চোখ রাখুন
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

‘বেশি বাড়াবাড়ি করলে কাপড় খুলে নেব’, দিলীপ হুমকির দাম চোকাচ্ছে বিজেপি

Courtesy - Facebook and Google

নিজস্ব প্রতিনিধি: জঙ্গলমহলের(Jungalmahal) কুড়মি ভোট হাতছাড়া হওয়ার শঙ্কায় গেরুয়া শিবির। উনিশের ভোটে জঙ্গলমহলের আদিবাসী ও কুড়মি ভোটের দাপটে জঙ্গলমহলের ৫টি লোকসভা কেন্দ্রেই ফুটেছিল পদ্মফুল। ঝাড়গ্রাম, মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, বিষ্ণুপুর, পুরুলিয়ায় জিতেছিল বিজেপি(BJP)। একুশের ভোটে আদিবাসী ভোট বিজেপির পাশ থেকে সরে গেলেও সঙ্গে ছিল কুড়মিদের ভোটব্যাঙ্ক। কিন্তু এবার ২৪’র মহাভোটে(Loksabha Election 2024) বিজেপির সেই ভোটব্যাঙ্কে ধস নামার প্রবল আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ওয়াকিবহাল মহলের দাবি, বিজেপির প্রতি কুড়মি সমাজের(Kurmi Society) ক্ষোভ এবার আছড়ে পড়েবে ইভিএমের অন্দরে। আর সেই ক্ষোভের পিছনে বড় কারণ হিসাবে কাজ করছে বঙ্গ বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি দিলীপ ঘোষের(Dilip Ghosh) ‘কাপড় খুলে নেওয়া’র হুমকি। কার্যত সেই হুমকির দামই এবার বিজেপিকে চোকাতে হবে জঙ্গলমহলের বুকে।

কুড়মি সমাজ এ রাজ্যে এখনও তপশিলী উপজাতির তকমা পায়নি। কিন্তু সেই তকমা প্রাপ্তির জন্য তাঁরা গত কয়েক বছর ধরে এ রাজ্যে বড়সড় আন্দোলনের ডাক দিচ্ছেন থেকেই থেকেই। সেরি আন্দোলন পর্বেই গতবছর দিলীপকে কুড়মি নেতারা প্রশ্ন করেছিলেন, ‘আমাদের দাবি নিয়ে আপনি নীরব কেন?’ উত্তরে দিলীপবাবু জানিয়েছিলেন, আন্দোলনকারী কুড়মিদের চাল, ডাল দিয়ে সাহায্য করেছেন। কিন্তু পাশাপাশি তাঁর গলায় ছিল হুমকি, ‘বেশি বাড়াবাড়ি করলে কাপড় খুলে নেব।’ দিলীপের সেই মন্তব্যের জেরে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে জঙ্গলমহল জুড়ে কুড়মি সমাজে। এখন সেই কুড়মিরাই পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামে প্রার্থী দিয়েছে বিজেপির জয়ের পথে কাঁটা বিছিয়ে দিতে। আর তাতেই স্পষ্ট হয়েছে, এবার জঙ্গলমহল থেকে কার্যত ‘উধাও’ হওয়ার পথে পদ্মশিবির। সেই কারণেই গেরুয়া নেতারা সরাসরি এখন আক্রমণ করছেন কুড়মি সমাজের নেতৃত্বকে।

এবার বিজেপির পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছেন আদিবাসী কুড়মি সমাজের নেতা অজিত মাহাতো(Ajit Prasad Mahato)। তিনি নিজে প্রার্থী হওয়ায় লড়াইটা এবার সরাসরি বিজেপির সঙ্গে কড়মি নেতৃত্বের হচ্ছে। পুরুলিয়া ছাড়াও বাঁকুড়া, মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রামে ভোটের ময়দানে রয়েছেন কুড়মি সমাজের প্রথম সারির নেতারা। অজিত মাহাতোর দাবি, ‘কেন্দ্রীয় সরকার কুড়মি সমাজের দাবি পূরণ করবে, এই আশায় কুড়মিরা উনিশে বিজেপিকে ভোট দিয়েছিল। কিন্তু পাঁচ বছর আমাদের জন্য কেউ কোনও কথা বলেননি। তাই নিজেদের কথা বলতে আমরা ভোটে দাঁড়িয়েছি। যারা কুড়মিদের বঞ্চিত করে অন্যদের চাকরি দিয়েছে, তারা এবার মজা টের পাবে। সেটা বুঝেই ঝাল ঝাড়তে ওরা মাঠে নেমেছে।’ বাস্তবিক অর্থেই কুড়মি সমাজ নিজেরাই এবার ভোটে লড়ায় বঙ্গ বিজেপির চোখে এখন সর্ষেফুল ফুটে গিয়েছে। এই অবস্থায় পদ্মনেতারা জঙ্গলমহলের নানা সভায় গিয়ে দাবি করছেন, তৃণমূল কংগ্রেসের ‘বি’ টিম হিসেবে কুড়মি সমাজ প্রার্থী দিয়েছে।

মজার কথা, লোকসভা ভোটে কুড়মি প্রার্থী জিতবেন, এমনটা প্রায় কেউই আশা করেন না। তবুও তাঁরা লড়ছেন। কেননা তাঁরা দিলীপকে আর বিজেপিকে উচিত শিক্ষা দিতে চান। কুড়মিদের কাপড় খুলে দেওয়ার হুমকির দাম কত হতে পারে আর ভোটে জিতে কুড়মিদের উপেক্ষার দাম কত হতে পারে সেটা এবার তাঁরা বিজেপিকে কড়ায়গ্নডায় বুঝিয়ে দিতে চান। বাংলার বুকে সবচেয়ে বেশি কুড়মি ভোট রয়েছে পুরুলিয়া জেলায়। ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, পশ্চিম মেদিনীপুরেও তাদের জনসংখ্যা কম নয়। পদ্মনেতাদের দাবি, কুড়মি প্রার্থীরা তৃণমূলের ভোট কেটে বিজেপির জয়ের ব্যবধান বাড়াতে সাহায্য করবেন। কিন্তু জঙ্গলমহলের অভিজ্ঞ ভোট পরিচালকদের দাবি, বিজেপির ভোটেই থাবা বসাবে আদিবাসী কুড়মি সমাজ। কুড়মিরা এবার প্রকাশ্যেই জানিয়ে দিচ্ছেন, তাঁদের কাছে এই নির্বাচন শুধু বিজেপিকে উচিত শিক্ষা দেওয়ার লড়াই নয়, এই নির্বাচন তাঁদের অধিকার প্রতিষ্ঠারও লড়াই। আর তাই জঙ্গলমহলের সব আসনে বিজেপির মুখ থুবড়ে পড়া এখন শুধুই সময়ের অপেক্ষা মাত্র।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

প্রথম দফার বিধানসভা নির্বাচনে ৩০৯ জন প্রার্থী কোটিপতি, সেরা ধনী কে?‌

কোচবিহারের মদনমোহন মন্দিরে মুখ্যমন্ত্রী, নিজের হাতে থালা সাজিয়ে দিলেন পুজো

প্রথম দফায় শুভেন্দু অধিকারীর নন্দীগ্রাম-সহ ৬৬ আসনে ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি

‘পদ্ম পাঁকে ফোটে, বাংলার মাটিতে ফুটবে না’, পুরুলিয়া থেকে বিজেপিকে হুঙ্কার সায়নীর

‘দাগ আচ্ছে হ্যায়’, দাগিদের প্রার্থী করায় তৃণমূলকে টেক্কা বিজেপির

বাংলায় প্রথম দফার ১৯ প্রার্থীর বিরুদ্ধে খুনের মামলা, কতজন ধর্ষণের আসামি?

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ