আমরা আসছি
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

‘‌আপনারা গান্ধিজিকে সম্মান না দিলে আমরা দেব’‌, কর্মশ্রী প্রকল্পের নাম বদলের ঘোষণা মমতার

নিজস্ব প্রতিনিধি:‌ বিরোধীদের হই–হট্টগোলের মধ্যেই বৃহস্পতিবার লোকসভায় পাশ হল ‘জিরামজি’ বিল। ১০০ দিনের কাজ অর্থাৎ মনরেগার নাম এভাবেই পরিবর্তন করে দিল মোদি সরকার। ধ্বনিভোটে বিলটি পাশ হতেই আজ সারাদিনের জন্য লোকসভার অধিবেশন মুলতুবি করে দেন স্পিকার। এই ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পের নামবদল নিয়ে শাসক–বিরোধী তরজা তুঙ্গে উঠেছিল। এই আবহে আজ কলকাতার ধনধান্য প্রেক্ষাগৃহে বিজনেস কনক্লেভ থেকে নামবদল নিয়ে সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর জানিয়ে দিলেন তাঁর কর্মশ্রী প্রকল্পের নাম বদল হবে। সেখানে থাকবে জাতির জনকের নাম।

‘কর্মশ্রী’ প্রকল্পের নাম বদলের সিদ্ধান্ত এখান থেকেই জানিয়ে দিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। ১০০ দিনের কাজের টাকা যখন নানা অছিলায় কেন্দ্রীয় সরকার দেয়নি তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার সেই বকেয়া টাকা জবকার্ড হোল্ডারদের দিয়েছিলেন। আর আজ, বৃহস্পতিবার আলিপুরের ধনধান্য অডিটোরিয়াম থেকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, কর্মশ্রী প্রকল্পের নতুন নাম হবে মহাত্মা গান্ধীর নামে। তিনি বলেন, ‘‌মনরেগা (১০০ দিনের কাজের প্রকল্প) থেকেই গান্ধীর নাম বাদ দেওয়া হল। লজ্জা হচ্ছে, জাতির জনককে ভুলে যাচ্ছি আমরা। আপনারা গান্ধীজিকে সম্মান না দিলে আমরা দেব। আমরা সম্মান দিতে জানি।’‌

এদিকে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসে, পশ্চিমবঙ্গ বাণিজ্যের জন্য উপযুক্ত, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে রাজ্য এগিয়ে। এই ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত এক কোটির বেশি মানুষ। ২০২৬ সালের ভোটের আগে ব্যবসায়ী সম্মেলনের মঞ্চ থেকে শিল্প ও বিনিয়োগে বাংলার ইতিবাচক ভাবমূর্তিকেই তুলে ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী। ইস্পাত, মণি–রত্ন, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সেমি কন্ডাকটর, পর্যটন এবং বস্ত্র শিল্প নিয়ে আরও কাজ করা হবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। এদিন লোকসভায় পেশ করা হয় ‘বিকশিত ভারত গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ)’। সংক্ষেপে ‘জিরামজি’। সেটাই ধ্বনিভোটে পাশ করানো হয়।

অন্যদিকে এতদিন গ্রামীণ কর্মসংস্থানের ওই প্রকল্পের নাম ছিল মহাত্মা গান্ধি ন্যাশনাল রুরাল এমপাওয়ারমেন্ট গ্যারান্টি অ্যাক্ট, ২০০৫ (সংক্ষেপে মনরেগা)। আর নয়া বিলে গান্ধীজির নাম না থাকায় প্রতিবাদে সরব হয়েছে বিরোধী দলগুলি। গান্ধিজির আসল নাম মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধি। আর মহাত্মা নামটি দেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। আসলে এভাবে পরোক্ষে বাংলাকে বঞ্চনারই বার্তা দিল কেন্দ্র। সেটা ভালভাবেই বুঝতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই আজ মুখ্যমন্ত্রীর কথায় উঠে আসে, ‘‌যারা বদনাম করছে, তারা অনেক সত্য জানে না। চুপ থাকা আমাদের আসল অস্ত্র। জেলাসির কোনও ওষুধ নেই। ওরা বাংলাকে সহ্য করতে পারে না। একটা সময় কলকাতা ছিল দেশের রাজধানী। ব্রিটিশরা বাঙালিদের বশে আনতে পারেনি, তাই রাজধানী সরিয়ে নিয়ে গিয়েছিল। আবার কি সেই সময় এসেছে? বাংলা কি তবে নতুন করে লড়াই শুরু করবে? আমি প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘ জীবন কামনা করি। কিন্তু অনুরোধ করব এমন কিছু করবেন না যার জন্য বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। দয়া করে এই বিভেদ করবেন না, সবাইকে নিয়ে চলুন। আমরা শান্তি চাই।’‌

Published by:

Share Link:

More Releted News:

নির্বাচন মিটতেই কালবৈশাখীর দাপট! দুর্যোগের দিনে ভোটকর্মীদের পাশে রেল

ভোট মিটলেও রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা সামলাতে ৫০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকছে

উদয়নারায়ণপুরে জওয়ানের ধাক্কায় বৃদ্ধের মৃত্যুর ঘটনায় কেন্দ্রীয় বাহিনীকে আড়াল কমিশনের

ভোট শেষের মুখে নোয়াপাড়ায় উত্তেজনা, বচসা ঘিরে তৃণমূল–বিজেপি সংঘর্ষ

দিনের শেষে মায়ের সঙ্গে কসবা কেন্দ্রে ভোট দিলেন মিমি চক্রবর্তী

ব্যারাকপুরে পুরসভার কর্মী রাজনৈতিক দলের এজেন্ট হয়ে বুথে বসার অপরাধে আটক

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ