Chitteswari Durga Temple : চিতে ডাকাতের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করেছিলেন এই মা দুর্গা

Share:

পৃথ্বীজিৎ চট্টোপাধ্যায় : প্রাচীন কালে এই বঙ্গভূমি ছিল ডাকাতদের আখড়া। বলতে গেলে অধিকাংশ ডাকাতরাই ছিল মাতৃভক্ত ও সৎ ব্রাহ্মণ । জানা যায়, তাঁরা লোভী জমিদার ও মহাজনদের কাছ থেকে ধন সম্পদ লুট করে গরিবদের ভরণপোষণের দায়িত্ব নিতেন। ১৭শ শতাব্দীর এমনই একজন দুর্ধর্ষ ডাকাত ছিলেন চিতে ডাকাত বা চিত্তেশ্বর ডাকাত, যিনি উত্তর ২৪ পরগনা এলাকার জঙ্গলাকীর্ণ প্রাচীন চিত্রপুর (বর্তমানে কাশিপুরের পার্শ্ববর্তী চিৎপুর) গ্রামে বাস করতেন। বলতে গেলে তাঁর নামেই বাঘে হরিণে এক ঘাটে জল খেত।

জনশ্রুতি আছে, একবার গঙ্গায় ভেসে আসা নিমগাছের একটি বিশাল গুড়ি থেকে চিতে ডাকাত একটি দুর্গা দেবীর প্রতিমা তৈরী করে তান্ত্রিক মতে পূজার্চনা করতে থাকেন ও তাঁর নামানুসারেই সেই দেবী দুর্গার নাম হয় ‘চিত্তেশ্বরী’। কথিত আছে, মায়ের আদি মন্দিরটি তিনি ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। চিতের মৃত্যুর পর দেবীমূর্তি মাটির তলায় সমাধিস্থ করা হয়। পরবর্তীতে, নৃসিংহ ব্রহ্মচারী নামে এক তান্ত্রিক সন্ন্যাসী দেবীবিগ্রহ ভূগর্ভ থেকে উদ্ধার করে সেই স্থানে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। জানা যায়, শেওড়াফুলি রাজবংশের রাণী নৃসিংহ ব্রহ্মচারীর অলৌকিকত্বের পরিচয় পেয়ে দেবী চিত্তেশ্বরীর নামে ঐ স্থানের অনেক সম্পত্তি দেবোত্তর করে দেন এবং তাঁকে পূজারী ও সেবায়েত নিযুক্ত করেন।

এই মন্দিরে এলে দেখা যাবে, এই চিত্তেশ্বরী দেবীমূর্তি হল সিংহবাহিনী দুর্গামূর্তি। তবে, মহিষাসুরমর্দিনী দুর্গার সঙ্গে অন্য দেবদেবীরা অনুপস্থিত। দেবীমূর্তির পাশে একটি বাঘেরও মূর্তি আছে, যা সুন্দরবনের ব্যাঘ্রদেবতা দক্ষিণরায়ের দ্যোতক। দেবীর প্রতিষ্ঠাকালে চব্বিশ পরগণা ও কলকাতার এই অঞ্চল যে সুন্দরবনের একটি অংশ হিসাবে জলাজঙ্গলময় ছিল এবং তখন এই এলাকায় বাঘেরও উপদ্রপ ছিল, এই মূর্তি তারই পরিচয় দেয়। প্রচলিত রীতি অনুসারে চিত্তেশ্বরী দেবীর পূজার আগে এই ব্যাঘ্র দেবতার পূজা করা হয়ে থাকে। বর্তমান মন্দিরের পিছনে একটি ছোট বাগানের মধ্যে পূর্বোক্ত তান্ত্রিক নৃসিংহ ব্রহ্মচারীর পঞ্চমুণ্ডের আসনটি এখনও আছে।

এই চিত্তেশ্বরী দুর্গামূর্তিটিই কলকাতার দুর্গার প্রাচীনতম মূর্তি হিসাবে বিবেচিত। চিত্তেশ্বরী মন্দিরের বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক কাশীশ্বর রায় চৌধুরী চিতে ডাকাতের প্রসঙ্গে বলেছেন  “চিত্তে ডাকাত ধনী জমিদার ও সর্দারদের কাছ থেকে ছিনতাই করতেন এবং গরীবদের মধ্যে সম্পদ বিতরণ করতেন। দেবী দুর্গার কাছে প্রার্থনা করা এবং নিরলস ডাকাতির মধ্যেই তিনি জীবন চালিয়ে গিয়েছিলেন।” চিতে ডাকাতের সময়কালে চিত্তেশ্বরী দুর্গা দেবীর পূজার রীতি বেশ কিছুটা আলাদাই ছিলেন, কারণ তৎকালীন সময়ে ডাকাতরা সাধারণত কালীর উপাসক ছিল, তারা দুর্গার পুজো করতনা। চিত্তেশ্বরী দুর্গাকে প্রসন্ন করার জন্য বলি হিসাবে মানুষের মাংস নিবেদন করাও ছিল নজিরবিহীন। এই মন্দিরে একটি সুপ্রাচীন শিবলিঙ্গ ও  রাধা কৃষ্ণেরও বিগ্রহ বর্তমান। দুর্গাপুজোর সময় খুব ধুমধাম করে এই মন্দিরে দুর্গাপুজো পালিত হয়। 

ঢাকার সাভারে চলন্ত বাসেই মহিলা যাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা, গ্রেফতার চালক-সহ তিন

পার্লারে যাওয়ার দিন শেষ! রান্নাঘরের চেনা জিনিসেই মিলবে উজ্জ্বল ও মোলায়েম ত্বক

খালি পেটে ভুলেও চা-কফি নয়! সুস্থ থাকতে সকালের খাবারে বেছে নিন ৮ সুপারফুড

পায়ে অসাড়তা সাধারণ ক্লান্তি নয়, হতে পারে পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথির প্রাথমিক লক্ষণ

কমনওয়েলথ গেমসে রুপো জিতলেন ভারোত্তোলক জ্ঞানেশ্বরী যাদব

তীব্র গরমে মেয়েরা কেন ছটফট করেন? নেপথ্যে থাকতে পারে এই ৫ কারণ

নিশানায় ভারত! লাদাখ-অরুণাচল সীমান্তে ১১টি ‘জে-২০ মাইটি ড্রাগন’ যুদ্ধবিমান মোতায়েন চিনের

জনপ্রিয় গান নিয়ে রিল বানিয়ে তারেক সরকারের রোষানলে হিন্দু শিক্ষিকা

কারুরে পদপিষ্টের ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে সরকারি চাকরির নির্দেশিকা বাতিল মাদ্রাজ হাইকোর্টের

মাঝ আকাশে ধোঁয়া, ১৯৪ যাত্রী নিয়ে রাজকোটে জরুরি অবতরণ মুম্বই-দুবাইগামী ইন্ডিগোর বিমানের

যোগ্যরা সবাই অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পাবেন, ধোঁয়াশা কাটালেন শুভেন্দু

প্রতিবেশীর বাড়িতে খাওয়ার অপরাধে পাষণ্ড মায়ের বেদম মারে মৃত্যু মেয়ের

অনিশ্চয়তায় ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর ভবিষ্যৎ , চরম আর্থিক সঙ্কটে আল নাসার ক্লাব

অভিমুখ বদলে কলকাতার আরও কাছে অতি গভীর নিম্নচাপ, রাতেই প্রবল দুর্যোগের আশঙ্কা