চোখ রাখুন
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

দশম রাউন্ডে ১৪ হাজারেরও বেশি ভোটে এগিয়ে বায়রণ

নিজস্ব প্রতিনিধি: অঘটন আজও ঘটে। বাংলার(Bengal) বুকে। রাজনীতির উঠোনে। মুর্শিদাবাদ(Mirshidabad) জেলার সাগরদিঘীতে(Sagardighi) তৃণমূলের ৩ বারের বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী সুব্রত সাহার মৃত্যুতে উপনির্বাচন(Bye Election) হয়েছিল গত ২৭ ফেব্রুয়ারি। প্রথম থেকেই এই নির্বাচনে সম্ভাব্য জয়ী হিসাবে তুলে ধরা হয়েছিল রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল(TMC) কংগ্রেসের প্রার্থী দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু এদিন অর্থাৎ ২ মার্চ সকাল থেকে যখন সেই সাগরদিঘীর বুকেই উপনির্বাচনে প্রদত্ত ভোটের গণনা শুরু হয় তখন থেকেই কিন্তু কার্যত ‘অশনি সঙ্কেত’ নেমে এসেছিল জোড়াফুল শিবিরে। প্রথম রাউন্ডের গণনায় বাম-কংগ্রেস প্রার্থী(Left Congress Alliance Candiadet) বায়রণ বিশ্বাস(Bayron Biswash) এগিয়ে যান ৫১৫ ভোটে। এরপর সময় যতই এগিয়েছে একের পর এক রাউন্ডের গণনায় ততই এগিয়ে চলেছেন বায়রণ। এই বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে ১৬টি রাউন্ড গণনা হওয়ার কথা। দশম রাউন্ডের গণনা শেষে দেখা যাচ্ছে বায়রণ তাঁর নিকটতম প্রার্থী তৃণমূলের দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের থেকে ১৪ হাজারেরও বেশি ভোটে এগিয়ে আছেন। কার্যত জয়ের দোরগড়ায় তিনি। বাম-কংগ্রেস জোট কর্মী ও নেতাদের দাবি, বায়রণের জয় শুধু সময়ের অপেক্ষা মাত্র। তাই সেখানে শুরু হয়ে গিয়েছে আবির মেখে জয়ের উচ্ছ্বাস।  

আরও পড়ুন ‘ভোটকর্মীর দায়িত্ব নিতে চাই না’, চিঠির পাহাড় শিক্ষাদফতরে

সাগরদিঘী যে জেলার মাটিতে রয়েছে তা বরাবরই কংগ্রেস ও বামেদের গড় হিসাবেই পরিচিতি। তৃণমূলের জন্মের পরে দীর্ঘ লড়াই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে করতে হয়েছে মুর্শিদাবাদের রাজনীতিতে তৃণমূলকে জমি তৈরি করে দিতে। ২০১১ সালের নির্বাচনে বামেদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তৃণমূল জোট করেছিল কংগ্রেসের সঙ্গে। কিন্তু সেই জোট আবার মানতে চাননি অধীর চৌধুরী। তিনি আবার সেই সময়ে বামেদের সঙ্গে হাত ধরে তৃণমূলকে হারাতে উঠেপড়ে লেগেছিলেন। তার জেরে সাগরদিঘী ভিন্ন জেলার আর কোনও আসনেই ফোটেনি জোড়াফুল। সেই ফুলও আবার ফুটেছিল সুব্রত সাহার হাত ধরেই যার মৃত্যুতে এবার উপনির্বাচন হচ্ছে। ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সরাসরি বাম-কংগ্রেস জোট হয়েছিল সারা রাজ্যজুড়েই। সেই নির্বাচনে মুর্শিদাবাদ জেলার মাটিতে ৪টি আসনে ফুটেছিল জোড়াফুল। একুশের বিধানসভা নির্বাচনে সেই মুর্শিদাবাদ জেলাতেও ২২টি আস নের মধ্যে ২০টিতেই জয়ী হয়েছিল তৃণমূল। জেলার ৩টি লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যেও ২টি রয়েছে তৃণমূলের দখলে। তারপরেও সাগরদিঘীতে কেন তৃণমূল পিছিয়ে পড়ল সেটাই এখন শাসক শিবিরে সব থেকে বড় প্রশ্ন হিসাবে উঠে এসেছে।

আরও পড়ুন আবাস নিয়ে কেন্দ্রের ‘হুমকি চিঠি’ নবান্নে, ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী

এদিন ভোটগণনার শুরু থেকেই এগিয়ে রয়েছেন বাম সমর্থিত কংগ্রেস প্রার্থী বাইরন বিশ্বাস। এমনকী তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি বলে চিহ্নিত বুথগুলিতেও কংগ্রেস এগিয়ে যাওয়ায় চিন্তার ভাঁজ ঘাসফুলের কপালে। ভোট গণনার ট্রেন্ড দেখে রীতিমত উচ্ছ্বসিত বাম-কংগ্রেস নেতাকর্মীরা। সাগরদিঘি সহ মুর্শিদাবাদের বুকে শুরু হয়ে গিয়েছে অকাল দোল যা মূলত বাম-কংগ্রেস কর্মীরাই করছেন। আর এই সম্ভাব্য জয়ের জেরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বায়রণ বিশ্বাস জানিয়েছেন, ‘যেখানে খারাপ ফল হবে ভেবেছিলাম, সেখানেই যখন এগিয়ে তাহলে আর চিন্তা কী! জিতব জানতাম, কিন্তু মানুষ এতটা ভালোবাসবে ভাবিনি।’ শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ১০ রাউন্ড গণনা শেষে বায়রণ ১৪ হাজারের বেশি ভোটে এগিয়ে গিয়ে তাঁর জয় কার্যত নিশ্চিত করেছেন। আর বায়রণের এই জয়ের মধ্যে দিয়েই বাংলার বিধানসভায় আবারও ফিরছে কংগ্রেস। একুশের বিধানসভা নির্বাচনে বাম ও কংগ্রেস উভয়েই নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিল। সেই জায়গায় কংগ্রেসের প্রত্যাবর্তন রাজ্যের শাসক শিবিরের কাছে বড়সড় ধাক্কা না হলেও কংগ্রেসের নেতা থেকে কর্মী মায় সমর্থকদের কাছে টাটকা অক্সিজেন হয়ে উঠল। সন্দেহ নেই এদিনের ভোটের ফল তৃণমূলকেও কিছুটা হলেও ভাবাতে বাধ্য করবে।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

সুজাপুরে রোড শো’তে নজর কাড়লেন ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেট অধিনায়ক মোহাম্মদ আজহারউদ্দিন

মহিষাদলে সকলকে বের করে দিয়ে, ৯০ ঊর্ধ্ব বৃদ্ধার ভোট করানোর প্রতিবাদে জওয়ানদের ঘিরে বিক্ষোভ

রাসবিহারী কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থীর বাড়িতে আয়কর হানা বেআইনি, চিঠি নির্বাচন কমিশনে

প্রথম দফার বিধানসভা নির্বাচনের দিন গোটা বঙ্গে অস্বস্তিকর গরম থাকবে

খালি সিলিন্ডার কাঁধে নিয়ে প্রচার, গ‍্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে সরব বসিরহাট উত্তরের তৃণমূল প্রার্থী

‘‌বিজেপির পরিবারের লোকজন এখানে অবজার্ভার’‌, সোনারপুর থেকে তোপ মমতার

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ