যুবতী কন্যাকে সম্ভোগ করেছিলেন পিতা স্বয়ং, জানুন অজানা কাহিনি

Share:

পৃথ্বীজিৎ চট্টোপাধ্যায়: নিজে এক অসামান্যা নারীকে সৃষ্টি করে পরবর্তীতে সেই নারীর প্রতিই আকৃষ্ট হওয়ার নিদর্শন পৃথিবীর নানা পৌরাণিক কাহিনিতে নতুন নয়। যদিও এমন ঘটনার কথা হলে প্রথমেই উঠে আসে গ্রীক পুরাণে বর্ণিত পিগম্যালিয়ন ও গ্যালেটার কাহিনী। পিগম্যালিয়ন নামে এক ভাস্কর তাঁর তৈরি  অপরূপ নারীমূর্তির প্রতি প্রেমাতুর হলে প্রেমের দেবী অ্যাফ্রোডাইট সেই মূর্তিতে প্রাণসঞ্চার করেন ও সেই নারীর নাম হয় গ্যালেটা। তবে, এই কাহিনির বহু পূর্বেই প্রাচীন ভারতীয় পৌরাণিক সাহিত্যেও বিশেষ করে বেদে প্রজাপতি ব্রহ্মা ও তাঁর পত্নী রূপে বাগদেবী সরস্বতীর উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু, দেবী সরস্বতীর সাথে ব্রহ্মার এ সম্বন্ধ কেমন করে সম্ভব হল ? বাগদেবী তো আসলে ব্রহ্মার সৃষ্টি, অর্থাৎ ব্রহ্মা স্বয়ং  তাঁর পিতা।

বৈদিক পৌরাণিক সাহিত্যের ঋগবেদে এমন কিছু আখ্যান পাওয়া যায়, যা আধুনিক নৈতিক বোধের সঙ্গে সরাসরি মিল না থাকলেও, তৎকালীন দার্শনিক ও প্রতীকী চিন্তাধারার গভীর পরিচয়ের বাহক। পিতা কর্তৃক যুবতী কন্যার সম্ভোগ—এই ধারণাটি তেমনই এক জটিল ও বহুস্তরবিশিষ্ট বিষয়, যা আক্ষরিক অর্থে নয়, বরং প্রতীক ও তত্ত্বের আলোকে বিচার করাই শাস্ত্রসম্মত।

ঋগবেদে বলা হয়েছে—

“ইয়ং বেদিঃ পরো অন্তঃ পৃথিব্যা অয়ং যজ্ঞো ভুবনস্য নাভিঃ। অয়ং সোমো বৃষ্ণো অশ্বস্য রেতো ব্রহ্মায়ং বাচঃ পরমং ব্যোম৷৷”

এখানে ব্রহ্মার সঙ্গে দেবী বাগেশ্বরীর একটা ঘনিষ্ঠ সম্বন্ধ সূচিত হয়েছে।

আবার শতপথ ব্রাহ্মণে বলা হয়েছে—

“বাম্বৈ সরস্বতী বাচৈব তৎপ্রজাপতিঃ পুনরাত্মানমাপ্যাযযত বাগেনমুপসমাবর্তত বাচমনুকামাত্মনোহকুরুত বাচোহ এবৈষ এতদাপ্যায়তে বাগেনমুপসমাবর্ততে বাচমনু-কামাত্মনঃ কুরুতে।”

অর্থাৎ, এখানে বাক্‌, সরস্বতী ও ব্রহ্মার পারস্পরিক সম্পর্ক একটি গভীর দার্শনিক ও প্রতীকী তত্ত্বের ইঙ্গিত বহন করে। শাস্ত্রানুসারে, বাক্‌ই সরস্বতী—অর্থাৎ বাক্‌ বা শব্দই জ্ঞান, সৃজন ও চেতনার আধার। এই বাক্‌শক্তির দ্বারাই প্রজাপতি বা ব্রহ্মা নিজেকে পুনরায় আপ্যায়িত ও শক্তিশালী করেন। বাক্ তাঁর দিকে প্রত্যাবর্তন করেন, এবং তিনি সেই বাক্‌কে আত্মবশ করেন—এই ধারণার মধ্যেই ব্রহ্মা ও সরস্বতীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের মূল নিহিত।

এই শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যার ধারাবাহিকতাই পরবর্তীকালে দেবী সরস্বতীকে ব্রহ্মার পত্নীর স্থান দিয়েছে বলে অনেক পণ্ডিতের মত। কিন্তু এই সম্পর্ককে কেন্দ্র করেই ব্রহ্মার বিরুদ্ধে একটি গুরুতর অপবাদও প্রচলিত হয়েছিল—তিনি নাকি কন্যাগমন করেছিলেন। শ্রীমদ্ভাগবত পুরাণে এই বিষয়ে একটি কাহিনি বর্ণিত আছে, যেখানে বলা হয়েছে যে সরস্বতী “শতরূপা” নামে প্রজাপতির মানসকন্যারূপে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তাঁর অপরূপ সৌন্দর্যে প্রজাপতি মুগ্ধ হয়ে তাঁকে বিবাহ করতে ইচ্ছুক হন; কিন্তু তাঁর মানসপুত্রগণ এতে প্রবল আপত্তি জানান। এই বিরোধ ও আত্মগ্লানির ফলস্বরূপ প্রজাপতি শেষ পর্যন্ত দেহত্যাগ করেন।

এই বিতর্কিত আখ্য্যানকে প্রশমিত করার উদ্দেশ্যে মৎস্যপুরাণ আবার এক ভিন্ন ব্যাখ্যা প্রদান করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, ব্রহ্মা আসলে বেদস্বরূপ, আর শতরূপা বা সরস্বতী কোনও পার্থিব কন্যা নন—তিনি সাবিত্রী বা বৈদিক প্রার্থনার প্রতীক, তিনি স্বয়ং ব্রহ্মার বাক শক্তি। তিনি রজোগুণে প্রজাপতিরই সহধর্মিনী। অর্থাৎ এখানে কন্যা-বিবাহ বা কন্যাগমনের বিষয়টি আক্ষরিক নয়, বরং প্রতীকী ও তাত্ত্বিক। তবুও, এই বিষয়টি নিয়ে দেবসমাজে পর্যন্ত ব্রহ্মার নিন্দা ছড়িয়ে পড়েছিল—এমন ইঙ্গিতও পুরাণে মেলে।

ঋগবেদের শেষাংশে আরও একটি রহস্যময় বক্তব্য দেখা যায়—যেখানে বলা হয়েছে, পিতা যুবতী কন্যার সঙ্গে সম্ভোগ করলেন, এবং তার ফলস্বরূপ ব্রহ্মার সৃষ্টি ও ব্রতরক্ষাকারী বাস্তোষ্পতির নির্মাণ হল। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয়, এখানে পিতা ব্রহ্মা নন এবং কন্যাও সরস্বতী নন। বৈদিক ভাষ্যকার সায়ণাচার্যের মতে, এখানে পিতা হলেন রুদ্র এবং কন্যা হলেন ঊষা। এটি মূলত প্রাকৃতিক ও কসমিক শক্তির মিলনের প্রতীক।

পরবর্তীকালে একই স্থানে পিতৃকর্তৃক কন্যাসম্ভোগের উল্লেখ এবং তার সঙ্গে ব্রহ্মার নাম যুক্ত হওয়ায়, এই প্রতীকী আখ্যান ধীরে ধীরে রূপান্তরিত হয়ে ব্রহ্মার কন্যাগমনের ধারণা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলেই অনুমান করা যায়। সুতরাং নির্দ্বিধায় বলা যায়, এই সমস্ত কাহিনি আক্ষরিক অর্থে নৈতিক বিচারের বিষয় নয়; বরং বৈদিক চিন্তাধারায় সৃষ্টিতত্ত্ব, বাক্‌শক্তি ও মহাজাগতিক সম্পর্ক বোঝানোর প্রতীকী ভাষারই প্রকাশ।

তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের গুপ্ত চিঠি প্রকাশ্যে, শত্রুঘ্ন সিনহার সই নেই

দিল্লির তুঘলকাবাদের বহুতলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, মৃত ৩

মালদহে প্রশাসনিক বৈঠক করবেন মুখ্যমন্ত্রী, কোন বিষয়ে আলোচনা?

প্রয়াত ভারতীয় শুটিং কিংবদন্তি ও কোচ জাসপাল রানা

সাড়ে তিন বছর কোমায় থাকার পর না ফেরার দেশে থাই রাজকুমারী

মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা, গাড়ির সঙ্গে ট্রাকের সংঘর্ষে মৃত ৩ পুলিশ আধিকারিক সহ চালক

পাহাড় কেটে তৈরি দেবলোক! জানেন কোথায় রয়েছে এই স্থান?

Vivo X200T তে ৬,০০০ টাকার  বিশেষ ছাড়, কোথায় পাবেন?

২০ জুন বাংলাজুড়ে পালিত হবে ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’, তারকেশ্বরে থাকবেন শুভেন্দু

বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচেই বিশ্বরেকর্ড, লাল কার্ড দেখলেন তিন জন

উদ্বোধনী ম্যাচে তিন লাল কার্ড, দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারাল মেক্সিকো

‘ইরানের সঙ্গে বোঝাপড়া হয়েছে, সই কেবল সময়ের অপেক্ষা’, দাবি ট্রাম্পের

ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্র, ঘুরে আসুন হিন্দু তীর্থক্ষেত্র বারাণসী

উত্তরে ভারী বর্ষণ, দক্ষিণে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির পূর্বাভাস, কবে আসবে বর্ষা?