আমরা আসছি
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

রামের নামে আর চিঁড়ে ভিজছে না শিল্পাঞ্চলে, খাবি খাচ্ছে বিজেপি

Courtesy - Google

নিজস্ব প্রতিনিধি: রাত পোহালেই বুথে বুথে লাইন দেবেন হাওড়া, হুগলি ও ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের(Howrah Hooghly Barrackpore Industrial Area) মানুষজন। এই ৩ শিল্পাঞ্চলে হিন্দিভাষী(Hindi Spoken Area) এলাকায় বিজেপির(BJP) জমি তুলনায় কিছুটা শক্ত, এমনটাই প্রচার ছিল এতদিন। কিন্তু এবার সম্ভবত সেই মিথ ভাঙতে চলেছে। কেননা স্রেফ রামের নামে এখন আর চিঁড়ে ভিজছে না সেখানে। বিশেষ করে শ্রমজীবী মানুষজন আর বিজেপির ওপর ভরসা রাখতে পারছেন না। কারণ, দেশজুড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস ও পেট্রপণ্যের দামের ছ্যাকায় জর্জরিত শ্রমজীবী মানুষ রীতিমত রুষ্ট মোদিরাজ আর বিজেপির ওপর। হাওড়া থেকে চাঁপদানি, বরানগর থেকে বীজপুর, বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে বহু হিন্দিভাষী মানুষের বাস। এরাই এতদিন বিজেপির মার্কা মারা ভোটার হিসাবে চিহ্নিত হয়ে ছিলেন। বালি, হিন্দমোটর, রিষড়া, টিটাগড়, ভাটপাড়া, নোয়াপাড়া, ব্যারাকপুর, কাঁচড়াপাড়ার মতো জায়গায় বহু হিন্দিভাষী মানুষের বাস। এরমধ্যে কয়েকটি জায়গা আবার রীতিমত বিজেপির ঘাঁটি ছিল। কিন্তু এবার সেখানেই বইছে চোরাস্রোত। ওপর ওপর দেখলে মনে হতেই পারে, তৃণমূল(TMC) বা সিপিএম এখানে খুব একটা সুবিধা করতে পারবে না। তবে বাস্তব চিত্র অনেকটাই আলাদা।

এই সব এলাকার মানুষের সঙ্গে কথা বলে বোঝা গিয়েছে, স্রেফ রামের নামে বা ধর্মের নামে ভোট নাও দিতে পারেন তাঁরা। অনেকেই অর্থনৈতিক কারণে বিজেপির ওপর রীতিমতো খাপ্পা। হিন্দিভাষী শ্রমজীবী মানুষের(Working Class People) বক্তব্য, তাঁদের সীমিত আয়, আর বাজারদর ঊর্ধ্বমুখী। নুন আনতে গিয়ে পান্তা ফুরনোর দশা! তার ওপর মাসে একটা গ্যাস সিলিন্ডার বদল করতেই বেরিয়ে যাচ্ছে কড়কড়ে হাজার টাকা! মূল্যবৃদ্ধির আঁচে পুড়তে থাকা সংসার ঠেলতে হিমশিম খাচ্ছেন তাঁরা। আর তাই, ধর্মের নামে আর ভোট নয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, হিন্দি বলয়ের এই ক্ষোভ যদি ভোট বাক্সে প্রতিফলিত হয়, তাহলে সমূহ বিপদ বিজেপি’র। উল্টে এই ভোট পড়তে পারে তৃণমূল অথবা সিপিএমের বাক্সে। তৃণমূলের বাক্সে এই ভোট গেলে তাঁদের জয়ের ব্যবধান বাড়বে বই কমবে না। পুনঃরুদ্ধার হবে ব্যারাকপুর ও হুগলি লোকসভা কেন্দ্রও। আর যদি বামেদের ভাগ্যে যায়, তাহলে বামেরা এই সব জায়গায় বিজেপিকে তৃতীয় স্থানে ঠেলে দিয়ে নিজেরা দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসবে।

এই সব এলাকার শ্রমজীবী মানুষের ঘর সংসার সাধারণ বাব-মা, ভাই-বোন, স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে। অনেকেই জুট মিলে কাজ করেন। কেউ বা ছোট খাটো কারখানা বা অফিসে। যে হাতে মোদি জমানায় জিনিসের দাম বেড়েছে সেই হারে তাঁদের আয় কিন্তু বিন্দুমাত্র বাড়েনি। উল্টে জমিয়ে রাখা টাকাও প্রায় নিঃশেষের পথে। এখন যা আয় হয় তা দিয়ে পুরো পরিবারের সবার পেট ভরানো খুবই কষ্টের। তাই এখন তাঁদের কাছে কেউ ধর্মের নামে ভোট চাইতে এলেই তাঁরা পাল্টা শুনিয়ে দিচ্ছেন, ‘পেটে ভাত না পড়লে ধর্ম দিয়ে কী হবে?’ এই সব শ্রমজীবী মানুষদের দাবি, ‘ইউপিএ সরকারের আমলেও পেট্রলের দাম ৭০ টাকার ঘরে ঘোরাফেরা করত। বিজেপি’র হাতে পড়ে পেট্রল ১০০ টাকার গণ্ডি ছাড়িয়েছে। রেলের নাকি পরিকাঠামো বাড়ছে! আমাদের মতো গরিব মানুষ জেনারেল কামরায় কীভাবে যাই, সেটা আমরাই জানি।’ ঘটনা হচ্ছে, শুধু শ্রমজীবীরা নন, হিন্দিভাষী শিক্ষক, অধ্যাপক, ব্যবসায়ী মহলেও বিজেপি সম্পর্কে চাপা ক্ষোভ রয়েছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় এই সব হিন্দিভাষী মানুষেরা কিন্তু অন্যান্য রাজ্যের খবর নিয়মিত জানতে পারছেন। জানতে পারছেন দেশের সমস্যার কথা। তা দেখে অনেকেই উষ্মা প্রকাশ করে বলছেন, বিজেপি মুখে দুর্নীতি বিরোধী কথা বললেও অন্য দলে যাঁরা দুর্নীতিগ্রস্ত, তাঁদের ‘ক্লিনচিট’ দিয়ে দলে নিয়ে নিচ্ছে। কেউ কেউ ইলেক্টোরাল বন্ড নিয়েও বিজেপি’র সমালোচনা করছেন। ফলে বিজেপি সম্পর্কে হিন্দিভাষীদের একাংশের মোহভঙ্গ হয়েছে। অতীতে তাঁরা ‘পদ্ম’ চিহ্নে বোতাম টিপলেও এবার অন্য কথা ভাবছেন। সেই ভোট তৃণমূল বা সিপিএমের দিকে বাঁক খেলে গেরুয়া শিবিরের ভরাডুবি অবশ্যম্ভাবী। এমনটাই বলছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। বিজেপি এখন হাওড়া, হুগলি, ব্যারাকপুরে যতই মোদি-শাহ-নাড্ডাদের এনে সভা বা রোড-শো করুক না কেন, এবার পদ্মশিবিরকে কার্যত খালি হাতেই ফেরত যেতে হবে হিন্দিভাষীদের দুয়ার থেকে।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

নির্বাচন মিটতেই কালবৈশাখীর দাপট! দুর্যোগের দিনে ভোটকর্মীদের পাশে রেল

দিনের শেষে মায়ের সঙ্গে কসবা কেন্দ্রে ভোট দিলেন মিমি চক্রবর্তী

‘আমি এইরকম ভোট কখনও দেখিনি’, মিত্র ইনস্টিটিউট থেকে বেরিয়ে ক্ষোভপ্রকাশ মমতার

ভোটকেন্দ্রে দুর্ঘটনা, টালিগঞ্জে সিলিং ফ্যান ভেঙে আহত ভোটার

নবান্নের কুর্সিতে কাকে দেখতে চান? সপরিবারে ভোট দিয়ে যা জানালেন দেব

স্ত্রী ডোনাকে সঙ্গে নিয়ে বড়িশার জনকল্যাণ স্কুলে ভোট দিলেন সৌরভ

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ