চোখ রাখুন
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

বাংলা বিভাজন আটকাব শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে: অভিষেক

নিজস্ব প্রতিনিধি: বাংলা একটাই। উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গে কোনও বিভাজন নেই। রাজ্যকে ভাগ করার চক্রান্ত বরদাস্ত করা হবে না। শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়াই করে বঙ্গভঙ্গের চক্রান্ত রোধ করা হবে। আলাদা করে উত্তরবঙ্গ যাঁরা দাবি করছেন তাদের চিহ্নিত করতে হবে, ধূপগুড়ির সভা থেকে এমনটাই বললেন তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (ABHISHEK BANERJEE)। এদিন তিনি বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাংলাকে ভাগ করতে দেওয়া হবে না। সেই সঙ্গে তাঁর বার্তা, সরকার মানে দল নির্বিশেষে সকলের। এদিন তিনি বলেন, দলমত নির্বিশেষে সকলের জন্য কাজ করবে রাজ্য সরকার। অভিষেকের কড়া বার্তা, ২১ জুলাই সমাবেশের আগে প্রত্যেকে নিজেদের রিপোর্ট কার্ড আনবেন।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ২১ জুলাই উপলক্ষ্যে যাঁরা সমাবেশে আসবেন, তাঁরা প্রত্যেকে সঙ্গে করে নিজেদের রিপোর্ট কার্ড নিয়ে আসবেন। দেখা হবে কে কত বুথে গিয়েছেন। এদিন তিনি বলেন, হয় ঠিকাদারি নয় তৃণমূল। একসঙ্গে দুটো কাজ করা যাবে না। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হুঁশিয়ারি, কোনও দাদা দিদি ধরে লাভ হবে না। রাজ্যজুড়ে তৃণমূলের একটাই নিয়ম।

এদিন বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, আগে গ্যাসের দাম ছিল ৪০০ টাকা, তা এখন বেড়ে হয়েছে ১১০০ টাকা। সরষের তেলের দাম আগে ছিল ১০০ টাকা। তা বেড়ে হয়েছে ২০০ টাকা। বলেন, রাজ্যকে কেন্দ্র তার প্রাপ্য টাকা দিচ্ছে না। আটকে রেখেছে ১০০ দিনের এক হাজার কোটি টাকা। বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্পের হাজার হাজার কোটি টাকা রাজ্য পাচ্ছে না বলেও দাবি করেন অভিষেক। বলেন, বিজেপি নেতারা রাজ্যের সমস্ত প্রাপ্য টাকা আটকে দিচ্ছে। ভোটে হারার শোধ এভাবেই তুলছে বিজেপি।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, কয়েকজন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে দেওয়াল তুলে দাঁড়িয়েছিল। সেই দেওয়াল ভেঙে দেওয়া হল। এদিন অভিষেকের কড়া বার্তা, নেত্রী একজনই, তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্য দাদা- দিদির ছত্রছায়ায় থেকে যা ইচ্ছে করা যাবে না। দাদা- দিদি ধরে মিলবে না নির্বাচনের টিকিট। তিনি বলেন, প্রত্যেকটি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছতে হবে স্থানীয় নেতৃত্বকে।

সভা থেকে এদিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে তৃণমূলের নির্বাচনী ফল ভাল হয়নি। অনেক মানুষ অভিমানে মুখ ফিরিয়েছে তৃণমূল থেকে। বলেন, গণতন্ত্রে গণদেবতা মানুষই। মানুষের রায় শিরোধার্য। তারপরেই বলেন, মানুষের পাশে থাকবে তৃণমূল। যে কোনও দরকারেই পাশে পাওয়া যাবে। তৃণমূল বিজেপির মত নির্বাচনের পাখি নয়, যে শুধু ভোটের সময় আসবে। আরও বলেন, তিনি সভায় আসার আগে ভেবেছিলেন মানুষ তেড়ে আসবে, তবে সেই ভাবনা ভুল এখানের মানুষ আপন করে নিলেন। এরপরেই তাঁর প্রশ্ন, তিনি যদি পারেন, তাহলে এখানের বাকি তৃণমূল নেতারা পারবেন না কেন?

প্রকল্পের নাম পরিবর্তন ইস্যুতেও সরব হয়েছেন অভিষেক। তিনি বলেন, প্রকল্পের নাম সেই জায়গা অনুযায়ী হবে। বাংলায় প্রকল্প বাংলার নামেই হবে। শুধু তাই নয়, বাংলাতেও বিভিন্ন জায়গা অনুপাতেও নাম হবে প্রকল্পের। বিস্ফোরক হয়ে বলেন, কেন্দ্রের প্রধানমন্ত্রীর নাম তুলে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী নিজের নাম বসিয়ে দেননি। জায়গা অনুপাতে প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। এইজন্যেই প্রকল্পের টাকা আটকে দিয়েছে বিজেপি পরিচালিত কেন্দ্র। তারপরেই বলেন, কেন্দ্রের টাকা লাগবে না। বাংলার সরকার নিজে করে দেখাতে জানে। অভিষেকের দাবি, কেন্দ্রের টাকা চায় না বাংলার মানুষ। তিনি বলেন, ক্ষমতায় আসার আগে বিজেপি বলেছিল দু’কোটি চাকরি হবে। তা হয়নি। কিন্তু বিজেপির দাবি ছিল লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প আদৌ সম্ভব হবে না। তা সম্ভব করে দেখিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলার ঘরে ঘরে পৌঁছে যাচ্ছে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা। এদিন তিনি বলেন, বাংলা তার প্রাপ্য টাকা দাবি করে। কেন্দ্র আলাদা করে টাকা দেয় না। এই রাজ্য থেকেই টাকা তুলে নিয়ে যায় কেন্দ্র তবু প্রাপ্য টাকাটুকু দেয় না। বিস্ফোরক হয়ে বলেন, আবাস যোজনার ৮ হাজার কোটি টাকা আটকে রেখেছে কেন্দ্র। বলেন, দিদি টাকা দিচ্ছে মোদি নিচ্ছে। কটাক্ষ করে আরও বলেন, একজন রেশন দিচ্ছে, অন্যজন ভাষণ। মানুষের প্রাপ্য টাকা না দিয়ে জনগণের টাকায় বিধায়ক কেনা বেচা হচ্ছে। তিনি বলেন, ডিজেলের দাম ছাপিয়ে গিয়েছে কেরোসিন। মূল্য বৃদ্ধিতে লাগাম টানতে ব্যর্থ বিজেপি। শ্রীলঙ্কা- আফগানিস্তানের মত অবস্থা হতে চলেছে ভারতের। জনগণকে তা রোধ করার বার্তা দেন অভিষেক।

সভা থেকে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে ডেইলি প্যাসেঞ্জারি করত বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। অথচ এখন দেখা মেলে না। তারপরেই বলেন, দিল্লির টাকার জন্য মানুষ হাত পেতে নেই। রাজ্য নিজেই রাজ্যের ব্যবস্থা করে নেবে। এদিন তিনি বলেন, তৃণমূল থেকে অনেকে হয়ত অভিমানে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, অনেকে ভোট দিয়েছেন- পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, তৃণমূল সকলের পাশে থাকবে। রাজ্য সরকার কোনও বিশেষ দলের নয়, সরকার সকলের, এমনই বার্তা ডায়মন্ড হারবারের সংসদের। দলের নেতা-নেত্রীদের প্রতি তাঁর বার্তা, মানুষের কাছে মাথা নত করে যাওয়ার। মানুষের জন্য কাজ করার। এও বলেন, গ্রহণযোগ্যতা থাকলে তবেই মিলবে নির্বাচনের টিকিট। 

এদিন সাধারণ মানুষের সঙ্গেও তাঁকে বারবার জনসংযোগ করতে দেখা গেল। আবার ধূপগুড়িতে যাওয়ার আগে তিনি গিয়েছিলেন ময়নাগুড়িতে। সেখানেই সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে তাঁদের কথা শোনেন অভিষেক। এমনকি সকলের সঙ্গে মিশে খেলেন চা। দোমহানি বাজারে গিয়ে বিক্রেতা ও সাধারণ মানুষের অভিযোগ শুনে এদিন তিনি সরাসরি ফোন করেন জেলা পরিষদের সভাধিপতিকে। দেড় মাসের মধ্যে অর্ধসমাপ্ত কাজ শেষ করার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।  

Published by:

Share Link:

More Releted News:

সুজাপুরে রোড শো’তে নজর কাড়লেন ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেট অধিনায়ক মোহাম্মদ আজহারউদ্দিন

মহিষাদলে সকলকে বের করে দিয়ে, ৯০ ঊর্ধ্ব বৃদ্ধার ভোট করানোর প্রতিবাদে জওয়ানদের ঘিরে বিক্ষোভ

রাসবিহারী কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থীর বাড়িতে আয়কর হানা বেআইনি, চিঠি নির্বাচন কমিশনে

প্রথম দফার বিধানসভা নির্বাচনের দিন গোটা বঙ্গে অস্বস্তিকর গরম থাকবে

খালি সিলিন্ডার কাঁধে নিয়ে প্রচার, গ‍্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে সরব বসিরহাট উত্তরের তৃণমূল প্রার্থী

‘‌বিজেপির পরিবারের লোকজন এখানে অবজার্ভার’‌, সোনারপুর থেকে তোপ মমতার

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ