এই মুহূর্তে

ধ্যানরত সারদা দেবীর মধ্যে জগদ্ধাত্রীকে দেখেছিলেন রামহৃদয় ঘোষাল

নিজস্ব প্রতিনিধি : কালী পুজোর পর এবার মর্ত্যে আসতে চলেছেন দেবী জগদ্ধাত্রী। জগতের পালিকা হলেন দেবী জগদ্ধাত্রী।যিনি গোটা জগতকে পালন করেন। তিনিই হলেন দেবী আদ্যাশক্তি মহামায়ার আর এক রূপ, যিনি গোটা জগত্‍‍কে ধারণ করে রেখেছেন। জগদ্ধাত্রী দেবী হলেন ত্রিনয়না, চতুর্ভূজা ও সিংহবাহিনী।তাঁর হাতে শঙ্খ, চক্র, ধনুক ও বাণ, গলায় নাগযজ্ঞোপবীত। শ্রীরামকৃষ্ণদেব বলতেন, জগদ্ধাত্রী রূপের মানে যিনি জগৎ ধারণ করে আছেন। তিনি ধারণ না করলে জগৎ স্থিত থাকে না। এই পরিবর্তনশীল জগৎকে কোনও এক মহাশক্তি ধারণ করে রয়েছে। মা জগদ্ধাত্রী সেই ধারণকারিণী মহাশক্তি। জগদ্ধাত্রী পুজো এলে মা সারদার এক ঘটনার কথা উঠে আসে। সারদা মায়ের জীবনের সঙ্গে জগদ্ধাত্রী পূজার সম্পর্ক বহুকালের। আজও মহাসমারোহে জয়রামবাটিতে আরাধিতা হন দেবী জগদ্ধাত্রী। দূর দূরান্ত থেকে ভক্তদের সমাগম হয়।

আজ থেকে বহু বছর আগের কথা। ১২৮৪ সালের কথা। জয়রামবাটীর গ্রামে কালীপূজার সময় নব মুখুজ্যে আড়াআড়ি করে সারদা মায়ের মা শ্যামাসুন্দরী দেবীর জমানো পূজার চাল ইত্যাদি নিলেন না। তিনি সারারাত কাঁদেন যে, মা কালীর জন্য জমানো চাল তো অন্য কেউ খেতে পারবে না ! সে রাতে স্বপ্নে দেখলেন রক্তবর্ণের এক দেবী দুয়ারে পায়ের ওপর পা দিয়ে বসে আছেন। তিনি বললেন, ‘তুমি কাঁদছ কেন? কালীর চাল আমি খাব, তোমার ভাবনা কী?’ দেবী মূর্তিকে জিজ্ঞেস করলেন , ‘তুমি কে?’ উত্তর এল, ‘আমি জগদম্বা, জগদ্ধাত্রীরূপে তোমার পূজা গ্রহণ করব।’

শ্যামসুন্দরী দেবী কিছু বুঝতে না পেরে পরদিন সারদা মা-কে জিজ্ঞেস করলেন, ‘লাল রং, পায়ের উপর পা দিয়ে– ও কী ঠাকুর?’ তখন সারদা মা জগদ্ধাত্রীর দেবীর কথা বললেন। শ্যামাদেবী শুনে পুজোর আয়োজন শুরু করলেন। সময় অল্প। বিশ্বাসদের কাছে থেকে পাঁচ মনের মতো ধান আনা হল।কিন্তু তখন অবিরাম বৃষ্টি চলছে। কিন্তু মা জগদ্ধাত্রীর কৃপায় এমন হল যে চারিদিকে বৃষ্টি, কিন্তু শ্যামাসুন্দরী দেবীর চাটাইয়ে রোদ। আগুন জ্বেলে প্রতিমা শুকিয়ে সেবার রং করা হয়েছিল।

সেই থেকে শুরু হল জগদ্ধাত্রী পুজো। গ্রামের লোক এসে প্রসাদ খেয়েছিলেন।বিসর্জনের দিন শ্যামাসুন্দরী দেবী জগদ্ধাত্রীর কানে কানে বললেন, ‘মা জগাই, আবার আসছে বছর এসো। আমি তোমার জন্য সারা বছর ধরে সব জোগাড় করে রাখব।’

প্রথমবার পুজোর দিন বুধবার হওয়ায় বিধিমতো বিসর্জন পরের দিন বৃহস্পতিবার হওয়ার কথা। কিন্তু মা সারদা আপত্তি জানালেন, বৃহস্পতিবার লক্ষ্মীবারে মাকে বিদায় দেওয়া চলে না। পরদিন আবার সংক্রান্তি এবং তৃতীয় মাস-পয়লা। বিসর্জন হল না। বিসর্জন হয়েছিল চতুর্থ দিন রবিবারে। পরের বছর শ্যামাসুন্দরী দেবী মায়ের কাছে পুজার জন্য কিছু চাইলে মা বললেন, ‘অত ল্যাঠা আমি পারব না।একবার পূজা হল, আবার ল্যাঠা(ঝামেলা)কেন? দরকার নেই, ও পারব না।’ অবাক কাণ্ড! সেই রাতে মা সারদা স্বপ্ন দেখলেন– মা জগদ্ধাত্রী জয়া ও বিজয়া-সহ উপস্থিত। তাঁরা মা সারদাকে জিজ্ঞেস করলেন, তাঁরা চলে যাবেন কি না। মা ভয় পেয়ে বললেন, ‘না, তোমরা কোথা যাবে? না, না, তোমরা কোথা যাবে? তোমরা থাকো, তোমাদের যেতে বলিনি।’ সেই থেকে প্রতি বছর জগদ্ধাত্রী পুজো চলতে থাকে। জগদ্ধাত্রীর দুই পাশে জয়া ও বিজয়ার মূর্তি থাকে।

আরও পড়ুন : জগদ্ধাত্রী-শীতলা মায়ের একত্রে আরাধনা, অলৌকিক অতীতে মোড়া বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারের পুজো

আর একবারের ঘটনা। জগদ্ধাত্রী পুজোর সময় হলদেপুকুরের রামহৃদয় ঘোষাল এসে উপস্থিত হলেন। মা সারদা তখন জগদ্ধাত্রীর সামনে বসে ধ্যান করছেন।তিনি চুপিচুপি দেখতে থাকলেন কি হয়, তিনি অবাক হয়ে দেখতে লাগলেন। এদিকে দেখতে দেখতে হারিয়ে গেলেন, কিছুতেই বুঝে উঠতে পারলেন না, কে মা সারদা, আর কে জগদ্ধাত্রী। ভয়ে ঘাম ঝরতে থাকে তাঁর। দৌড়ে সেখান থেকে পালিয়ে গেলেন। আর তিনি যতই ভাবার চেষ্টা করতে থাকলেন ততই গুলিয়ে ফেললেন তিনি। তাঁর বুঝতে বাকি রইল না আর। সারদা মা হলেন মায়েরই অংশ।

আরও পড়ুন : এই গাছের নীচে পঞ্চমুণ্ডির আসনে বসে দেবীর রূপ দর্শন, জানুন কীভাবে মায়ের দর্শন পেয়েছিলেন চন্দ্রচূড়

Published by:

Ei Muhurte

Share Link:

More Releted News:

ধূমপায়ী বাবার কারণেই সন্তানদের ডায়াবিটিসের ঝুঁকি বাড়ছে, গবেষণায় উঠে এল নয়া তথ্য

রান্নাঘরের ময়দা থেকেই বাস্তুদোষ? জেনে নিন সহজ সমাধান

বসন্তে আপনার সন্তানের শরীরে থাবা বসাতে পারে চিকেন পক্স, প্রতিরোধে ভরসা এই ‘পাতাটি’

গ্যাসের সঙ্কটে ভরসা ইন্ডাকশন! কিন্তু বিদ্যুতের বিল বাড়বে না তো? রইল সেভিংস টিপস

স্কেলিং-হোয়াইটনিং নয়, বাড়ির এই সহজ উপায়েই দূর হবে দাঁতের হলুদ দাগ

ঈশ্বরকে উৎসর্গ করা জিনিস কী করবেন? শাস্ত্রে কী বলে জানুন

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ