চোখ রাখুন
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

বিপর্যয়েও ব্রাত্য বাংলা, সিকিমে বরাদ্দ ৪৫ কোটি, বঙ্গে শূন্য

Courtesy - Google

নিজস্ব প্রতিনিধি: ঘোরতর প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মধ্যেও বহাল থাকছে কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন নরেন্দ্র মোদির সরকারের(Narendra Modi Government) কদর্য অমানবিক প্রতিহিংসার রাজনীতি। তিস্তার হড়পা বানের ঘটনায়(Teesta Flash Flood Disaster) সিকিমের(Sikkim) ক্ষয়ক্ষতি যে সব থেকে বেশি হয়েছে সে নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। কিন্তু ক্ষতি বাংলারও(Bengal) হয়েছে। বাংলার প্রায় ৫০ জন বাসিন্দা তথা পর্যটকের এখনঅ কোনও সন্ধান মিলছে না। এই অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী নিজে ফোনে কথা বলেছেন সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিং তামাংয়ের(Prem Singh Tamang) সঙ্গে। পাঠিয়েছেন ৪৫ কোটি টাকার অনুদান। সেই সঙ্গে দিয়েছেন, সবরকম সাহায্যের আশ্বাসও। অথচ একটিও ফোন আসেনি বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যপাধ্যায়ের(Mamata Banerjee) কাছে। বাংলার জন্য বরাদ্দ হয়নি কোনও কেন্দ্রীয় অনুদান। দেওয়া হয়নি পাশে থাকার আশ্বাসও। অথচ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে যে দার্জিলিং(Darjeeling) ও কালিম্পং(Kalimpong) জেলা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে সেখানকার সাংসদ বিজেপির(BJP)। উনিশের ভোটে উত্তরবঙ্গের(North Bengal) ৮টি আসনের মধ্যে ৭টি আসন জিতেও আজ সেই উত্তরবঙ্গ ব্রাত্য মোদির কাছে, বিজেপির কাছে। 

মঙ্গলবার রাতের তিস্তায় আসা হড়পা বানের জেরে সিকিমের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বাংলার দুটি জেলাও। এ রাজ্যের অনেক বাসিন্দাই এখন নিখোঁজের তালিকায়। অথচ বিজেপির দখলে থাকা দার্জিলিং লোকসভা কেন্দ্রের অধীন জিটিএ(GTA) এলাকা পুনর্গঠনের জন্য এক টাকাও বরাদ্দ করেনি কেন্দ্র। তবে এবারেও পাহাড়ের পাশে থাকছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গতকাল তাঁর সঙ্গে কথা হয় জিটিএ’র চেয়ারপার্সন তথা পাহাড়ের বর্তমান শাসক দল ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চার প্রধান অনীত থাপার(Anit Thapa)। তারপরেই ক্ষতিগ্রস্থ এলাকার পুনর্গঠনের জন্য ২৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করে দিয়েছেন বাংলার মেয়ে। কেনজনা পাহাড় তো বাংলারই অংশ। দেখলে সেই বাংলাই পাহাড়কে দেখবে, দিল্লি নয়। তাঁরা আসবেন শুধু রাজনীতি করতে, ভোট চাইতে, বিদ্বেষের বীজ বুকে বাংলা ভাগের ষড়যন্ত্র করতে। কিন্তু আসল সময়েই তাঁদের টিকির দেখাও মিলবে না। থাকবেন শুধু সেই মমতাই।

তবে মোদি সরকারের এই কদর্য অমানবিক প্রতিহিংসার রাজনীতিকে বিদ্ধ করেছেন অনীত থাপা। তাঁর নিজের ট্যুইটার হ্যান্ডেলে লিখেছেন, ‘কেন্দ্র কেন জিটিএকে বিপর্যয় মোকাবিলা তহবিলের টাকা দেবে না? জিটিএ কি ভারতের অংশ নয়? দার্জিলিং বিজেপিকে পর পর তিনবার সাংসদ দিয়েছে। এভাবেই কি তাহলে গোর্খাদের ব্যবহার করে বিজেপি সরকার?’ প্রসঙ্গত, গোর্খাল্যান্ড সহ একাধিক ইস্যুতে পাহাড়বাসীকে একাধিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল গেরুয়া শিবির। ২০০৯ সালে যশবন্ত সিং বিজেপির টিকিটে জিতেছিলেন এই লোকসভা কেন্দ্র থেকে। ২০১৪’র ভোটে এখান থেকে বিজেপির টিকিটে জয়ী হন এস এস আলুওয়ালিয়া। ফের ২০১৯ সালে দার্জিলিং লোকসভা কেন্দ্র থেকে সাংসদ হন রাজু বিস্তা। অনীত থাপার দাবি, পাহাড়ের মানুষের দাবি নিয়ে আগেও কোনও সঠিক পর্যালোচনা হয়নি। এবারও সেটাই ঘটল।

পরিষদীয় মন্ত্রী তথা বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘সরকার আর রাজনৈতিক দল মিশিয়ে ফেললে মুশকিল। সেটাই বিজেপি করে ফেলেছে। আমরা রাজ্যের যে বিধানসভা কেন্দ্রে জিততে পারিনি, সেখানেও সমানভাবে কাজ হয়েছে। বিজেপি তো ওখানে বারবার জিতেছে। তা সত্ত্বেও এলাকার স্বার্থে সহযোগিতা না করা দুর্ভাগ্যজনক।’ পাহাড়ের বন্ধ চা বাগানগুলি খোলার ব্যাপারে শুক্রবার মুখ্যসচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদীর সঙ্গে নবান্নে বৈঠক করেন অনীত। সেখানে মুখ্যসচিবের ফোনেই জিটিএ প্রধানের সঙ্গে কথা হয় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। অনীতের থেকে তিনি দার্জিলিং-কালিম্পংয়ের পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। জানা গিয়েছে, কালিম্পং এবং দার্জিলিংয়ে চারশোর বেশি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাহাড়ের পরিস্থতি খতিয়ে দেখতে একটি পৃথক টিম পাঠানোর কথাও মমতা জানিয়েছেন বলে সূত্রের খবর।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

আগামী ২-৩ ঘন্টায় ৭০ কিমি বেগে ধেয়ে আসছে কালবৈশাখী, জেলায় জেলায় হবে শিলাবৃষ্টি

ঐতিহাসিক রায় সুপ্রিম কোর্টের, নিষ্পত্তি হওয়া নাম তুলতে হবে ভোটার তালিকায়

খাস কলকাতায় সিপিএমে ভাঙন, নির্বাচনের প্রাক্কালে একঝাঁক যুবনেতার যোগ তৃণমূলে

সল্টলেকে ভয়াবহ দুর্ঘটনা, ডিভাইডারে ধাক্কা খেয়ে দুমড়ে-মুচড়ে গেল গাড়ি, আহত ৪

‘‌বাংলায় আপনাদের মেয়াদ আর ঠিক ১৯ দিন’‌, বিজেপি–নির্বাচন কমিশনকে চ্যালেঞ্জ অভিষেকের

হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে নালিশ তৃণমূলের, কড়া চিঠি পেশ

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ