দেখতে থাকুন
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

জানেন কী, কেন মেঘনাদের নাম হয়েছিল ইন্দ্রজিৎ? জানুন অজানা কাহিনী

পৃথ্বীজিৎ চট্টোপাধ্যায় : “মেঘনাদ” নাম শুনলে প্রত্যেক খাঁটি বাঙালির মাথাতে প্রথমেই আসে মাইকেল মধুসূদন দত্তের লেখা “মেঘনাদবধ” কাব্যের কথা। যেখানে কবি নায়কের চরিত্রে উপস্থাপন করেছিলেন মেঘনাদ তথা লঙ্কেশপুত্র ইন্দ্রজিৎকে। যিনি ছিলেন একজন মহাবীর, প্রবল পরাক্রমশালী রাজপুত্র। পৌরাণিক কাহিনি মতে, মেঘনাদ ছিলেন রাবণ ও তাঁর প্রধানা মহিষী মন্দোদরীর জ্যেষ্ঠ সন্তান। জন্মের পর থেকেই অসাধারণ শক্তি ও পরাক্রমের পরিচয় দিয়েছিলেন তিনি। জানা যায়, তাঁর প্রথম কান্নার শব্দ বজ্রের গর্জনের মতো প্রতিধ্বনিত হয়েছিল, তাই তাঁর  পিতামাতা তাঁকে নাম দেন মেঘনাদ, যার অর্থ “মেঘের গর্জন।”

মেঘনাদ বড় হয়ে একজন অসাধারণ যোদ্ধা হয়ে ওঠেন, যার যুদ্ধকৌশল এবং পরাক্রম অনেককে ছাড়িয়ে যায়। তার পিতা রাবণ দেবতাদের বিরুদ্ধে এক মহাযুদ্ধে লিপ্ত ছিলেন, এবং মেঘনাদ ছিলেন তার সবচেয়ে শক্তিশালী সহযোদ্ধাদের একজন। তিনি যুদ্ধবিদ্যার নানান কৌশল আয়ত্ত করেন এবং মন্ত্রশক্তির সাহায্যে নিজেকে আরও শক্তিশালী করে তুলেছিলেন। মধুসূদনের ভাষায় বলতে গেলে বলা যেতে পারে,

কোন্ বীরবরে বরি সেনাপতি পদে,

পাঠাইলা রণে পুনঃ রক্ষঃকুলনিধি

রাঘবারি? কি কৌশলে, রাক্ষসভরসা

ইন্দ্রজিৎ মেঘনাদে – অজেয় জগতে –

ঊর্মিলাবিলাসী নাশি, ইন্দ্রে নিঃশঙ্কিলা?

পুরাণ থেকে প্রাপ্ত বিভিন্ন তথ্যানুসারে জানা যায়, এক মহাযুদ্ধে মেঘনাদের মুখোমুখি হয়েছিলেন দেবরাজ ইন্দ্র। গোপন এক মায়াবিদ্যার মাধ্যমে তিনি নিজেকে অদৃশ্য করে তোলেন এবং ইন্দ্রকে অতর্কিতে আক্রমণ করেন। প্রবল প্রতিরোধের পরেও দেবরাজ মেঘনাদের শৌর্যের সামনে পরাস্ত হন এবং বন্দী হয়ে পড়েন। এ ঘটনায় স্বর্গ ও পৃথিবী উভয়ই চমকিত হয়। দেবতারা তাদের রাজাকে উদ্ধার করতে ব্রহ্মার শরণাপন্ন হন। ব্রহ্মা মেঘনাদের কাছে উপস্থিত হয়ে বললেন, “ইন্দ্রকে মুক্তি দাও, বিনিময়ে আমি তোমাকে বর দেব।” মেঘনাদ এ সুযোগকে কাজে লাগাতে চাইলেন। বিন্দুমাত্র দ্বিধা না করে তিনি বললেন, “আমাকে অমরত্ব দান করুন!” ব্রহ্মা জবাব দিলেন, “আমি অমরত্ব দিতে পারি না, কারণ সকলেরই নিয়তির শৃঙ্খলে আবদ্ধ থাকতে হয়।”

এতে বিন্দুমাত্র নিরাশ না হয়ে মেঘনাদ বললেন, “তাহলে আমাকে এমন অজেয় অস্ত্র প্রদান করুন, যাতে আমি যুদ্ধক্ষেত্রে নিজেই আমার অমরত্ব অর্জন করতে পারি।” মেঘনাদের এই দৃঢ় সংকল্প ও সাহস দেখে ব্রহ্মা সন্তুষ্ট হলেন। ইন্দ্রকে মুক্তি দেওয়ার বিনিময়ে তিনি মেঘনাদকে অতুলনীয় দেবাস্ত্র দান করলেন। সেই সঙ্গে, ব্রহ্মা তাকে এক নতুন উপাধিতে ভূষিত করলেন—ইন্দ্রজিৎ, অর্থাৎ “যিনি ইন্দ্রকে জয় করেছেন।”

অতঃপর ইন্দ্রজিৎ বিজয়ীর বেশে লঙ্কায় ফিরে আসার পর তার নাম ছড়িয়ে পড়ে শক্তি ও নির্ভিকতার প্রতীক হিসেবে। স্বর্গীয় অস্ত্রের অধিকারী হয়ে তিনি রক্ষকূলপতি রাবণের সেনাবাহিনীর সবচেয়ে ভয়ংকর যোদ্ধা হয়ে ওঠেন এবং পরবর্তী যুদ্ধগুলিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ইন্দ্রজিতের কাহিনি তার উচ্চাকাঙ্ক্ষা, পরাক্রম ও অদম্য চেতনার প্রতীক। অমরত্বের সন্ধানে তিনি যুদ্ধজয়ের পথে পা বাড়ান, এবং তার বীরত্ব ও বিজয় তাঁকে পৌরাণিক ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ যোদ্ধার আসনে অধিষ্ঠিত করে।

এর পরবর্তী সময়ে রাম-রাবণের যুদ্ধে, রাম তাঁর বানর সৈন্য নিয়ে লঙ্কায় প্রবেশ করলে- ইন্দ্রজিৎ প্রথমে অদম্য অঙ্গদের কাছে পরাজিত হন। পরে রাবণসূত শক্তিশেলে লক্ষণকে আঘাত করলে- লক্ষণ অচৈতন্য হয়ে পড়েন। কিন্তু মহাবলী হনুমান ঔষধ এনে তাঁর চেতনা ফিরিয়ে আনেন। এরপর ইন্দ্রিজিৎ মায়া-সীতা প্রদর্শন করে কৌশলে রামকে পরাজিত করার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু তাতে ব্যর্থ হয়ে তিনি ফের  যুদ্ধে অজেয় হওয়ার সঙ্কল্প করে নিকুম্ভিলা যজ্ঞ আরম্ভ করেন। কিন্তু, যজ্ঞ শেষ হওয়ার পূর্বেই লক্ষণ উক্ত যজ্ঞ মন্দিরে নিরস্ত্র অবস্থায় ইন্দ্রজিত হত্যা করেছিলেন।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

বাংলার এই সীমান্ত শহর থেকেই ভিসা ছাড়াই চলে যান ভুটানে

কীভাবে চক্র ধ্যান আপনার জীবনকে আরও শান্ত, স্থির ও নিয়ন্ত্রিত করতে পারে

দাবদাহে হাঁসফাঁস অবস্থা? ভোটের লাইনে শরীর চাঙ্গা রাখতে চুমুক দিন বেলের শরবতে

সার্কাস প্রদর্শনী থেকে লাফ দিয়ে দর্শকদের কাছে ছুটে গেল বাঘ, তারপর….

ইসরো-র ‘যুবিকা’ কর্মসূচিতে সুযোগ পেল বালুরঘাটের অভ্র, দেশে র‍্যাঙ্ক ১৭৬

লস্যি না ঘোল গরমে কোনটি শরীরকে দ্রুত শীতল করে?

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ