এই মুহূর্তে

জীবন ব্রাত্য তৃণমূলে, মানিক-পার্থ-কেষ্ট-বালুও কী এবার ব্রাত্য হয়ে যাবেন, প্রশ্ন ঘুরছে জোড়াফুলে

Courtesy - Google and Facebook

নিজস্ব প্রতিনিধি: রাজ্যের সরকারি ও সরকার পোষিত স্কুলে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সিবিআইয়ের হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন মুর্শিদাবাদের বড়ওয়ান বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহা(Jiban Krishna Saha)। মাস কয়েক আগে সুপ্রিম কোর্ট তাঁর জামিন মঞ্জুর করে। জেল থেকে বেরিয়ে দলীয় কর্মীদের শুভেচ্ছা, সংবর্ধনায় ভেসে গিয়েছিলেন জীবন। গিয়েছিলেন রাজ্য বিধানসভাতেও। যোগও দেন অধিবেশনের। কিন্তু লোকসভা নির্বাচনের পর থেকে তৃণমূলের কোনও কর্মসূচিতেই তাঁকে আর দেখা যায়নি। এরই মধ্যে গতকাল তৃণমূলের বহরমপুর-মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলার চেয়ারম্যান রবিউল আলম প্রকাশ্যেই জানিয়ে দেন, দলীয় নেতাকর্মীরা যেন জীবনের সঙ্গে সম্পর্ক না রাখেন। তিনি এই প্রসঙ্গে দলের সেনাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের(Abhishek Banerjee) নাম করেই জানান, জীবনের সঙ্গে দলের সম্পর্ক ছেদের অর্ডার এসেছে নাকি ক্যামাক স্ট্রিট থেকে। তৃণমূলে জীবনকে এই ব্রাত্য করে দেওয়ার ঘটনার জেরে এখন প্রশ্ন উঠেছে মানিক-পার্থ-কেষ্ট-বালুও কী এবার ব্রাত্য হয়ে যাবেন জোড়াফুলের সংসারে!  

আরও পড়ুন, বেসরকারি হাসপাতালে স্বাস্থ্যসাথীতে সরকারি চিকিৎসকের হাতে চিকিৎসা, নিতেই হবে স্বাস্থ্য ভবনের অনুমতি

জীবনকে নিয়ে ঠিক কী বলেছেন রবিউল? গতকাল অর্থাৎ মঙ্গলবার বড়ওয়ান বিধানসভা কেন্দ্রেরই কৃষক বাজার চত্বরে তৃণমূলের আয়োজিত বিজয়া সম্মিলনীর অনুষ্ঠানে ডাক পাননি জীবন। তাঁকে গতকালের সভাতে দেখাও যায়নি। সেই সভা থেকে রবিউল জানান, ‘বড়ওয়ানের বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহাকে দলের সমস্ত কাজ থেকে দূরে রাখতে বলেছেন রাজ্য নেতৃত্ব। এর কী কারণ, তা আমাদের জানা নেই। তবে এই কারণে এই মঞ্চে তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। দলীয় নেতাকর্মীরা যেন বড়ওয়ানের বিধায়কের সঙ্গে কোনওরকমের সম্পর্ক না রাখেন। এটা ক্যামাক স্ট্রিটের অর্ডার। সর্বভারতীয় তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, আর বারো-চোদ্দটা মাস বিধায়ক হিসাবে যত দিন উনি রয়েছেন, মানুষের পরিষেবা দেওয়ার জন্য থাকবেন। সই-সাবুদ করবেন। তা ছাড়া তৃণমূলের কোনও কর্মসূচিতে তাঁকে রাখা যাবে না। তাঁর সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়েছে তৃণমূল। পরবর্তী সময়ে তিনি দলের কোন কর্মসূচিতে ডাক পাবেন না বলেও শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখানকার বিধায়ককে দলের কোনও সাংগঠনিক কাজে রাখা যাবে না। উপরমহল থেকেই এই বার্তা দেওয়া হয়েছে।’

আরও পড়ুন, শাহের বিরুদ্ধে নির্বাচনী বিধিভঙ্গের অভিযোগ তুলে কমিশনে চিঠি তৃণমূলের

যদিও জীবনকৃষ্ণ জানিয়েছেন, এমন কোনও নির্দেশের কথা তিনি জানেন না। জীবনকৃষ্ণের বক্তব্য, ‘কেন ওরা এ রকম মন্তব্য করেছেন, তা আমি জানি না। আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সৈনিক। আমি বিধানসভায় যাবতীয় কাজ করছি। আমার কাছে কিন্তু এ রকম কোনও নির্দেশিকা নেই। কে কোথা থেকে কী বলছেন আমি জানি না।’ জীবনের সঙ্গে এই ঘটনার পরে পরেই এখন প্রশ্ন উঠে গিয়েছে, তাহলে অভিষেকের নির্দেশেই কী এবার আস্তে আস্তে মানিক-পার্থ-কেষ্ট-বালুকে দল থেকে ঝেড়ে ফেলে দেওয়া হবে? জোড়াফুল শিবিরে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে(Partha Chatterjee) দল ইতিমধ্যেই ঝেড়ে ফেলে দিয়েছে। আগামী দিনে তিনি জামিন পেলেও সম্ভবত দলে তাঁকে আর ফেরানো হবে না। জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের(Jyotipriya Mallik) শূন্যস্থান যদি পার্থ ভৌমিক পূরণ করে দেন তাহলে আগামী দিনে জ্যোতি দলে থাকলেও কোনও পদে থাকবেন না। একইরকম ভাবে কাজল শেখ যদি বীরভূমে অনুব্রত মণ্ডলের(Anubrata Mondol) উত্তরসুরী হয়ে ওঠেন তাহলে তখন কেষ্ট’রও গুরুত্ব-কদর দুইই কমবে। আর মানিক ভট্টাচার্যের(Manik Bhattacharya) সঙ্গে দল সম্পর্ক ছেদের পথেই হাঁটবে জীবনের মতোই।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

হাতির হামলায় মৃতের পরিবারকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই ক্ষতিপূরণ, পাশে বনদফতর

মহাত্মা গান্ধিকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য, বিজেপি প্রার্থীর নামে থানায় অভিযোগ

তৃণমূলের ওয়ার্ড সভাপতির হাতে আক্রান্ত আইপ্যাক কর্মী, চিকিৎসাধীন হাসপাতালে

দিদিকে হারাতে অনলাইন বৈঠকে বুথ স্তরের নেতা-কর্মীদের ছয় ‘দাওয়াই’ দিলেন মোদী

সেবাই পরম ধর্ম, প্রচারে বেরিয়ে তাই রোগী দেখলেন সিঙ্গুরের বিজেপি প্রার্থী

হবিবপুরের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী অমল কিস্কু জোরকদমে চালালেন ভোট প্রচার

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ