৩৫০ বছরের পুরনো ! পলাশি যুদ্ধের সাক্ষ্মী দেবসরকার বাড়ির দুর্গাপুজো

Share:

নিজস্ব প্রতিনিধি : আর মাত্র বাকি কিছু দিন। এরপরেই কৈলাস থেকে আসছে উমা..। আর কিছু সময় পরেই মাতৃ আরাধানায় মেতে উঠবে ভক্তরা। প্রত্যেক বছর বাঙালিরা অপেক্ষা করে থাকে প্রাণের দুর্গা পুজোর। আর দু্র্গা পুজোর ইতিহাসের দিকে তাকালে চোখের সামনে ভেসে ওঠে অতীতের কাহিনী। এ যেন জীবন্ত এক গল্প।হ্যাঁ ইতিহাস কথা বলে। ৩৫০ বছর হতে চলল আজও দুর্গার আরাধনায় মেতে ওঠে ফলতার মালা গ্রামের দেবসরকার বাড়ি। অতীতের জৌলুস ও ধারা এখনও বজায় রেখেছে দেবসরকার বাড়ির দুর্গাপুজো।

দেবী দুর্গার আরাধনায় ইতিহাসকে সাক্ষী রেখে সেই বনেদিয়ানার পরিচয় প্রজন্মের পর প্রজন্ম বহন করে চলেছে দেবসরকার পরিবার। এই বাড়ির দুর্গা পুজো শুরু হয়েছিল পলাশির যুদ্ধের বেশ কয়েক বছর আগে।প্রত্যেক বছর পুজো উপলক্ষে দেবীর আগমনের প্রস্তুতি তুঙ্গে থাকে জমিদার বাড়িতে। দেবসরকারদের জমিদারি ছিল কলকাতা থেকে সুদূর সুন্দরবনের লাট অঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত। গাঙ্গেয় জমিতে ধানের ফলন হত বেশ ভালোই। আর সেজন্যই ফলতায় গড়ে উঠেছিল বিশাল এক ধানের আড়ত। ধানের ব্যবসার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছিল ওই এলাকা।

প্রায় ৩৫০ বছর আগে কলকাতার সম্ভ্রান্ত ব্যবসায়ী পরিবারের এক সদস্য বিহারীলাল দেব প্রথম ফলতার মালা গ্রামে আসেন সেই ব্যবসায়িক প্রয়োজনেই। একসময় উন্নতির চরম পর্যায়ে যায় দেব দের জমিদারি ও ব্যবসা। সমাজের বহু উঁচুতলায় যাতায়াত গড়ে ওঠে দেব পরিবারের সদস্যদের। লাটসাহেবদের সঙ্গেও ছিল দারুণ মিত্রতা। একদিন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি একসময় দেব পরিবারকে সরকার উপাধিতে ভূষিতও করে।

এই নিয়ে দেবসরকার বাড়ির সদস্য শুভ্র দেবসরকার জানান, ব্যবসায়িক কাজে কলকাতা থেকে মালা গ্রামে এসে গ্রাম্য প্রকৃতির মায়ায় আবদ্ধ হন বিহারীলাল দেব। মালা নিবাসী নাগ বংশের কন্যার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এর পর মালা গ্রামেই বসবাস শুরু করেন তিনি। গ্রামে নিজের তৈরি রাজপ্রাসাদের মত বাড়িতে বসে জমিদারি ও ব্যবসার কাজ দেখাশোনা করতেন বিহারীলাল। বাড়ির চারদিক ছিল জলাশয়ে ঘেরা। কেবল সামনের অংশটুকুই ছিল উন্মুক্ত। শত্রুপক্ষ যাতে আক্রমণ করতে না পারেন তাই এমন ব্যবস্থা করে রেখেছিলেন বিহারীলাল দেব।

বিহারীলালই সেখানে মন্দির নির্মাণ করে কুলদেবতা শ্রী শ্রী লক্ষ্মীজনার্দন জিউর মূর্তি প্রতিষ্ঠা করেন। স্বাধীনতা আন্দোলনে দেবসরকার বাড়ির যথেষ্ট ভূমিকা ছিল বলে জানা যায়। স্বাধীনতা পূর্ববর্তী সময়ে বিপ্লবীদের অবাধ যাতায়াত ছিল দেবসরকার বাড়িতে। জমিদার বাড়িতে মাঝেমধ্যেই আশ্রয় নিতেন বিপ্লবীরা।তাঁদের চিকিৎসার ব্যয়ভারও বহন করত দেবসরকার পরিবার। দেবসরকার পরিবারের তৎকালীন সদস্য ডা: অশ্বিনী কুমার দেবসরকার ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে। এর জন্য তাঁকে অনেকবার কারাবাসও করতে হয়েছে।

বিহারীলালের পুত্র কালীকৃষ্ণ দেবসরকার জমিদার বাড়িতে প্রথম আয়োজন করেন দুর্গাপুজোর। সেসময় পুজোয় সাতদিন ধরে চলত যাত্রাপালা ও কবিগান। মহিলাদের মনোরঞ্জনে আলাদা ব্যবস্থা থাকত বাড়ির ভিতর মহলে। ইংরেজ সাহেবরাও নিমন্ত্রিত থাকতেন দেবসরকার বাড়ির দুর্গোৎসবে।শোনা যায়, চারণকবি মুকুন্দ দাস নাকি একবার পালাগান করতে এসেছিলেন এই দেবসরকার বাড়িতেই। তবে প্রাচীন প্রথা মেনে দেওয়া হয় পাঁঠাবলি। আগে বংশপরম্পরায় মল্লিকপুরের চক্রবর্ত্তী পরিবার এই দেব সরকার বাড়ির কুলপুরোহিত ছিলেন। মৃৎশিল্পী, ঢুলিদার সকলেই বংশপরম্পরায় জমিদার বাড়ির এই পুজোয় নিজ নিজ কাজে অংশ নেয়। সাধারণ মানুষদের জন্য আরতির দ্বার খোলা থাকে। এই কটা দিন গান খাওয়া-দাওয়া চলে দেবসরকার বাড়িতেই। প্রতিবারই থাকে নতুন চমক। এইকটা দিন আনন্দে মেতে ওঠে  দেবসরকার বাড়ি।

১০০ বছর পর সোমবতী অমাবস্যায় বিরল সংযোগ, আর্থিক সাফল্য ৪ রাশির জাতকদের

আজকের রাশিফল: স্বাস্থ্যের অবনতি, বাইরের তেলেভাজা খাবার এড়িয়ে চলুন..

পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন জাপানের, ডাচদের জয় রুখে দিল ব্লু সামুরাইরারা

ব্রাজিল ম্যাচের স্মৃতি ফিরিয়ে কুরাসাওকে ৭-১ গোলে হারাল জার্মানি

চক দে ইন্ডিয়া, মেয়েদের বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে উড়িয়ে দিলেন হরমনপ্রীতরা

১৪ মাস ধরে আইএসএফ সমর্থকের স্ত্রীকে আটকে রেখেছেন তৃণমূল নেতা, চাঞ্চল্য হাড়োয়ায়

দিঘাকে বিশ্বমানের পর্যটন কেন্দ্র বানানো হবে বলে প্রশাসনিক বৈঠকে ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

তৃণমূল ছেড়ে ‘অখ্যাত’ রাজনৈতিক দল ‘NCPI’-তে যোগ দিচ্ছেন দেব-সায়নীরা!

আগুনের গুজবে চলন্ত ট্রেন থেকে ঝাঁপ, অন্য ট্রেনের চাকার তলায় ছিন্নভিন্ন ৪ যাত্রী

ভারতের মাটি ছুয়ে নেপাল থেকে বাংলাদেশে অতিরিক্ত বিদ্যু‍ৎ রফতানি আটকে দিল মোদি সরকার

বঙ্গভবনে রাতে গেরুয়া টেবিলে নৈশভোজ কাকলিদের, মেনু শুনলে জিভে জল আসবে

আরামবাগের প্রাক্তন পুর প্রধানকে ডিম বর্ষণ, বাঁ হাতে সামলাচ্ছেন ট্রাউজার্স,ডান হাতে পুলিশের ঢাল

বীরের মতো ব্যাটিং করে অস্ট্রেলিয়াকে চুনকামের লজ্জা থেকে বাঁচালেন কনোলি

আবাসে কাটমানি-বিতর্ক শান্তিপুরে, কাঠগড়ায় প্রাক্তন ও বর্তমান কাউন্সিলর