‘অধ্যক্ষকে স্বেচ্ছায় ছুটিতে চলে যেতে বলুন’, সন্দীপ কাণ্ডে কড়া প্রতিক্রিয়া হাইকোর্টের

আর জি করের পদত্যাগী অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষকে নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়ে দিল কলকাতা হাইকোর্ট। যেতে বলা হল ছুটিতে। খুশি আন্দোলনকারীরা।

Share:

নিজস্ব প্রতিনিধি: জুনিয়র চিকিৎসকদের লাগাতার আন্দোলনের চাপে সোমবার সকালে পদত্যাগের কথা ঘোষণা করেছিলেন আর জি করের অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ(Sandip Ghosh)। বিকেল গড়াতে না গড়াতেই কলকাতার(Kolkata) ন্যাশানাল মেডিকেল কলেজের(National Medical College) অধ্যক্ষের(Principal) পদে তাঁকে বহাল করে স্বাস্থ্য ভবন। আর তারপর থেকেই ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ চত্বরে বিক্ষোভের কর্মসূচি ঘোষণা করে পড়ুয়াদের একাংশ। তালা ঝোলানো হয় অধ্যক্ষের জন্য নির্ধারিত ঘরে। আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের দাবি, কোনও অবস্থাতেই তাঁরা কলকাতার ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের নতুন অধ্যক্ষ হিসাবে সন্দীপকে মেনে নেবেন না। মঙ্গলবার সকালে অধ্যক্ষের জন্য নির্ধারিত ঘরের সামনে অবস্থানে বসেন বেশ কয়েক জন পড়ুয়া। সেখানে সন্দীপের বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়া হয়। সন্দীপ যাতে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে না পারেন, তার জন্য ব্যারিকেড গড়ে প্রতিরোধের কথাও ভাবছেন চিকিৎসকেরা। তার মধ্যেই সন্দীপকে নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়ে দিল কলকাতা হাইকোর্ট(Calcutta High Court)।

আরও পড়ুন, বুধে কন্যাশ্রী দিবসের ১১ বছরে পদার্পণ, মমতার সঙ্গেই হবে উদযাপন

আর জি করে মহিলা চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের মামলায় মোট ৪টি জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছে কলকাতা হাইকোর্টে। এদিন সেই সব মামলার একযোগে শুনানি শুরু হয়েছে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানম এবং বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চে। সেখানেই প্রধান বিচারপতির মন্তব্য, ‘একটি আবেদনে বলা হয়েছে দেখলাম চিকিৎসকরা ধর্না দিচ্ছেন। এটা সত্যি হলে রোগীরা ভুক্তভোগী হবেন। এটা উচিত নয়। ওই ঘটনা শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, সারা ভারতে ছড়িয়ে পড়েছে। খুবই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। বিকেল ৩টে পর্যন্ত সময় দিলাম। এর মধ্যে অধ্যক্ষকে স্বেচ্ছায় ছুটিতে চলে যেতে বলুন। না হলে আমরা নির্দেশ দিতে বাধ্য হব।’ কার্যত কলকাতা হাইকোর্টের এই নির্দেশ ন্যাশানাল মেডিকেল কলেজের পড়ুয়াদের স্নদীপ বিরোধী আন্দোলনে বড় হাতিয়ার হয়ে উঠল। একই সঙ্গে রাজ্য সরকারের মাথা ব্যাথা বাড়ল সন্দীপকে ঘিরে। তবে স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশের পরে সম্ভবত ন্যাশানাল মেডিকেল কলেজের পূর্বতন অধ্যক্ষ অজয়কুমার রায়কেই ফের তাঁর আগের পদে পুনর্বহাল করতে পারে।

আরও পড়ুন, মহিলাদের সমান Child Care Leave পাবেন পুরুষেরাও, রায় কলকাতা হাইকোর্টের

এদিন হাইকোর্টে মামলার শুনানির আগেই অবশ্য সকাল ১০টা নাগাদ ন্যাশানাল মেডিকেল কলেজে গিয়েছিলেন সেখানকার রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান তথা এন্টালির তৃণমূল বিধায়ক স্বর্ণকমল সাহা। সঙ্গে ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী জাভেদ খানও। কিন্তু তাঁদের দেখামাত্রই আন্দোলনকারীরা তাঁদের ঘিরে ধরে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দিতে থাকেন। স্লোগানের সঙ্গে বলা হয়, ‘আর জি করের আবর্জনা ন্যাশনাল মেডিকেলে চাই না।’ সেই সময় স্বর্ণকমল পড়ুয়াদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনাদের কথা শুনব না, এমন নয়। আপনাদের বক্তব্য শুনতেই এসেছি।’ তাঁর এই আশ্বাসে স্লোগান দেওয়া বন্ধ হয়। দু’পক্ষের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়। সেখানে বিক্ষোভরত পড়ুয়ারা প্রশ্ন তোলেন, আর জি করের সদ্য পদত্যাগী অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষকে কেন ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ পদে ‘চাপিয়ে দেওয়া হল’? পড়ুয়াদের কয়েকজন আবার জানান, তাঁরা সন্দীপকে নিয়ে ভয়ে আছেন। তাঁরা ন্যাশানাল মেডিকেল কলেজকে আর জি কর বানাতে চান না।

আরও পড়ুন, Passport’র নথি যাচাইয়ের কাজে অফিসারদের জন্য Bodycam আনছে রাজ্য পুলিশ

পড়ুয়াদের ক্ষোভ-বিক্ষোভের কথা মন দিয়ে শোনেন স্বর্ণকমল এবং জাভেদ। তাঁরা পড়ুয়াদের জানান, কাউকে চাপিয়ে দেওয়া হয়নি। পড়ুয়াদের আপত্তি এবং ক্ষোভের কথা তাঁরা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জানাবেন বলে আশ্বাস দেন স্বর্ণকমল। পড়ুয়ারা অবশ্য জানান, ‘আমরা অবস্থান শুরু করেছি। লাগাতার আন্দোলন চলবে। ২৪ ঘণ্টা আন্দোলন চালাব আমরা। এক মুহুর্তের জন্য অধ্যক্ষের ঘরের সামনের দরজা আমরা ছাড়ব না। সন্দীপ ঘোষকে আমাদের এখানে পাঠানো মানে, আমাদের এখানকার নিরাপত্তাও বিঘ্নিত হতে পারে।’ এরপরেই হাসপাতাল ছাড়েন দুই বিধায়ক। এদিকে কলকাতা হাইকোর্টে ৪টি জনস্বার্থ মামলার শুনানি চলাকালীন সময়ে সন্দীপের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। মামলাকারীর আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের সওয়াল, ‘আর জি কর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ সোমবার সকালে বলেছিলেন সরকারি চাকরি ছেড়ে দিচ্ছেন। বিকেলে তাঁকেই অন্য কলেজের মাথায় বসিয়ে দেওয়া হয়েছে।’ তা শুনে প্রধান বিচারপতি বিস্ময়প্রকাশ করে বলেন, ‘১২ ঘণ্টার মধ্যে পুরস্কৃত হয়ে গেলেন?’

‘হাতে অস্ত্র তুলে দিয়ে এখন জঙ্গি বলছে’, পাক সেনার মুখোশ খুললেন অধিকৃত কাশ্মীরের নেতা

‘আসল তৃণমূল কে?’, মমতা ও ঋতব্রতর জবাব তলব নির্বাচন কমিশনের

ফুটবল বিশ্বকাপের জন্যে পরীক্ষা পিছিয়ে দিল কলকাতার নামী স্কুল

বিশ্বকাপের মাঝেই ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষস্থান হারাল আর্জেন্টিনা, কারা উঠল এক নম্বরে?

পণের দাবিতে গৃহবধূকে পুড়িয়ে খুন, স্বামী ও শ্বশুরকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড আদালতের

‘আমার সোনার বাংলা….’, বদলের দাবি জানানো প্রাক্তন সেনা কর্তাকে পদোন্নতি দিল তারেক সরকার

বাবা খামেনেইয়ের শেষকৃত্যে উপস্থিত থাকবেন না ছেলে মোজতবা

‘তারাতলার ঘটনার তদন্ত কতদূর?’ মুখ্যসচিবকে নোটিস জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের

সাবধান! রাস্তায় মহিলাদের উত্যক্ত করলেই রুখে দাঁড়াবে দুর্গা সুরক্ষা স্কোয়াড

রবিবার ফের ১২ ঘন্টার জন্য বন্ধ দ্বিতীয় হুগলি সেতু, কোন পথে চলবে যানবাহন?

৯ বছর বাদে শ্রীলঙ্কায় খেলতে যাচ্ছেন শুভমন গিলরা, কবে-কোথায় ম্যাচ?

হ্যারিকেনের আলোয় পড়াশোনা করে ফরেন সার্ভিসে প্রথম, অসাধ্যসাধন তানভীরের

কলকাতা পুরসভা এলাকায় আপাতত হকার উচ্ছেদ নয়, অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ হাইকোর্টের

‘বিধায়কজি আমাদের বাড়ি বানিয়ে দিন না’, জরাজীর্ণ ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে আর্তি ৫ বছরের শিশুর