আপনার বাচ্চার সাথে কথা বলুন। এবং সেই কথার মধ্যে যেন আদরের ভাষা থাকে। তার সাথে সময় কাটান।

২) অন্যের সামনে আপনার শিশুকে প্রশংসা করুন। আপনার শিশু যা কিছু ভালো কাজ করে তার প্রশংসা করুন। এবং এই প্রশংসা যদি ওর কোনো বন্ধু বা অন্য কারুর সামনে করা হয়, তাহলে তা শিশুর আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করে। প্রতিটি ভালো কাজে তার প্রশংসা করুন এবং এই প্রশংসা ভালো কাজটি করার সাথেসাথে করুন। সে যেন বুঝতে পারে যে আপনি কেন তাকে প্রশংসা করছেন। প্রয়োজনে প্রশংসার ভাষা পরিবর্তন করুন।

৩) অন্যের সামনে আপনার বাচ্চার সমালোচনা বা তার সম্বন্ধে কোনো নেতিবাচক কথা বলবেন না। কোনো ভুল ধরিয়ে দেওয়া বা কোন কিছু শুধরে দেওয়ার হলে সেটা একাকী করুন। এবং তার সামনে যুক্তি তুলে ধরুন যে কেন সেটা ভুল বা কেন শুধরানোর প্রয়োজন আছে।

৪) আপনার বাচ্চাকে যদি কোন প্রমিস করে থাকেন তাহলে সেই প্রমিস টি রাখুন। ধরুন আপনি বললেন যে, আজকে এই পড়াটা শেষ করে রাখলে, আপনি বিকেলে তাকে নিয়ে কোথাও ঘুরতে যাবেন। তাহলে অবশ্যই সেটা পালন করুন। আপনার যদি মনে হয় কোন প্রমিস রাখতে পারবেন না, সেটা তাহলে করবেন না। প্রমিস করে না রাখলে, আপনার ওপর আপনার শিশুর বিশ্বাস নষ্ট হয়ে যাবে। আরো ও এটাও শিখবে যে, প্রতিশ্রুতি না রাখলেও চলে।

৫) আপনার শিশুটির কথা মন দিয়ে শুনুন। হয়তো আপনার মনে হতে পারে যে এই কথা না শুনলে ও চলবে, কিন্তু বিশ্বাস করুন, সেই কথাটি তার কাছে খুবই প্রয়োজনীয় এবং গুরুত্বপূর্ণ।

৬) স্পর্শ খুব গুরুত্বপূর্ণ। স্পর্শ নিরাপত্তার আশ্বাস দেয়। এটি বোঝায় যে আমার সাথে, আমার পাশে কেউ আছে। ঘুম থেকে উঠার পর জড়িয়ে ধরা, আদর করা, স্কুল যাওয়ার আগে, স্কুল থেকে আসার পর, কোন ভালো কাজ করলে এবং রাত্রে ঘুমাতে যাওয়ার আগে আদর করা, সম্পর্কে অন্য মাত্রা এনে দেয়।

৭) অতিরিক্ত উপদেশ না দিয়ে সঙ্গ দিন। যেটি আপনি আপনার বাচ্চাকে দিয়ে করাতে চান সেটি আপনিও তার সামনে করুন। শুধু শুধু নির্দেশ বা উপদেশ দিলে তারা পালন করতে চায় না এবং পছন্দও করে না। রোল মডেল হন। যে আচরণ আপনার বাচ্চার কাছ থেকে প্রত্যাশা করছেন সে আচরণটি নিজেকেও করতে হবে। আপনি যদি ভাবেন যে আপনার বাচ্চা সকালবেলা উঠেই মোবাইল নিয়ে বসবে না, তাহলে আপনিও সকালে উঠে মোবাইল নিয়ে বসবেন না। আপনি যদি ভাবেন আপনার বাচ্চা হাত ধুয়ে খাবার খাবে, তাহলে আপনিও হাত ধুয়ে খাবার খান।

৮) আপনার বাচ্চার কাছ থেকে কি চান সেটা স্পষ্ট ভাবে ব্যাখ্যা করুন। অনেক সময় ওরা বুঝতে পারে না যে আপনি কি চাইছেন। যে আচরণটি পছন্দ করেন না সে আচরণটি কোন সময়েই সাপোর্ট করবেন না। যেমন ধরুন আপনি চান না যে আপনার বাচ্চা বিছানায় বসে খাবার খাক, অথচ আপনি আবার কখনও কখনও বিছানায় বসে খেতে এলাও করেন। এটি করবেন না। খেয়াল রাখবেন আপনারা বড়রা যাতে বিপরীত ধর্মী নির্দেশ শিশুটিকে না দেন। অর্থাৎ আপনি এক রকম বলেছেন আবার অন্যজন এই বিষয়ে অন্যরকম বলেছেন, এটি যেন না হয়।

৯) শুধরানোর সময় বাচ্চাটিকে অপরাধী না করে কাজটার দিকে নির্দেশ করে বলুন। যেমন ধরুন বাচ্চা যদি হাত না ধুয়ে খাবার খায়, তাহলে ওকে ‘ডার্টি বয়’ না বলে, হাতটা যে নোংরা, এবং নোংরা হাতে খেলে কি অসুবিধা হবে সেটি বলুন।

১০) বড়রা সবাই মিলে একটা আচরণের নিদৃষ্ট নিয়ম তালিকা প্রস্তুত করুন। যেমন, বাইরে থেকে এসে জুতোটা নির্দিষ্ট তাকে রাখা, জামাটা নির্দিষ্ট জায়গায় রাখা, নির্দিষ্ট সময় নিজের নিজের কাজের প্রতি মনোযোগী হওয়া, নির্দিষ্ট সময় খাওয়া ইত্যাদি। আপনার বাচ্চাকেও সেই তালিকা প্রস্তুতির সময় সঙ্গে নিন এবং নিজেরাও যে নিয়ম মেনে চলছেন সারাদিন, সেটা তাকেও বুঝতে দিন।

বাচ্চার সমস্ত নেতিবাচক আচরণের প্রতি মনোযোগী হবেন না। কিছু আচরণ উপেক্ষা করুন। আমরা অনেক সময় যেগুলি ‘না’ করতে বলি, সেগুলো বাচ্চারা বেশি বেশি করে। এটি মনোযোগ আকর্ষণের জন্য। সুতরাং ইতিবাচক আচরণের প্রতি মনোযোগী হন। সেটির জন্য আপনার বাচ্চাকে প্রশংসা করুন।

লেখক : পুষ্পিতা মুখার্জি (মনোবিদ ও শিক্ষিকা)

Published by:

Ei Muhurte

Share Link:

More Releted News:

জানেন কী, ভাত গরম নয়, ঠান্ডা খাওয়া বেশি উপকারী?

এ বছর মহাশিবরাত্রি কবে এবং কখন?

এ বছর দোল পূর্ণিমায় চন্দ্রগ্রহণ, কবে, কখন, জেনে নিন দিনক্ষণ ও সময়

বসন্তে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় কোন কোন খাবার?

অতিরিক্ত ভুঁড়ি বেড়ে যাওয়ার কারণ…..

সপ্তাহে কতবার স্ক্রাবিংয়ের প্রয়োজন?

Advertisement

এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ

দার্জিলিং

কালিম্পং

জলপাইগুড়ি

আলিপুরদুয়ার

কোচবিহার

উত্তর দিনাজপুর

দক্ষিণ দিনাজপুর

মালদা

মুর্শিদাবাদ

নদিয়া

পূর্ব বর্ধমান

বীরভূম

পশ্চিম বর্ধমান

বাঁকুড়া

পুরুলিয়া

ঝাড়গ্রাম

পশ্চিম মেদিনীপুর

হুগলি

উত্তর চব্বিশ পরগনা

দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা

হাওড়া

পূর্ব মেদিনীপুর