এই মুহূর্তে

সহবাসে বিদ্ধ সুশান্ত, নির্যাতিতা সিপিআই(এম)’রই সদস্য, চান মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ

Courtesy - Google

নিজস্ব প্রতিনিধি: শুধু নয় কঙ্কালকাণ্ড, এবার সহবাস কাণ্ডেও বিদ্ধ হলেন রাজ্যের পশ্চিম মেদিনীপুর(Paschim Midnapur) জেলার গড়বেতার(Garbeta) একসময়কার দাপুটে সিপিআই(এম)(CPIM) নেতা তথা দলের বিধায়ক এবং রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী সুশান্ত ঘোষ(Sushanta Ghosh)। সব থেকে বড় কথা তাঁর বিরুদ্ধে যে মহিলা অভিযোগ করেছেন তিনি তৃণমূলের কেউ নন, বাম জমানার অবসানের পরেও ১৩ বছর ধরে দলের সদস্য পদ ধরে রাখা দলেরই এক সদস্যা। তিনি সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন সুশান্তের বিরুদ্ধে যে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে দিনের পর দিন সুশান্ত সহবাস করেছেন তাঁর সঙ্গে। তবে দলের মানসম্মাণের কথা ভেবেই তিনি বিষয়টি নিয়ে এখনও পর্যন্ত থানা-পুলিশ করেননি। এমনকি মিডিয়ার সামনেও কোনও অভিযোগ করেননি। তবে সিপিএমের রাজ্য নেতৃত্বের কাছে বিষয়টি লিখিতভাবে জানিয়েছেন। সেই ঘটনার জেরে সুশান্ত ওপর রীতিমত ক্ষুব্ধ আলিমুদ্দিন। শোনা যাচ্ছে, সেখান থেকে এই ঘটনার জেরে সুশান্তবাবুকে তীব্র ভর্ৎসনা করা হয়েছে এবং দলের জেলা সম্পাদকের পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।  

আরও পড়ুন রাজ্য মন্ত্রিসভার রদবদলে সই রাজ্যপালের, ফাইল পৌঁছে গিয়েছে নবান্নে

সুশান্তবাবু ১৯৮৭ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত টানা ২৯ বছর গড়বেতা পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক ছিলেন। মন্ত্রীও হয়েছিলেন। ২০০২ সালের বেনাচাপড়া কঙ্কালকাণ্ডে নাম জড়ায় তাঁর। তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পর জেলেও যেতে হয়। পরে সুপ্রিম কোর্ট থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে নিজের খাসতালুকে ফেরেন তিনি। সিপিএম তাঁকে দলের জেলা সম্পাদক করে। কঙ্কালকাণ্ডের পর এবার সহবাসের অভিযোগ সামনে আসায় জেলাজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। অভিযোগকারী মহিলার বাড়ি মেদিনীপুর শহরে। তিনি বর্তমানে সেচদপ্তরে চাকরি করেন। বিষয়টি জানার পর মাসখানেক আগে সিপিএম তদন্ত কমিটি গড়ে। কমিটির সদস্যরা নির্যাতিতা মহিলার বাড়িতে ঘুরেও গিয়েছেন। তাঁরা বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেছেন। ওই মহিলার দাবি, সুশান্ত ঘোষ সম্পর্কে দলের কাছে এনিয়ে বহু তথ্য আছে। কিন্তু দলের একাংশ বিষয়গুলি চেপে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। আর তাই তিনি চান গোটা ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হস্তক্ষেপ করুন।

আরও পড়ুন এক শহর মূর্তি ভাঙে মুজিবের, আরেক শহর বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি আগলে রাখে

নির্যাতিতা জানিয়েছেন, ২০০৬ সালে রাজ্যের তৎকালীন মন্ত্রী সুশান্ত ঘোষের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। সেই সময় সুশান্তবাবু তাঁকে বলেছিলেন, তাঁর জন্য একটি চাকরির ব্যবস্থা করে দেবেন। সেইমতো তিনি একদিন বাড়িতে তাঁকে ডেকে পাঠান। এরপর নিজের বাড়িতেই ওই মহিলার সঙ্গে সুশান্তবাবু শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন। অন্তত নির্যাতিতার তেমনটাই দাবি। বিষয়টি জানাজানি যাতে না হয় তার জন্য সুশান্ত নাকি নির্যাতিতাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেন। পরে একাধিকবার ডেকে সহবাসে লিপ্ত হন। পরবর্তী সময়ে ওই মহিলার বিয়ে হলেও প্রাক্তন মন্ত্রী সম্পর্ক রেখে গিয়েছিলেন। এর ফলে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে ওই মহিলার সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যায়। তারপর সুশান্তবাবুর সঙ্গেই সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কিন্তু তিনি সুশান্তবাবু কোনওদিনই ওই মহিলাকে তাঁর স্ত্রী হিসাবে স্বীকৃতি দেননি। পরে নির্যাতিতা জানতে পারেন, আরও একাধিক মহিলার সঙ্গে সুশান্তবাবুর সম্পর্ক রয়েছে। নির্যাতিতা এখন চান সুশান্ত ঘোষের শাস্তি হোক। একইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরও(Mamata Banerjee) হস্তক্ষেপ চাইছেন তিনি। পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার ধৃতিমান সরকার এই ঘটনা প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, স্থানীয় থানায় অভিযোগ করলে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ করা হবে।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

প্রথম দফার ভোটের স্লিপ কারা দেবেন?‌ ‘ডেডলাইন’ বেঁধে নির্দেশ নির্বাচন কমিশনের

মহিলা ব্রিগেডে জোর, নবীনদের বাহিনী তৈরির প্রতিশ্রুতি, নববর্ষে ইস্তেহার প্রকাশ মীনাক্ষীর

‘‌জয় বাংলা’‌ স্লোগান শুনে মেজাজ হারালেন শুভেন্দু, তেড়ে যাওয়ার চেষ্টা, হাতাহাতি বালিতে

বৃহস্পতি থেকেই দক্ষিণবঙ্গে কালবৈশাখীর তাণ্ডব, ৬ জেলায় সতর্কতা জারি

রাস্তায় ছড়িয়ে পোড়া বিজেপির দলীয় পতাকা, ভোটের মুখে চাঞ্চল্য শান্তিপুরে

বজবজে বিরাট রোড–শো অভিষেকের, প্রার্থীকে নিয়ে ভাসলেন মানুষের ঢলে

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ