চোখ রাখুন
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

ভয়াল ভাঙনের কোপে সামসেরগঞ্জের শিকদারপুর গ্রাম, তলিয়ে যাচ্ছে একের পর এক বাড়ি

Courtesy - Google

নিজস্ব প্রতিনিধি: রাক্ষসী পদ্মা(Padma River)। সকলের চোখের সামনে সে গিলে খাচ্ছে একের পর এক গ্রাম। নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে একের পর এক জনপদ। শুক্রবার সকাল থেকেই সেই ভাঙনের করাল ছবি ধরা পড়ছে মুর্শিদাবাদ জেলার(Murshidabad District) জঙ্গিপুর মহকুমার(Jangipur Sub Division) সামসেরগঞ্জ(Samserganj) ব্লকের শিকদারপুর গ্রামে(Erosion Effected Shikdarpur Village)। সেখানে এদিন সকাল থেকে সকলের চোখের সামনেই পদ্মা গিলে খেয়েছে ১৭টি বাড়ি। বহু গাছপালাসহ কয়েকশো মিটার জমিও তলিয়ে গিয়েছে। এলাকা জুড়ে আতঙ্ক। কার্যত সর্বস্ব হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলি। ভাঙন আরও বাড়তে পারে এই আশঙ্কায় প্রায় শতাধিক পরিবার শেষ সম্বল নিয়ে অন্যত্র সরে যাচ্ছেন। নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, গত দু’দিন থেকে ব্যাপক পরিমাণে বেড়েছে পদ্মার জল। আর সেই জলস্তর বৃদ্ধি হতেই নদীগর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে গ্রামের একাংশ।

আরও পড়ুন, পঙ্কজকে তিরস্কার করে ফেরালেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি

পুজোর আনন্দ দূর-অস্ত, আতঙ্কে এখন নেমে এসেছে সামসেরগঞ্জের প্রতাপগঞ্জ গ্রাম পঞ্চায়েতের শিকদারপুর গ্রামে। প্রতিদিন সেখানে ভাঙনের জেরে বিঘার পর বিঘা জমি বিলীন হচ্ছে পদ্মার বুকে। তবে স্থানীয়দের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে সব চেয়ে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে শুক্রবার। নদী ভাঙন আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে, ওই আশঙ্কায় ইতিমধ্যে প্রায় ৩৫টি পরিবার বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে। অভিযোগ উঠছে, প্রশাসনের কাউকে এই অবস্থায় পাশে পাচ্ছেন না ভুক্তভোগীরা। যদিও স্থানীয় প্রশাসন জানাচ্ছে, প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন তাঁরা। স্থানীয় সূত্রে খবর, শুক্রবার সকাল ৮টা নাগাদ হঠাৎই গ্রামবাসীরা লক্ষ্য করেন গঙ্গার পার ভেঙে তা জনবসতির দিকে এগিয়ে আসছে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ৮-১০টি বাড়ি চোখের নিমেষে নদীগর্ভে তলিয়ে যায়। এরপর বেলা যতই গড়িয়েছে, ভাঙন ততই তীব্র আকার নিয়েছে। বিকালের আগেই পদ্মায় তলিয়ে গিয়েছে ১৭টি বাড়ি। আরও ৩৫টি বাড়ি যে কোনও মুহুর্তে পদ্মার গর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার মুখে এসে দাঁড়িয়েছে।

আরও পড়ুন, তিস্তার ভাঙনে বিপন্ন চমকডাঙি পরিদর্শনের পরে মুখ্যমন্ত্রীকে রিপোর্ট গৌতম দেবের

ভাঙনের খবর পেয়ে এদিন এলাকায় যান সামসেরগঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক আমিরুল ইসলাম। তিনি পরিস্থিতি দেখার পর জানান, ‘ সামসেরগঞ্জ ব্লকের নতুন নতুন জায়গায় হঠাৎ করেই ভাঙন দেখা দিচ্ছে। আজ যেখানে ভাঙন শুরু হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে সেখানে এর আগে ভাঙন হয়নি। ওই গ্রামের বাসিন্দারা কিছু বুঝে ওঠার আগেই ৮-১০টি বাড়ি নদীগর্ভে তলিয়ে গিয়েছে। প্রশাসনের তরফ থেকে বেশ কয়েকটি পরিবারকে স্থানীয় মাধ্যমিক শিক্ষাকেন্দ্র এবং ত্রাণশিবিরে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।’ উল্লেখ্য, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সামসেরগঞ্জের ভাঙন দুর্গত এলাকা পরিদর্শনের পরে দুই দফায় মোট ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেন। সেই টাকায় কাজ শুরুও হয়। কিন্তু সমস্যা দেখা দিয়েছে, ভাঙন ঠেকাতে এক জায়গায় পাড় বাঁধানো হলে, অন্য জায়গায় ভাঙন শুরু হয়ে যাচ্ছে। সামগ্রিক ভাবে তাই ভাঙন ঠেকানো যাচ্ছে না।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

প্রথম দফার বিধানসভা নির্বাচনে ৩০৯ জন প্রার্থী কোটিপতি, সেরা ধনী কে?‌

কোচবিহারের মদনমোহন মন্দিরে মুখ্যমন্ত্রী, নিজের হাতে থালা সাজিয়ে দিলেন পুজো

প্রথম দফায় শুভেন্দু অধিকারীর নন্দীগ্রাম-সহ ৬৬ আসনে ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি

‘পদ্ম পাঁকে ফোটে, বাংলার মাটিতে ফুটবে না’, পুরুলিয়া থেকে বিজেপিকে হুঙ্কার সায়নীর

‘দাগ আচ্ছে হ্যায়’, দাগিদের প্রার্থী করায় তৃণমূলকে টেক্কা বিজেপির

বাংলায় প্রথম দফার ১৯ প্রার্থীর বিরুদ্ধে খুনের মামলা, কতজন ধর্ষণের আসামি?

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ