চোখ রাখুন
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

আমতার ধাঁচে বলাগড়ে দুই মহিলার হাত কেটে নেওয়ার প্রচেষ্টা, মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা তৃণমূল কর্মীর

Courtesy - Google

নিজস্ব প্রতিনিধি: ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া শেষ হতেই হুগলি জেলার(Hooghly District) মাটিতে জায়গায় জায়গায় বাম-বিজেপি সন্ত্রাস(Left-BJP Terror) ফের মাথাচাড়া দিতে শুরু করে দিল। তাঁদের জল্লাদ বাহিনীর হাতে আক্রান্ত হচ্ছেন রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের(TMC) কর্মী-সমর্থকেরা। বামফ্রন্ট সরকারের আমলে হাওড়া জেলার আমতায় হাত চিহ্নে ভোট দেওয়ার অপরাধে সিপিমের হার্মাদরা একাধিক ভোটারের হাতের পাঞ্জা কেটে নিয়েছিল। সেই রক্তাক্ত ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটে গেল হাওড়ার প্রতিবেশী জেলা হুগলির বুকে। সেখানে বলাগড়ের(Balagarh) বুকে তৃণমূল কংগ্রেসকে ভোট দেওয়ার অপরাধে দুই তৃণমূল মহিলা সমর্থকের হাত কেটে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। অপর্ণা মণ্ডল ও সঞ্চিতা মণ্ডল নামে দুই জখম মহিলাকে কালনা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অভিযোগের তির বিজেপির দিকে। ঘটনাটি ঘটেছে বলাগড় থানার চরকৃষ্ণবাটির রামপুর গ্রামে। পুলিস অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে। বিজেপি নেতৃত্ব অবশ্য এই ঘটনায় তাদের কেউ যুক্ত নয় বলেই দাবি করেছে।

স্থানীয় ও জখমদের পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২০ মে হুগলি লোকসভা কেন্দ্রের ভোট ছিল। ওইদিন চরকৃষ্ণবাটির ফুলতলা বসন্ত স্মৃতি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৭ নম্বর বুথে ভোটগ্রহণ চলছিল। তৃণমূল সমর্থক দুই জা অপর্ণা মণ্ডল ও সঞ্চিতা মণ্ডল বেলা সাড়ে ৩টে নাগাদ ভোট দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। সেই সময় এলাকায় বিজেপি সক্রিয় কর্মী বলে পরিচিত কয়েকজন তাঁদের পথ আটকায়। তৃণমূলকে ভোট দিয়েছে কি না জিজ্ঞাসা করলে তাঁরা ‘হ্যাঁ’ বলেন। এরপরই দুষ্কৃতীরা অপর্ণার হাতে হাঁসুয়ার কোপ দেয়। রড, লাঠি দিয়ে এলোপাথাড়ি মারধর শুরু করে। দিদিকে রক্তাক্ত দেখে পাশের একটি দোকানে আশ্রয় নেন জা সঞ্চিতা। সেখানে গিয়ে হামলাকারীরা সঞ্চিতাদেবীকেও মারধর করে। জখম দু’জনকে স্থানীয় জিরাট আহমেদপুর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে বুধবার পরিবারের লোকেরা কালনা সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করেন। এলাকার পঞ্চায়েত প্রধান তৃণমূল নেতা অসীম বৈদ্য বলেন, ‘ভোটের দিন বেলার দিকে বিজেপি বুঝে গিয়েছিল, ওরা গোহারা হারতে চলেছে। তাই, সন্ত্রাস করে গণ্ডগোল পাকানোর জন্য তৃণমূলকে ভোট দেওয়ার অপরাধে আমাদের দুই মহিলা সমর্থককে মারধর ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপায়।’ তৃণমূল ব্লক সভাপতি নবীন গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, বিজেপি বুঝে গেছে বাংলায় ওদের ঠাঁই নেই। তাই সন্ত্রাস করে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করছে। আমরা দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও উপযুক্ত শাস্তির দাবি করছি।

অন্যদিকে এই জেলারই আরামবাগে(Aarambag) ভোট পরবর্তী হিংসার শিকার হচ্ছেন তৃণমূলের কর্মীরা। আরামবাগ মহকুমার খানাকুল-১ ব্লকের বালিপুর পঞ্চায়েত এলাকায় বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে তৃণমূলের বুথ এজেন্ট গৌতম মেটের মাথা কোদালের বাঁট দিয়ে মেরে ফাটিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সৌরভ মাইতি নামে আর এক কর্মী অল্প জখম হয়েছেন। আরামবাগ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দু’জনকে ভর্তি করা হয়েছে। বালিপুর পঞ্চায়েত এলাকায় এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। এছাড়া আরামবাগ ব্লকের আরান্ডি-২ পঞ্চায়েতের সিয়েরা গ্রামে তৃণমূল কর্মী অষ্ট সাঁতরাকে মুগুর দিয়ে মারার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত বিজেপি কর্মী নিত্যানন্দ সাঁতরা। গুরুতর জখম অবস্থায় অষ্টকে আরামবাগ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আরামবাগে ভোট পরবর্তী সময়ে তৃণমূল কর্মীদের ওপর আক্রমণের ঘটনা বাড়ছে। তৃণমূল নেতৃত্বের তরফে পুলিশ প্রশাসনের কাছে এলাকায় শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য আবেদন জানানো হয়েছে। আরামবাগ সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান স্বপন নন্দী জানিয়েছেন, ‘তৃণমূলের কর্মীদেরকে যেভাবে মারধর করা হচ্ছে তা ধিক্কারজনক। খানাকুলে তৃণমূল প্রার্থী মিতালি বাগের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছিল। তৃণমূলের জেলা পরিষদের সদস্য কাশীনাথ মণ্ডলকে রাস্তায় ফেলে মারধর করা হয়। বিজেপি হারার ভয়ই এই ধরনের সন্ত্রাসমূলক কাজকর্ম চালাচ্ছে।’

Published by:

Share Link:

More Releted News:

প্রথম দফার বিধানসভা নির্বাচনে ৩০৯ জন প্রার্থী কোটিপতি, সেরা ধনী কে?‌

কোচবিহারের মদনমোহন মন্দিরে মুখ্যমন্ত্রী, নিজের হাতে থালা সাজিয়ে দিলেন পুজো

প্রথম দফায় শুভেন্দু অধিকারীর নন্দীগ্রাম-সহ ৬৬ আসনে ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি

‘পদ্ম পাঁকে ফোটে, বাংলার মাটিতে ফুটবে না’, পুরুলিয়া থেকে বিজেপিকে হুঙ্কার সায়নীর

‘দাগ আচ্ছে হ্যায়’, দাগিদের প্রার্থী করায় তৃণমূলকে টেক্কা বিজেপির

বাংলায় প্রথম দফার ১৯ প্রার্থীর বিরুদ্ধে খুনের মামলা, কতজন ধর্ষণের আসামি?

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ