দেখতে থাকুন
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

বিরোধীহীন কেষ্টভূমে চতুর্থ জয়ের মুখে শতাব্দী, দিশাহারা বিজেপি

Courtesy - Facebook and Google

নিজস্ব প্রতিনিধি: সিনেমা থেকে যাত্রাপালা, অবাধ বিচরণ তাঁর। তাঁর সিনেমা আজও টানে গ্রামের মানুষদের। দেখেন শহুরে মধ্যবিত্তরাও। ‘গুরুদক্ষিণা’র নায়ক আর না থাকলেও, নায়িকা এখনও বর্তমান আমাদের মধ্যে। বাংলার(Bengal) জনমানসে। তৃণমূলের(TMC) অন্দরে-বাহিরে। শতাব্দী রায়(Shatabdi Roy)। ২০০৯ সালের লোকসভা নির্বাচন ছিল বাংলার বুকে পরিবর্তনকে জোরদার ভাবে তুলে ধরার ভোট। সেই ভোটেই বীরভূম লোকসভা কেন্দ্রে(Birbhum Constituency) শতাব্দী তৃণমূলের প্রার্থী হয়ে ধরাশায়ী করেছিলেন ব্রজ মুখোপাধ্যায়কে। কার্যত সেই থেকেই বীরভূমের সাংসদ হিসাবে কাজ করে চলেছেন শতাব্দী। আর বীরভূম মানেই অনুব্রত মন্ডল(Anubrata Mondol)। শোনা যায়, কেষ্টগড়ের সাংসদ হয়েও শতাব্দীকে সেখানকার রাজনীতি থেকে কিছুটা দূরেই থেকে যাতে হয়েছিল এই কেষ্ট’র দাপটে। এখন সেই কেষ্ট দিল্লির তিহার জেলে। যদিও লালমাটির জেলায় কেষ্ট ছড়িয়ে আছেন বীরভূমের প্রতিটি প্রান্তে প্রান্তে। মিশে গিয়েছেন সেখানকার ধুলোকণায়। কেষ্টহীন, কেষ্টময় সেই বীরভূমেই এবার চতুর্থবারের জয়ের মুখে দাঁড়িয়ে আছেন শতাব্দী।   

২০০৯ সালে শতাব্দী যখন প্রথববার তৃণমূলের টিকিটে বীরভূম থেকে প্রার্থী হয়েছিলেন তখন কংগ্রেস আর তৃণমূলের মধ্যে কোট ছিল। সেই জোটের হাত ধরেই শতাব্দী পরাস্ত করেছিলেন বাম প্রার্থীকে। উল্লেখ্য, শুধু বীরভূম লোকসভা কেন্দ্রই নয়, গোটা বীরভূম জেলাই ছিল বামেদের দুর্গ। কিন্তু সেই ছবি বদলে দিয়েছিল, স্বর্ন ধানের জেলা বীরভূমের জনতা। ২০০৯ সালে শতাব্দী জিতেছিলেন ৬১ হাজার ভোটে। পেয়েছিলেন ৪৭ শতাংশ ভোট যা সংখ্যার হিসাবে ছিল ৪ লক্ষ ৮৬ হাজার ৫৫৩। ওই নির্বাচনেই বীরভূম লোকসভা থেকে বামেরা পেয়েছিল ৪ লক্ষ ২৫ হাজার ভোট আর বিজেপি পেয়েছিল মাত্র ৪৭ হাজার ভোট। ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল অবশ্য একাই নেমে পড়েছিল ভোটযুদ্ধে। সেই সময়ে তৃণমূলের সঙ্গে কোনও জোট ছিল না বামেদের। যার জেরে তৃণমূলের মতোই বাম, কংগ্রেস ও বিজেপি আলাদা আলাদা ভাবে প্রার্থী দিয়েছিল এবং তাঁরা একক শক্তিতেই লড়াই করেছিল। সেই নির্বাচনে শতাব্দীর প্রাপ্ত ভোটের হার অনেকটা কমলেও শেষ হাসি হেসেছিলেন তিনিই। নেপথ্য ছিলেন অবশ্যই শ্রীমান কেষ্ট।

২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে শতাব্দী রায় পেয়েছিলেন ৩৬ শতাংশ ভোট, যা ২০০৯ সালের প্রাপ্ত ভোটের হার থেকে ১১ শতাংশ কম। কিন্তু মজার কথা সেই নির্বাচনেই শতাব্দীর জয়ের ব্যবধান বেড়েছিল ৬ হাজার ভোটের। শতাব্দী ৪ লক্ষ ৬০ হাজার ভোট পেয়ে ৬৭ হাজার ভোটে পরাস্থ করেন বাম প্রার্থীকে। ওই নির্বাচনেই বামেরা পেয়েছিলেন, প্রায় ৪ লক্ষ ভোট। বিজেপি ও কংগ্রেস পেয়েছিল যথাক্রমে, ২ লক্ষ ৩৫ হাজার ও ১ লক্ষ ৩২ হাজার ভোট। কিন্তু এই হিসাবটাই গুলিয়ে যায় ২০১৯ সালের নির্বাচনে। এই নির্বাচনে শতাব্দী জিতলেও, বাম ও কংগ্রেসকে পিছনে ফেলে তৃতীয় স্থানে উঠে আসে বিজেপি। শতাব্দী এই নির্বাচনে পেয়েছিলেন ৪৫ শতাংশ ভোট। সংখ্যার হিসাবে ৬ লক্ষ ৫৪ হাজার। ৮৯ হাজার ভোটে তিনি পরাস্ত করেন বিজেপির দুধ কুমার মণ্ডলকে। দুধ পেয়েছিলেন ৫ লক্ষ ৬৫ হাজার ভোট। সেখানেই বাম প্রার্থী পান ৯৮ হাজার ভোট ও কংগ্রেস প্রার্থী পান মাত্র ৭৫ হাজার ভোট। ওই সময়েই এটা স্পষ্ট হয়ে যায় যে, বাম-কংগ্রেসের ভোটের একটা বড় অংশই ঢুকেছিল বিজেপির ঝুলিতে।

কিন্তু এবার সেই বিজেপির হালই বেহাল। সেখানে তাঁরা এমন প্রার্থী বিভ্রাটের মুখে পড়েছে যে বিজেপির নেতাকর্মী থেকে দলের সমর্থকেরাও জানেন না, প্রার্থী আসলে কে? দেবাশিষ ধর নাকি দেবতনু ভট্টাচার্য। বিজেপির(BJP) এই বেহাল দশাই কার্যত শতাব্দীকে জয়ের দোরগড়ায় পৌঁছে দিয়েছে। বাম-কংগ্রেস জোটের প্রার্থী মিল্টন রশিদের সঙ্গেই তাই শতাব্দীর লড়াই হতে চলেছে বলে মনে করছেন জেলার ওয়াকিবহাল মহল। তবে তৃণমূল আশাবাদী এই নির্বাচনে দলের জয় নিয়ে। কেননা কেষ্ট’র জেলায় এখনও কেষ্ট ম্যাজিক বজায় রয়েছে চূড়ান্তভাবে। লক্ষ্মীর ভান্ডার থেকে কৃষকবন্ধু, কন্যাশ্রী থেকে রূপশ্রী, বিধবা ভাতা থেকে বার্ধক্য ভাতা, ইমাম ভাতা থেকে পুরোহিত ভাতা, জয় জোহর থেকে জয় বাংলা, সবই পান বীরভূমের বাসিন্দারা। তবে এবারের নির্বাচনে তৃণমূলের পক্ষ সব থেকে বড় টার্নিং পয়েন্ট হতে চলেছে ঢেউচা-পাঁচামি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের(Mamata Banerjee) হাত ধরে পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম কয়লা খনি হিসাবে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে ঢেউচা-পাঁচামি(Deucha Pnachami)। রাজ্য সরকারের হাত ধরে সেখানে ৩৫ হাজার কোটি টাকা লগ্নি হচ্ছে। সেই খনি শিল্প নির্মাণের কাজও সেখানে শুরু হয়ে গিয়েছে। ১৪২২ জন জমিদাতাকে রাজ্য পুলিশে জুনিয়র কনস্টেবল ও গ্রুপ ডি পদে চাকরি দেওয়া হয়েছে। আর সেটাই এখন বীরভূমের বুকে নতুন ভোরের সূচনা ঘটাচ্ছে। আর কে না জানে তৃণমূলের প্রতিটা ভোট পড়ে মমতার নামেই, সেখানে প্রার্থী কে সেটা গৌণ।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

শুভেন্দু’র অস্তিত্ব চিরতরে বিলুপ্ত হয়ে যাবে নির্বাচন শেষে দাবি তৃণমূল প্রার্থীর

অশান্তি ছড়ানোয় ৪১ জনকে গ্রেফতার, পুনর্নির্বাচনের সম্ভাবনা খারিজ সিইও’র

জেলাশাসকের হস্তক্ষেপে ভোট দিতে পারলেন নন্দলাল বসুর নাতি

বলাগড়ের বিজেপি প্রার্থীর নাম কী?‌ ভুল পরিচয় দিয়ে খোরাক অমিত শাহ

সন্ধে ছয়টা পর্যন্ত প্রথম দফায় গড়ে ভোট পড়েছে ৯১.৫২ শতাংশ

কালবৈশাখী আসছে! দক্ষিণের ১২ জেলায় প্রবল ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস, কবে থেকে?

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ