বাংলার “গু” বাঙালি নয়, জেনে নিন অজানা ইতিহাস

Share:

পৃথ্বীজিৎ চট্টোপাধ্যায় : বাংলায় এমন অনেক শব্দ আছে, যা চলতে ফিরতে উঠতে বসতে আমরা ব্যবহার করলেও আদতে কিন্তু সেই শব্দগুলি মোটেও বাংলা নয়। এমনই এক বহু প্রচলিত বহু সমাদৃত শব্দ হল “গু”,  যা মূলত মলের একটি প্রচলিত শব্দ। এটি এমন একটি শব্দ যা’র সাথে বর্জ্য, কৌতুক, ঘৃণা, সবই ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে রয়েছে। বিষ্ঠা, মল, পুরীষ, পায়খানা, পটি, টাট্টি, পুপ, পু  – এই সবই গু-এর একই অঙ্গে ভিন্ন নাম। তবে টাট্টি কথাটি যেমন মলের হিন্দি সমার্থক শব্দ, পুপ আমেরিকান, আবার পু ব্যবহৃত হয় ব্রিটিশ ইংরেজিতে; তেমনই বাংলায় বহুল জনপ্রিয় গু শব্দটি কিন্তু আদৌ বাংলা নয়। তাহলে গু শব্দটি বাংলা ভাষায় এসেছে কোথা থেকে ?

জানা যায়, বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত বহু শব্দ এসেছে ভিন্ন ভাষা থেকে, যার মধ্যে ফারসি একটি প্রধান উৎস। বাংলাদেশের স্বনামধন্য মোহাম্মদ আমীনের সম্পাদিত বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, ‘গু’ শব্দটি বাংলায় এসেছে ফারসি ভাষা থেকে। ফারসি ভাষায় ‘গু’ (گو) শব্দের অর্থ হলো মল, বিষ্ঠা বা পুরীষ—যা মানবদেহ বা প্রাণীর পরিপাকক্রিয়া শেষে নির্গত বর্জ্য পদার্থ।

বাংলা ভাষার ইতিহাসে আরবি-ফারসি প্রভাব স্পষ্ট। মধ্যযুগে ইসলাম প্রচারের সময় আরবি ও ফারসি ভাষাভাষী সুফি-সাধক, ব্যবসায়ী ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের মাধ্যমে বাংলা ভাষায় বহু শব্দ প্রবেশ করে। এই প্রভাবের ফলে অনেক ফারসি শব্দ স্থানীয় উচ্চারণ ও ব্যবহার অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়ে বাংলায় স্থায়ী হয়। ‘গু’ শব্দটিও সেই রকম একটি উদাহরণ, যা লোকভাষা ও প্রাত্যহিক কথাবার্তায় বহুদিন ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

এরপর ধীরে ধীরে ‘গু’ শব্দটি বাংলা ভাষায় একটি অশ্লীল বা কৌতুকপ্রবণ শব্দ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। যদিও এটি মূলত শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ার একটি বাস্তব দিক বোঝাতে ব্যবহৃত হয়, তবুও সামাজিক প্রেক্ষাপটে এটি সাধারণত প্রকাশ্য আলোচনায় এড়িয়ে চলা হয় বা হাস্যরসের উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বাংলা ভাষায় এর অনেক প্রতিশব্দ আছে, যেমন—মল, বিষ্ঠা, পায়খানা, ইত্যাদি। তবে ‘গু’ শব্দটির ব্যবহার অধিকতর অনানুষ্ঠানিক, কথ্য ও প্রায়শই শিশুতোষ বা ব্যঙ্গাত্মক প্রেক্ষাপটে দেখা যায়।

ভাষাবিদরা মনে করেন, লোকভাষায় ব্যবহৃত এমন শব্দগুলোর অস্তিত্ব ভাষার স্বাভাবিক প্রবাহের অংশ। প্রতিটি ভাষায়ই কিছু শব্দ থাকে যা শরীর বা দৈনন্দিন জীবনের নির্দিষ্ট, প্রায়শই বিব্রতকর, দিকগুলো বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। এই শব্দগুলো সমাজে সংবেদনশীলতা তৈরি করলেও ভাষার স্বাভাবিক বিবর্তন ও বহুমাত্রিক ব্যবহারের অংশ হিসেবে তা বিশ্লেষণযোগ্য।

ভারতীয় ইতিহাসের নানা সূত্র মারফত প্রাপ্ত তথ্যানুসারে জানা যায়, ভারতে ইউরোপীয় ঔপনিবেশিক শক্তিগুলির মধ্যে ফরাসিরা ছিল অন্যতম। ব্রিটিশদের মতো ফরাসিরাও ভারতে বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে আসে এবং পরে ধীরে ধীরে সামরিক ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে। ফরাসি উপনিবেশিক কার্যক্রম ১৭শ শতকে শুরু হয় এবং ২০শ শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত স্থায়ী ছিল। ১৬৭৩ সালে ফরাসিরা বঙ্গের চন্দননগরে প্রথম একটি কারখানা স্থাপন করে ও চন্দননগর বাংলার একটি প্রধান ফরাসি বাণিজ্য কেন্দ্র হয়ে ওঠে।

সবশেষে বলা যায়, ‘গু’ শব্দটির উৎপত্তি ফারসি ভাষা থেকে হলেও বাংলা ভাষায় এটি এক স্বতন্ত্র রূপ ও অবস্থান অর্জন করেছে। এটি বাংলা ভাষার সেই সমস্ত শব্দের উদাহরণ, যা অন্য ভাষা থেকে আগত হয়ে আমাদের কথ্য ও লোকজ সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। শব্দটি নিয়ে সামাজিক ধারণা ও ব্যবহারবিধি থাকলেও এর ঐতিহাসিক উৎস ও ভাষাগত বিবর্তন একে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভাষাচর্চার বিষয়বস্তুতে পরিণত করেছে।

প্রখর তাপপ্রবাহে শান্তিপুর ট্রাফিক গার্ডের উদ্যোগে জলছত্র, দেওয়া হচ্ছে তরমুজ ও জল

ঘরে বসে প্রতি মাসে ঢুকবে ১০ হাজার টাকা, Post Office-এর এই স্কিম সম্পর্কে জানেন?

গারুলিয়া পুরসভার ১১ জন কাউন্সিলরের গণ ইস্তফা, বাকি ১০ জন দিতে পারেন সোমবার

রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধে লড়তে গিয়ে মাইন বিস্ফোরণে ছিন্নভিন্ন তিন বাংলাদেশি যুবক

আরজি কর কাণ্ড: অভীক দে’র বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ

বামনগোলা গ্রামীণ হাসপাতালে বিজেপি বিধায়ক জুয়েল মুর্মু, বিশিষ্ট চিকিৎসকদের আনার পরিকল্পনা

অ্যাম্বুলেন্সে করে ছাগল চুরি! হুগলিতে গ্রেফতার তিনজন

মোদিকে আমেরিকা সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানালেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প

‘স্বাস্থ্যসাথীর উপভোক্তারাই জুলাই মাস থেকে পাবেন আয়ুষ্মান ভারতের কার্ড,’ ঘোষণা শুভেন্দুর

দক্ষিণ দমদম পুরসভার কাউন্সিলর সঞ্জয় দাসের অস্বাভাবিক মৃত্যু

মধ্যবিত্তের উদ্বেগ বাড়িয়ে ফের বাড়ল পেট্রোল-ডিজেলের দাম, কলকাতায় কত?

হাসপাতালের চার তলা থেকে পড়ে মৃত্যু চিকিৎসাধীন রোগীর, ব্যাপক চাঞ্চল্য রায়গঞ্জে

বিয়ের ২৫ দিনের মাথায় আত্মঘাতী নববধূ, শোক সামলাতে না পেরে গলায় দড়ি স্বামীর

তৃণমূলের পার্টি অফিস থেকে উদ্ধার সাদা থান, শোরগোল বোলপুরে