ধন্যি মেয়ে! টোটো চালিয়েই পড়াশোনা আর সংসারের খরচ টানছেন পুরুলিয়ার মল্লিকা

Share:

নিজস্ব প্রতিনিধি: যে মেয়ে রান্নাঘরের কাজ সামলায়, সেই মেয়েই আজ টোটোর স্টিয়ারিং ধরে ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে চলেছে। লক্ষ্য একটাই উচ্চশিক্ষা। কিন্তু পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে পরিবারের চরম আর্থিক অনটন। তবু সেই সমস্ত প্রতিবন্ধকতাকে জয় করেই নিজের স্বপ্ন পূরণের লড়াইয়ে নেমেছে আদিবাসী কন্যা মল্লিকা মুর্মু।

পুরুলিয়ার মানবাজার–১ ব্লকের চাঁদড়া পায়রাচালি অঞ্চলের শিরিষগোড়া গ্রামের বাসিন্দা মল্লিকা এই বছর উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। বয়স অল্প হলেও দায়িত্বের বোঝা তার কাঁধে অনেক। পড়াশোনার ফাঁকে ফাঁকে বাবার ইলেকট্রিক টোটো নিয়ে রোজগারের খোঁজে বেরিয়ে পড়ে সে। বাবা তুষার মুর্মু পেশায় কৃষক। চাষের কাজের পাশাপাশি মাঝেমধ্যে টোটো চালিয়েই সংসারের খরচ জোগাড় করেন তিনি। বাবার কাছ থেকেই টোটো চালানোর প্রাথমিক শিক্ষা পেয়েছে মল্লিকা। এখন বাবার কষ্ট কিছুটা লাঘব করতে নিজেই হাল ধরেছে টোটোর।

আরও পড়ুন: ইন্দিরা গান্ধির মৃত্যুর পরে দীর্ঘ ৪০ বছর ছিলেন নিখোঁজ, বাড়ি ফিরে সবাইকে চমকে দিলেন আড়ষা অনিল কুমার 

মল্লিকার কথায়, “আমি চাই বাবা একটু বিশ্রাম নিক। সারা দিন কাজ করে মানুষটা ক্লান্ত হয়ে পড়ে। তাই সময় পেলেই টোটো চালাই, যাতে সংসারের রোজগার বন্ধ না হয়।” পড়াশোনার চাপ থাকলেও সময়কে ভাগ করে সে যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দেয়। বাবার পাশে দাঁড়ানোই এখন তার সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।

চার বোনের সংসারে প্রতিদিনের খরচ চালানো সহজ নয়। আর্থিক টানাপোড়েনের মধ্যেই বেড়ে ওঠা মল্লিকার স্বপ্ন আরও বড়। সে চায় উচ্চশিক্ষা শেষ করে চাকরি করতে, যাতে পরিবারকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে পারে। মেয়ের এই সংগ্রামে গর্ব অনুভব করেন বাবা তুষার মুর্মু। তিনি বলেন, “আমি ব্যস্ত থাকলে মেয়ে নিজেই টোটো নিয়ে বেরিয়ে পড়ে। আমার কাছেই শিখেছে টোটো চালানো। ছেলেদের থেকে কোনও অংশে কম নয় ও। যাত্রীরাও নিশ্চিন্তে ওর টোটোয় ওঠেন।”

টোটো চালাতে কোনও ভয় বা সমস্যা হয় না বলেই জানায় মল্লিকা। তার স্পষ্ট মত, “কোনও কাজই ছোট নয়। মেয়েরা এখন সব কাজেই এগিয়ে।” মানবাজারের বাসিন্দা যাত্রী মৃত্যুঞ্জয় দাসের মতে, “মল্লিকার সিদ্ধান্ত সত্যিই সাহসী। যেভাবে সে পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে, তা অন্য অনেক মেয়ের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে উঠবে।” চাঁদড়া হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক গোপালচন্দ্র দে জানান, মল্লিকার এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়। তাঁর কথায়, “পরিবারের জন্য ও যে ভাবে লড়াই করছে, তা অবশ্যই সম্মানের। তবে পরীক্ষা সামনে, তাই পড়াশোনায় বেশি মন দেওয়া জরুরি। প্রয়োজনে স্কুলের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তার উদ্যোগও নেওয়া হবে।” এইভাবেই টোটোর চাকার সঙ্গে সঙ্গে এগিয়ে চলেছে মল্লিকার স্বপ্ন, লড়াই আর ভবিষ্যতের পথ।

লিভ-ইন সঙ্গীকে খুন! অভিযুক্তকে ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়ে লাঠিপেটা পুলিশের, চাঞ্চল্য গুজরাতে

ইরানে জ্বালানি ট্যাংকার বিস্ফোরণে মৃত অন্তত ১০

ক্যামাক স্ট্রিটকাণ্ডে হুমায়ুন কবীরের বাড়িতে ফের হানা পুলিশের, দেওয়া হল হাজিরার নোটিস

রান্নার মাঝেই বৌদিকে কুড়ুল দিয়ে কোপ দেওরের, মালদায় চাঞ্চল্য

তীব্র সমুদ্র সংঘাত! আমেরিকার যুদ্ধজাহাজ-সহ ৬ জাহাজে হামলার দাবি ইরানের

রবিতেও বৃষ্টির চোখরাঙানি! একাধিক জেলায় হলুদ সতর্কতা, ভিজতে পারে কলকাতাও

ক্যামাক স্ট্রিটকাণ্ডে তৃতীয়বার হুমায়ুন কবীরকে নোটিস দিল পুলিশ    

প্রয়াত ঝাড়খণ্ডের মন্ত্রী সুদিব্য কুমার সোনু, শোকের ছায়া রাজনৈতিক মহলে

বিয়েবাড়ির আনন্দ মুহূর্তে বদলে গেল বিষাদে! আগুনে ঝলসে মৃত ২২, আহত একাধিক

মেয়েদের এশিয়া কাপে পাকিস্তানকে গুঁড়িয়ে দিয়ে জয়ী হরমনপ্রীতরা

লজ্জার রেকর্ড ফাতিমাদের, ভারতের স্পিনারদের ভেল্কিতে ৫৫ রানে শেষ পাকিস্তান

বিরিয়ানিতে ক্ষতিকারক রং, মিষ্টির দোকানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, নবদ্বীপ বাজারে নানা দৃশ্য ধরা পড়ল খাদ্য সুরক্ষা দফতরের অভিযানে

বিধাননগর থেকে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী সন্দেহে গ্রেফতার এক যুবক, তদন্তে পুলিশ

হাঁটুসমান জল, রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে ভরসা খাটিয়া, মর্মান্তিক ছবি দুবরাজপুরে