চোখ রাখুন
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

শুভেন্দুর সব প্রস্তাবেই ‘হ্যাঁ’ নয়, ভিন্ন মত বাড়ছে বঙ্গ বিজেপিতে

Courtesy - Google

নিজস্ব প্রতিনিধি: দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এখনও তাঁর ওপর ভরসা রাখেন, আস্থা রাখেন। প্রয়োজনে ডেকে পাঠান বা সরাসরি ফোনে কথা বলে নেন। তবুও কোথাও যেন সুর কাটছে। দূরত্ব বাড়ছে। ক্রমশই দলে যেন একঘরে, একপেশে, কোনঠাসা হয়ে পড়ছেন তিনি। মাঝে মধ্যেই তাঁর বড় একা লাগে দলের অন্দরে। দলে যেন তাঁর সেই গুরুত্ব আগের মতো নেই। যা যা তিনি বলতেন, সেটাই সবাই মেনে নিত। এখন, সেই মেনে নেওয়া তো বহু দূর, তাঁর প্রস্তাব নিয়ে দলে কোনও আলোচনাও হয় না। বিষয়টা এখন এমন দাঁড়িয়েছে যেন, তুমি চলো তোমার মর্জিতে, আমরা চলি আমাদের খেয়ালে। হ্যাঁ এটাই এখন বঙ্গ বিজেপির(Bengal BJP) সঙ্গে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর(Suvendu Adhikari) রসায়ন। সেই ঘটনা কার্যত আরও স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে আর জি কর কাণ্ড(R G Kar Incident) নিয়ে বঙ্গ বিজেপির অবস্থানে। 

আরও পড়ুন, সন্দীপ সহ ৬জনের পলিগ্রাফ পরীক্ষা শুরু, সিটের নথি হস্তান্তর সিবিআইয়ের হাতে

শুভেন্দুর সঙ্গে দ্বন্দ্ব ঠিক কোথায় বঙ্গ বিজেপির নেতাদের? পদ্মের নেতারা প্রকাশ্যে জানাচ্ছেন, দলে কোনও দ্বন্দ্ব নেই। সবাই একজোট হয়ে কাজ করছেন। সত্যিই কী তাই! দলের নেতাদের অনেকেই আড়ালে স্বীকার করছেন, বঙ্গ বিজেপিতে শুভেন্দুর গুরুত্ব আর কদর দুই কমছে লোকসভা নির্বাচনের পর থেকে। বিশেষ করে যেভাবে তিনি রাজ্য বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়(Mamata Banerjee) এবং তৃণমূলের(TMC) সঙ্গে দূরত্ব কমিয়ে ফেলেছেন, যেভাবে চূড়ান্ত তৃণমূল ও সংখ্যালঘু বিরোধিতার পথ থেকে সরে এসেছেন, তা দেখে দলের সিংহ ভাগই এখন এটা মানতে নারাজ যে শুভেন্দুর সঙ্গে তলে তলে তৃণমূলের আর কোনও যোগাযোগ নেই। বরঞ্চ দলের বড় অংশই এখন এটা মনে করেন, শুভেন্দুর তৃণমূলে প্রত্যাবর্তনে এখন সময়ের অপেক্ষা মাত্র। লক্ষ্যণীয় ভাবে, তৃণমূলের নেতানেত্রীদের বক্তব্যেও আর আগের মতো শুভেন্দু বিরোধিতার আঁচ মেলে না। কোথাও যেন একটা বোঝাপড়া চলে আসছে প্রকাশ্যে, যা খালি চোখেও ধরা পড়ে যাচ্ছে। আর জি কর কাণ্ডে কার্যত শুভেন্দুর সঙ্গে বঙ্গ বিজেপির সেই দূরত্ব মারাত্মক আকারে প্রকট করে দিয়েছে।

আরও পড়ুন, আর জি কর কাণ্ডে স্কুল পড়ুয়াদের মিছিল, শোকজ হাওড়ার ৩ স্কুল কর্তৃপক্ষকে

আর জি কর কাণ্ডে প্রথম থেকেই রাস্তা কাঁপাচ্ছে বামেরা। আন্দোলনের প্রথম সারিতে যে সব মুখ দেখা যাচ্ছে তাঁরা সব বামপন্থী। সেখানে বিজেপির মুখ খোঁজা খড়ের গাদায় সূঁচ খোঁজার সামিল হবে। কার্যত, আর জি কর-কাণ্ডে বঙ্গ বিজেপির অবস্থান কী হবে সেটাই ঠিক করে উঠতে পারেনি দলের রাজ্য নেতৃত্ব। তাই গোটা দলই হাত গুটিয়ে বসে ছিল। যদিও তৃণমূলের অভিযোগ, আন্দোলনের পিছনে হাওয়া দিয়ে গিয়েছে বিজেপি। সোশ্যাল মিডিয়ায় বিস্তর ফেক নিউস ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলি থেকে। কিন্তু সেখানে না শুভেন্দু আছেন, না বঙ্গ বিজেপি আছে। শুভেন্দু আর জি কর কাণ্ডে বার বার ‘পতাকাহীন’ আন্দোলনের কথা বলছেন বটে, কিন্তু তাতে রাজ্য নেতৃত্বের তাতে সায় নেই। এমনকি, দলের বৈঠক বা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনার সময়ে শুভেন্দুর প্রস্তাব নিয়ে কোনও কথা হয়নি। পদ্মনেতাদের মতে, এটাই বঙ্গ বিজেপির অন্দরে সব থেকে বড় পরিবর্তন। আগে শুভেন্দু যেটা বলতেন সেটা গুরুত্ব দিয়ে দেখা হতো। সেটা নিয়ে আলোচনা হতো। শেষ মুহুর্তে দেখা যেত শুভেন্দুর অভিমতই প্রধান্য ও গৃহীত হয়েছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে। সেই মতোই বঙ্গ বিজেপির আন্দোলন বা কর্মসূচী হচ্ছে। কিন্তু সেটাই এখন বন্ধ হয়ে গিয়েছে।

আরও পড়ুন, ৫ লক্ষ টাকায় কেনা হচ্ছে ৫ হাজার সিসি ক্যামেরা, বসবে রাজ্যের সব মেডিকেল কলেজে

আর জি কর কাণ্ডে ছাত্রসমাজ নবান্ন অভিযানের ডাক দিয়েছে। সেই অভিযানে আরএসএস নাকি সমর্থন করছে এমন খবর শোনাও যাচ্ছে। এমনকি সেই অভিযানে বিজেপির নীচুতলার প্রচুর কর্মী ও সমর্থকেরা যোগ দেবেন, এমন তথ্যও মিলছে যা পদ্ম শিবিরের নেতারা অস্বীকার করে দিচ্ছেন না। কিন্তু সেই সঙ্গে এটাও সত্য, সেই অভিযানে শুভেন্দু যোগ দেবেন ব্যক্তিগত ভাবে। বিজেপি নেতা হিসাবে নয়, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা হিসাবেও নয়। তবে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা হিসাবে তিনি যে নিরাপত্তা পান তা থাকবে। মজার কথা শুভেন্দু সেই অভিযানে যোগ দিলেও, তাতে যোগ দেবেন না বঙ্গ বিজেপির প্রথম সারির কোনও নেতানেত্রীরা। আর এই ঘটনা তথা সিদ্ধান্ত কার্যত দেখিয়ে দিচ্ছে, বেশ সুচিন্তিত ভাবে, সুপরিকল্পিত ভাবে, ধীর গতিতে, শুভেন্দুর সঙ্গে দূরত্ব বাড়িয়ে নিচ্ছে বঙ্গ বিজেপি। তাঁরা বুঝিয়ে দিচ্ছে শুভেন্দু মানেই বঙ্গ বিজেপি নয়, আবার বঙ্গ বিজেপি মানেই শুভেন্দু নয়। সম্ভবত সেই সিদ্ধান্তে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বেরও সমর্থন আছে। নাহলে শুভেন্দুর সিদ্ধান্তে এভাবে দূরত্ব তৈরি করতো না বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্ব। কান পাতলে এটাও শোনা যাচ্ছে, দলে থাকা শুভেন্দু অনুগামীদেরও এবার আস্তে আস্তে কোনঠাসা করে দেওয়া হবে। পদ কেড়ে নেওয়া হবে। দেখার বিষয়, নবান্ন অভিযান শেষে শুভেন্দুর সঙ্গে মমতার কোনও বৈঠক হয় কিনা! 

Published by:

Share Link:

More Releted News:

খাস কলকাতায় সিপিএমে ভাঙন, নির্বাচনের প্রাক্কালে একঝাঁক যুবনেতার যোগ তৃণমূলে

সল্টলেকে ভয়াবহ দুর্ঘটনা, ডিভাইডারে ধাক্কা খেয়ে দুমড়ে-মুচড়ে গেল হন্ডা গাড়ি, আহত ৪

‘‌বাংলায় আপনাদের মেয়াদ আর ঠিক ১৯ দিন’‌, বিজেপি–নির্বাচন কমিশনকে চ্যালেঞ্জ অভিষেকের

হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে নালিশ তৃণমূলের, কড়া চিঠি পেশ

জোকা ট্রাম ডিপোতে নাকা চেকিংয়ে বাজেয়াপ্ত ৪ লক্ষাধিক টাকা, আটক ৪

লক্ষ্মী বনাম অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার! প্রতিশ্রুতিতে ভরছে দেওয়াল, কার ভরসা বেশি?

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ