এই মুহূর্তে

রোহিত-রিকেলটনের চওড়া ব্যাটে কলকাতাকে উড়িয়ে জয়ী মুম্বই, জঘন্য অধিনায়ত্ব রিঙ্কুর

নিজস্ব প্রতিনিধি, মুম্বই: রানের পাহাড় গড়েও বোলারদের হতশ্রী পারফরম্যাসের কারণে আইপিএলের প্রথম ম্যাচেই মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের কাছে হারতে হল কলকাতা নাইট রাইডার্সকে। রবিবার (২৯ মার্চ) প্রথমে ব্যাট করে অধিনায়ক অজিঙ্কা রাহানে ও অঙ্গকৃশ রঘুবংশীর জোড়া অর্ধশতরানের সুবাদে ২০ ওভারে চার উইকেট হারিয়ে ২২০ রান তুলেছিল নাইটরা। জবাবে রায়ান রিকেলটন ও রোহিত শর্মার বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের দৌলতে ১৯.১ ওভারে চার উইকেট হারিয়ে জয় হাসিল করে মুম্বই।

ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে এদিন  টস জিতে কেকেআরকে প্রথম ব্যাট করতে পাঠান মুম্বই অধিনায়ক হার্দিক পাণ্ড্য। গোড়াপত্তন করতে নেমে শুরু থেকেই আগ্রাসী মেজাজে ব্যাট করতে থাকেন কলকাতার অধিনায়ক অজিঙ্কা রাহানে ও ফিন অ্যালেন। মুম্বইয়ের তারকা বোলার ট্রেন্ট বোল্ট-হার্দিকদের তুলোধনা করেন দুজনে। হার্দিকের এক ওভারেই নেন ২৬ রান। যশপ্রীত বুমরাহের ওভারে যোগ করেন ১১ রান। শেষ পর্যন্ত পাওয়ার প্লে’র শেষ ওভারে শার্দূলের স্লোয়ার বল তুলে মারতে গিয়ে তিলকের তালুবন্দি হয়ে ফেরেন অ্যালেন। মাত্র ১৭ বলে ৩৭ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন তিনি। প্রথম পাওয়ার প্লে শেষে কলকাতার রান দাঁড়ায় এক উইকেটে ৭৮। তিন নম্বরে নেমে ২৫ কোটির ক্যামেরন গ্রিনও হাত চালিয়ে খেলতে থাকেন। ৭.৫ ওভারেই ১০০ রানের গণ্ডি পেরিয়ে যায় কলকাতা। তিনটি চার ও চারটি ছক্কার সাহায্যে মাত্র ২৭ বলেই অর্ধশতরান পূর্ণ করেন রাহানে। নবম ওভারে ফের মুম্বইকে স্বস্তি এনে দেন শার্দূল ঠাকুর। ফিরিয়ে দেন গ্রিনকে (১০ বলে ১৮)।

এর পর অধিনায়ক রাহানে ও অঙ্গকৃশ রঘুবংশী জুটি বেঁধে দলকে এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকেন। ১৪তম ওভারে কলকাতা অধিনায়ককে (৬৭) ফিরিয়ে মুম্বই সমর্থকদের মুখে হাসি ফোঁটান শার্দূল। ১৩.৫ ওভারেই ১৫০ রানের গণ্ডি পেরিয়ে যায় নাইটরা। ১৫তম ওভারে্ রঘুবংশীর সহজ ক্যাচ ফস্কান রোহিত শর্মা। তখন ২১ রানে ব্যাট করছিলেন নাইটদের তরুণ ব্যাটার। জীবন ফিরে পাওয়ার পরে আর ভুল করেননি রঘুবংশী। চতুর্থ উইকেটে রিঙ্কু সিংহের সঙ্গে জুটি বেঁধে ১৮.১ ওভারেই দলকে ২০০ রানের গণ্ডি পার করিয়ে দেন। ২৮ বলে ৬টি চার ও দুটি ছক্কার সাহায্যে নিজের অর্ধশতরান পূর্ণ করেন রঘুবংশী। যদো অর্ধশতরানের পরেই হার্দিক পাণ্ড্যের বলে তিলক বর্মার হাতে ক্যাচ তুলে সাজঘরে ফেরেন। শেষ ওভারে বল করতে এসে চাপের মুখে প্রথম দুই বল নো ও ওয়াইড করেন বুমরাহ। শেষ ওভারে রিঙ্কু সিংহ ও রমনদীপ রান যোগ করেন। কলকাতার ইনিংস থামে ২২০ রানে। রিঙ্কু সিংহ ২১ বলে ৩৩ এবং রমনদীপ চার বলে চার রান করে অপরাজিত থাকেন।

২২১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই হাত খুলে মারতে থাকেন মুম্বইয়ের দুই ওপেনার রায়ান রিকেলটন ও রোহিত শর্মা। বৈভব অরোরা থেকে বরুণ চক্রবর্তী-কলকাতার বোলারদের নিয়ে কার্যত ছেলেখেলা করেন দুজনে। ২৩ বলে তিনটি চার ও পাঁচটি ছক্কার সাহায্যে নিজের অর্ধশতরান পূর্ণ করেন রোহিত। পাওয়ার প্লে-তে কোনও উইকেট না হারিয়ে ৮০ রান যোগ করে মুম্বইয়ের ওপেনিং জুটি। ৮.১ ওভারেই দলকে ১০০ রানের গণ্ডি পার করিয়ে দেন। রোহিতের পরে অর্ধশতরান পূর্ণ করেন রিকেলটনও। দুটি চার ও ছয়টি বিশাল ছক্কার সাহায্যে ২৪ বলেই হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন। ১০ম ওভারে রিকেলটনের সহজ ক্যাচ ফস্কান বৈভব অরোরা।

দ্বাদশ ওভারে রোহিতকে অবশ্য তিনিই সাজঘরে ফেরান। আউট হওয়ার আগে ৩৭ বলে ছয়টি চার ও ছয়টি ছক্কার সাহায্যে ৭৮ রানের এক ঝোড়ো ইনিংস খেলেন  রোহিত। তিন নম্বরে নেমেই মারতে শুরু করেন সূর্যকুমার যাদব। ১২ ওভারেই দেড়শো রানের গণ্ডি পেরিয়ে যায় মুম্বই। শেষ ছয় ওভারে জয়ের জন্য মুম্বইয়ের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র ৪৬ রানের। ১৫তম ওভারে কার্তিক ত্যাগীর প্রথম বলে বাউন্ডারি হাঁকান সূর্য। পরের বলে বড় শট খেলতে গিয়ে রিঙ্কু সিংহের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন ভারতীয় টি টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক। ৭ বলে করেন ১৬। চার নম্বরে ব্যাট করতে নামা তিলক বর্মা বাউন্ডারি দিয়েই খাতা খোলেন।

রোহিতের মতোই শতরান থেকে বঞ্চিত থাকতে হল দুরন্ত খেলা রিকেলটনকে। ১৬তম ওভারে ব্লেজিং মুজারাবানির বলে দ্বিতীয় রান নিতে গিয়েছিলেন রিকেলটন। ফেরত পাঠান তিলক। পিছনে ফিরতে পারলেন না রিকেলটন। অনুকূলের সরাসরি থ্রোয়ে আউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন। ৪২ বলে করেন ৮০ রান। পাঁচ নম্বরে নেমে পর পর দুই বলে বাউন্ডারি হাঁকান হাদিক পাণ্ড্য। ১৭তম ওভারের শেষ বলে মাঠের বাইরে বল পাঠিয়ে দলকে ২০০ রানের গণ্ডি পার করিয়ে দেন তিলক।  পেশির চোটের কারণে মাঠ ছেড়ে চলে যেতে হয়েছিল রাহানেকে। অধিনায়কত্বের দায়িত্ব বর্তেছিল রিঙ্কু সিংহের উপরে। তিনি জঘন্য অধিনায়কত্ব করেন। কার্তিক ত্যাগী-বৈভব আরোরারা অকাতরে রান দিলেও সুনীল নারাইনকে দিয়ে বল করাননি তিনি। তবে ১৯তম ওভারে বল করতে এসে তিলককে (১৩ বলে ২০) ফেরান সেই নারাইন। শেষ পর্যন্ত শেষ ওভারের প্রথম বলেই বাউন্ডারি হাঁকিয়ে দলকে জয় এনে নমন ধীর। অধিনায়ক  হার্দিক ১১ বলে ১৮ রান করে অপরাজিত থাকেন।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

বেঙ্গালুরুর বোলারদের আঁটোসাঁটো বোলিংয়ে ১৪৬ রানেই গুটিয়ে গেল লখনউ

মুম্বই শিবিরে দুঃসংবাদ! আগামী কয়েকটি ম্যাচ থেকে ছিটকে যেতে পারেন রোহিত শর্মা

বুমরাহ-অক্ষর-কুলদীপের প্রশংসায় পঞ্চমুখ তারকা পাক ক্রিকেটার 

IPL-এ সুযোগ না পাওয়া খেলোয়াড়রাই PSL-এ খেলেন, পিসিবির সমালোচনায় সরব পাক ক্রিকেটার

মাত্র ৩২ বছরে অবসর নিলেন অলিম্পিক জয়ী ব্যাডমিন্টন তারকা, আবেগঘন পোস্টে যা লিখলেন…

বাদ পড়ছেন ২৫ কোটির গ্রীন? কেকেআরে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত অধিনায়ক রাহানের

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ