চোখ রাখুন
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

গাঁটের কড়ি খরচ করে তেগাছিয়ার নির্দল প্রার্থী ‘দিনমজুর’ অভিজিৎ হাজরা

নিজস্ব প্রতিনিধি: পেশায় দিনমজুর। দৈনিক আয় চারশো টাকা। বাড়িতে দাদা, বৌদি, মা রয়েছেন। কিন্তু সংসার করা হয়নি। অর্থাৎ নিজের বলতে শুধুই পরিবার। তবে রোজগার ভাল না হলেও চোখে একরাশ স্বপ্ন রয়েছে। না নিজের জন্যে নয়, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর, এলাকার উন্নতির স্বপ্ন, মানুষজনের সমস্ত বিপদে তাঁদের সাহায্য করার স্বপ্ন। সেই মনোভাব নিয়েই একা লড়াই করে ২০০৩ সালে নিজের গ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগ এনেছেন তিনি। তার আগে গ্রাম বিদ্যুৎ ছিল না। সম্পূর্ণ তাঁর নাছোড় মনোভাবের কারণে এলাকার মানুষরা বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ পেয়েছেন। সেই থেকে তেগাছিয়া এলাকার মানুষের কাছে বেশ জনপ্রিয় অভিজিৎ হাজরা। যিনি আগামী বিধানসভা নির্বাচনে হাওড়ার আমতা-2 ব্লকের কুশ বেড়িয়া পঞ্চায়েত-সংলগ্ন গ্রাম তেগাছিয়ার নির্দল প্রার্থী হয়ে লড়বেন।

তবে নিজের গ্রাম এবং গ্রামবাসীদের জন্যে আরও অনেক উন্নয়ন করতে চান তিনি। সেই মনোভাব নিয়েই ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে দাঁড়িয়েছেন অভিজিৎ হাজরা। তাঁর কথায়, সাধারণ মানুষ হয়ে তাঁর দ্বারা গ্রামের উন্নতি করা সম্ভব নয়, তাই তাঁর পাওয়ার দরকার। সেই কারণেই ভোটে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। এলাকার মানুষজনের কাছেও তিনি খুব প্রিয়। একার লড়াইয়ে ২০০৩ সালে তাঁর গ্রামে ইলেকট্রিক এসেছে। জানা গিয়েছে, নিজের গাঁটের কড়ি খরচ করেই এবার বিধানসভা ভোটে দাঁড়িয়েছেন অভিজিৎ হাজরা। তাঁকে প্রার্থী হিসেবে পেয়ে রীতিমতো চমকে গিয়েছেন তাঁর এলাকার মানুষজনও। এবং তাঁরা খুব খুশিও হয়েছেন। তিনি তেগেছিয়া হাজরা পাড়ার বাসিন্দা। তিনি এলাকার মানুষজনের নানা সুবিধা-অসুবিধা শোনার জন্যে সাজেশন বক্সেরও আয়োজন করেছেন। যেটি তেগাছিয়া মাঠ সংলগ্ন মন্দিরে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বসানো থাকে। তাতেই সকাল বিকেল নিজেদের সমস্ত সুবিধা-অসুবিধার জানাচ্ছেন গ্রাম বাসীরা। সেগুলি শুনে যথাসম্ভব সমাধান করার চেষ্টা করছেন অভিজিৎ।

বলা চলে, গরীবের মসিহা হয়ে উঠেছেন তিনি। আগামীতে এলাকার উন্নয়নের জন্য কি কি চাই তা জানিয়ে অনেকেই চিঠি লিখে বাক্সে ফেলছেন। তবে কেন ভোটে দাঁড়ালেন, এই প্রশ্নের উত্তরে অভিজিৎ নিজে জানিয়েছে, ‘বিধানসভা নির্বাচন প্রক্রিয়া কেমন তা জানতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে নিজের উদ্যোগে অনেকটা লড়াই করে ২০০৩ সালে এই গ্রামে বিদ্যুৎ এনেছি। আশা করি ভালই ভোট পাবো। আগামী দিনে আরও কিছু করতে চাই। এলাকার উন্নয়ন করতে চাই। তাই হাতে পাওয়ার চাই। সেই কারণেই ভোটে দাঁড়িয়েছি, একবার ভোটে দাঁড়ানোর ইচ্ছে ছিল।” চারশো টাকা দৈনিক আয়ের এই নির্দল প্রার্থী তাই এবারের ভোটে ব্যতিক্রম। তাঁকে সমর্থন করে একজন স্থানীয় বলেছেন, ‘ওর জন্যে আমাদের গ্রামে কারেন্ট এসেছে। আমরা খুব খুশি। অবশ্যই চেষ্টা করব, তাঁকে ভোট দিয়ে জেতানোর। ও অনেক খেটেছে গ্রামে কারেন্ট আনার জন্যে। ও নির্দল প্রার্থী হয়ে দাঁড়িয়েছে। ওর প্রতীক চিহ্ন কলিং বেল। আমরা সবাই ওঁকে জেতাবো।’

Published by:

Share Link:

More Releted News:

খাস কলকাতায় সিপিএমে ভাঙন, নির্বাচনের প্রাক্কালে একঝাঁক যুবনেতার যোগ তৃণমূলে

‘‌যারা বলছে তাড়িয়ে দেব, তাদের ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠাব’‌, তোপ মমতার

ভোটমুখে বড় সাফল্য নবদ্বীপ থানার পুলিশের, নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্য সহ গ্রেফতার ১

LIVE

LIVE ‘নির্লজ্জ অর্থমন্ত্রী এসে কার্ড বিলি করছে’, নিশানা মমতার

হিঙ্গলগঞ্জে বিএসএফ ক্যাম্পে ভয়াবহ ঘটনা! কীভাবে প্রাণ হারালেন জওয়ান?

সল্টলেকে ভয়াবহ দুর্ঘটনা, ডিভাইডারে ধাক্কা খেয়ে দুমড়ে-মুচড়ে গেল হন্ডা গাড়ি, আহত ৪

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ