মালিয়াড়া রাজপরিবারের দুর্গাপুজো শুরু হয়ে গেল প্রতিপদ থেকেই

মালিয়াড়া রাজপরিবারের মন্দিরে পুজো শুরু হয় মহালয়ার পরের দিন অর্থাৎ প্রতিপদ তিথিতে। সপ্তমী থেকে মন্দিরে শুরু হওয়া হোম একটানা চলে নবমীর দুপুর পর্যন্ত।

Share:

নিজস্ব প্রতিনিধি: গতকাল ছিল মহালয়া। আজ প্রতিপদ। এদিন থেকেই শুরু হয়ে গেল বাঁকুড়া(Bankura) জেলার বড়জোড়া(Borjora) ব্লকের মালিয়াড়া রাজবাড়ির(Maliyara Royal Palace) দুর্গাপুজো। গত পাঁচশো বছরে ইতিহাসের বহু উত্থান-পতন দেখেছে এই রাজবাড়ি। এক সময়ের বিশাল রাজপ্রসাদের ইট খসতে খসতে এখন তা প্রায় মিশে গেছে মাটিতে। রাজ্যপাট খুইয়ে মালিয়াড়া রাজপরিবারের অবস্থা এখন গ্রামের আর পাঁচটা পরিবারের মতোই। কিন্তু পুজো(Durga Puja) এলেই আজও এই রাজবাড়ি জানান দেয় তার অতীত ঐতিহ্য আর আভিজাত্য। পাঁচশো বছর পেরিয়েও যে পুজোর গরিমা ম্লান হয়নি এতটুকুও। অতীতে পুজোর প্রতিটি নির্ঘণ্ট তোপধ্বনীর সাহায্যে সূচিত হলেও বর্তমানে শুধুমাত্র অষ্টমী ও নবমীর সন্ধিক্ষণে তোপ দাগা হয়। সপ্তমী থেকে মন্দিরে শুরু হওয়া হোম একটানা চলে নবমীর দুপুর পর্যন্ত। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এখন এই পুজোর জেল্লা-জমক অনেকটাই ফিকে হয়ে গেছে।

জানা গিয়েছে, স্বয়ং মুঘল সম্রাট আকবরের(Emperor Akbar) পাঞ্জা বা নির্দিষ্ট এলাকায় শাসনের অধিকারনামা নিয়ে দামোদর নদ পেরিয়ে বাঁকুড়ার মালিয়াড়া গ্রামে উপস্থিত হন কনৌজ থেকে আসা ব্রাহ্মন দেও অধুর্য। সে সময় দামোদরের পশ্চিম পাশ ছিল ঘন জঙ্গলে ঢাকা। জঙ্গলে ঘেরা ছোট ছোট গ্রামগুলি ছিল স্থানীয় আকুড়ে সম্প্রদায়ের দখলে। মালিয়াড়া গ্রামে পা দিয়েই সেই আকুড়েদের নিজের বশে এনে মালিয়াড়া রাজত্বের সূচনা করেন দেও অধুর্য। ধীরে ধীরে নিজের বুদ্ধিমত্তা ও ক্ষমতায় মালিয়াড়া রাজবাড়ির সীমানা ছড়িয়ে পড়ে পূর্বে দামোদর থেকে পশ্চিমে শালী নদী পর্যন্ত। কয়েকশো মৌজার হাজার হাজার বিঘে জমি মালিয়াড়া রাজপরিবারের অধিকারে আসে। রাজত্বের বিপুল আয়ে অল্প দিনেই ফুলেফেঁপে ওঠে রাজকোষ। মালিয়াড়া গ্রামে রাজার সুবিশাল প্রসাদ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি রাজ প্রাসাদের অন্দরেই তৈরি হয় বিশাল দুর্গা দালান। রাজত্ব প্রতিষ্ঠার প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই আজ থেকে প্রায় পাঁচশো বছর আগে রাজ পরিবারের দুর্গাদালানে মহা সমারোহে শুরু হয় দুর্গাপুজো। গোড়া থেকেই এই মন্দিরে অষ্টধাতুর মূর্তিতে পুজো চলে আসছে।

তবে স্বাধীনতার পর থেকেই এই রাজবাড়ির পুজোর জৌলুস কমতে শুরু করেছে। মালিয়াড়া রাজপরিবারের মন্দিরে পুজো শুরু হয় মহালয়ার পরের দিন অর্থাৎ প্রতিপদ তিথিতে। রাজ্যপাট থাকাকালীন পুজোর কয়েকটা দিন ধরে রাজবাড়ির প্রাঙ্গনে হত বাইজি নাচ, রামলীলা, সংকীর্তন-সহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান। এখন সেই সবই ইতিহাস। রাজন্য প্রথা বিলোপের পর ক্রমেই অর্থনৈতিক ভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে মালিয়াড়ার রাজপরিবার। বিশাল রাজপ্রাসাদ সংস্কারের অভাবে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। প্রাচীন মন্দিরে গা থেকে খসে পড়ছে পলেস্তরা। কিন্তু দুর্গাপুজার নিয়ম নিষ্ঠা ও আচারে এতটুকুও আঁচ পড়তে দেননি রাজ পরিবারের সদস্যেরা । পুজোতে আগে যে জৌলুস ছিল, এখন তার সিঁকি ভাগও নেই। কিন্তু পুজোর নিয়ম নিষ্ঠা আজও একই রকম আছে। রাজবাড়ির এই পুজোর আবেগ রীতিমতো তাড়া করে বেড়ায় এলাকার মানুষকে। পুজোর কয়েক দিন দূর-দূরান্তের বহু মানুষ ছুটে আসেন প্রাচীন এই রাজবাড়ির পুজো দেখতে।

বাংলাদেশের সংসদে দাঁড়িয়ে জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধের দাবি বিএনপি সাংসদের

১৭ বছর পর ইংল্যান্ডে টেস্ট খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ

৬৬ বছর ধরে বদলানো হয়নি রান্নার তেল, রেস্তোরাঁর আজব দাবিতে শোরগোল নেটমহলে

বর্ষার শুরুতেই ফুলিয়ার বয়রার ঘাটে গঙ্গা ভাঙন শুরু,ঘুম উড়েছে গ্রামবাসীদের

পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি অনুপস্থিত, টেবিলে ছবি রেখে ডিম ছুড়লেন বিজেপি কর্মীরা

সন্ধ্যা থিয়েটারে পদপিষ্ট কাণ্ডে ভার্চুয়ালি আদালতে হাজিরা দিলেন অল্লু, পরবর্তী শুনানি ৬ জুলাই

উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ জ্যোতি চক্রবর্তী গ্রেফতার

তৃণমূল দখল করার পর অভিষেককে সাসপেন্ড করলেন ঋতব্রতরা

মমতাকে সরিয়ে অরূপ রায়কে চেয়ারম্যান করল বিক্ষুব্ধ তৃণমূলীরা

মঙ্গলে বড়সড় প্রত্যাঘাত করতে পারে শেখ হাসিনার দল, ঢাকা-সহ ৬ জেলায় নামল সেনা

ইস্তফা দিলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টারমার, ১০ বছরে গদি ছাড়লেন ছয়জন

হরিশ্চন্দ্রপুর ঘোড়াগাড়ি ষ্ট্যান্ডে গজিয়ে ওঠা অবৈধ নির্মাণ ভাঙা শুরু প্রশাসনের

ইউনেস্কোর নাম ভাঙিয়ে টাকা আয়, দু’সপ্তাহের রক্ষাকবচ পেলেন সস্ত্রীক ইন্দ্রনীল সেন

বারাসত গভর্নমেন্ট কলেজের ভেতর থেকে উদ্ধার প্রচুর পরিমাণে কন্ডোম ও মদের বোতল