এই মুহূর্তে

‘যশ’র স্মৃতি ‘ডানা’য় ভর দিয়ে ফিরতে পারে দিঘায়, নজরে জলোচ্ছ্বাস

Courtesy - Google

নিজস্ব প্রতিনিধি: বেশি দিন আগেকার কথা নয়, মাত্র আড়াই বছর আগের কথা। ২০২১ সালে মে মাসে ওড়িশার উত্তর উপকূলে আছড়ে পড়েছিল সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড় ‘যশ’(Cyclone Yash)। সেই ঘূর্ণিঝড়ের প্রত্যক্ষ কোনও প্রভাব বাংলার(Bengal) ওপর পড়েনি। কিন্তু সেই ঘূর্ণিঝড়ের দরুণ যে জলোচ্ছ্বাসের(Cyclonic Tidal Waves) ঘটনা ঘটেছিল রাজ্যের পূর্ব মেদিনীপুর(Purba Midnapur) ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা(South 24 Pargana) জেলার বুকে তার জেরে প্রভূত ক্ষতিসাধন ঘটেছিল। সেই ‘যশ’ই যেন এবার ‘ডানা’য়(Cyclone Dana) ভর দিয়ে ফিরে আসছে এই দুই জেলার বুকেই। বিশেষ করে দিঘার বুকে এবারেও ভয় থাকছে তীব্র জলোচ্ছ্বাসের। এদিন দুপুর ২টো নাগাদ বঙ্গোপাসাগরে ‘ডানা’র উপস্থিতি ধরা পড়েছে ওড়িশার পারাদ্বীপ থেকে ২১০ কিলোমিটার দক্ষিণ পূর্ব দিকে, ধামারা থেকে ২৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ ও দক্ষিণ পূর্ব দিকে, সাগরদ্বীপ থেকে ৩১০ কিলোমিটার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব দিকে। প্রতি ঘন্টায় ১২ কিলোমিটার বেগে উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিকে এগোচ্ছে এই ঘূর্ণিঝড়।

আরও পড়ুন, সিবিআইয়ের ব্যর্থতাই কলকাতা পুলিশের সাফল্যের জয়গান গাইছে

আলিপুর আবহাওয়া দফতরের দাবি, এদিন মধ্যরাতে এই ঘূর্ণিঝড় ওড়িশার ভিতরকণিকা ও ধামরা বন্দরের মধ্যবর্তী জায়গা দিয়ে ঘন্টায় ১২০কিমি বেগে স্থলভাগে প্রবেশ করবে। যদিও দিল্লির মৌসম ভবনের দাবি এদিন বিকাল ৪টে থেকেই সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড় ‘ডানা’র ল্যান্ডফল শুরু হয়ে যাবে ধামরার বুকে। রাত্রি ১০টার মধ্যে তা সম্পূর্ণ ভাবে স্থলভাগে ঢুকে পড়বে। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের দাবি ঝড়ের ভূমি স্পর্শের পরে বাংলায় এর প্রভাব পড়বে। পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় ঘন্টায় ১২০কিমি বেগে ঝড় বইবে। সঙ্গে অত্যন্ত ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা। উপকূলবর্তী এলাকায় ৩ থেকে ৬ ফুটের বেশি ঢেউ উঠবে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় ঝড়ের গতিবেগ থাকবে ঘন্টায় ৯০কিমি। সঙ্গে থাকবে ৩ ফুটের জলোচ্ছ্বাস। এর বাইরে পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, উত্তর ২৪ পরগনা, কলকাতা, হাওড়া ও হুগলি জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে কিছু কিছু জায়গায়। বাকি জায়গাগুলিতে হালকা থেকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকছে। দক্ষিণবঙ্গের বাকি জেলাগুলিতে এদিন ও আগামিকাল হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকছে।

আরও পড়ুন, আবাস সমীক্ষায় নেতা বা জনপ্রতিনিধিদের হস্তক্ষেপ নয়, কড়া নির্দেশ নবান্নের

তবে সব থেকে বেশি চিন্তা থাকছে ‘ডানা’র জেরে হতে চলা জলোচ্ছ্বাসকে ঘিরে। যশের প্রভাব এখনও উপকূলবাসীর মন থেকে মুছে যায়নি। যশের জেরে বঙ্গোপসাগরে যে জলোচ্ছাস চোখে পড়েছিল তাতে দেখা গিয়েছিল দিঘার বিস্তীর্ণ এলাকা কোথাও এক বুক, কোথাও এক কোমর জল দাঁড়িয়ে গিয়েছে। এমন কোনও হোটেল ছিল না যেখানে জল ঢোকেনি। সৈকতের তীরে থাকা সব স্টল কার্যত দুমড়ে মুচড়ে ভেঙে পড়েছিল জলোচ্ছ্বাসের তীব্রতায়। ভিতরের দিকে দোকানে জল ঢুকে নষ্ট করেছিল প্রচুর বিক্রয় সামগ্রী। হোটেল ব্যবসায়ীরা সেই সময় যত না ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিলেন, তার থেকেও বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিলেন দোকানদাররা। একই সঙ্গে রামনগর, কাঁথি, খেজুরির বহু গ্রামে সাগরের বাঁধ ভেঙে হু হু করে জল ঢুকে পড়েছিল। এদিন রাতে সেই একই ছবি ফিরতে পারে বলেই মনে করছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ছবিটাও কিছুটা আলাদা নয়। এদিন সকাল থেকেই বিদ্যাধরী, মাতলা, রায়মঙ্গলের মতো বড় নদীগুলির জল কার্যত ফুঁসছে। রাতে জোয়ারের সময় এই সব নদীর চেহারা কী হয় সেটা ভেবেই ভয়ে সবার বুক শুকিয়ে যাচ্ছে। নদীবাঁধের দিকে নজর রাখছে প্রশাসনও।

Published by:

Ei Muhurte

Share Link:

More Releted News:

মালদায় আচমকা ঘূর্ণিঝড়ে টোটোর উপর ভেঙ্গে পড়ে গাছ ,আহত ২

স্বামীহারা অসহায় মহিলাকে ভয় দেখিয়ে দিনের পর দিন ধর্ষণ

সম্পত্তি হাতানোর জন্য নকল দলিল বানিয়ে যুবতীকে অপহরণ, তদন্তে পুলিশ

সপ্তাহের শুরু থেকেই দক্ষিণে বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টির সর্তকতা জারি, উত্তরে হবে কালবৈশাখী

ভোট ঘোষণার আগেই শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার-সহ ৫ আইপিএসকে বদলি করল নবান্ন

নির্বাচনের দিন ঘোষণা হতেই বহরমপুরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর টহলদারি জোরদার

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ