গিরি পতনের পরেই শুভেন্দুকে গুরুত্ব মমতার, ৩ বছর পর নাম নিলেন মুখে

অখিল গিরি এদিন যখন পদত্যাগ করছেন ঠিক তখনই রাজ্য বিধানসভায় বিরল ঐক্যের ছবি এঁকে দিলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী আর রাজ্যের বিরোধী দলনেতা।

Share:

নিজস্ব প্রতিনিধি: ছবি কী বদলাচ্ছে? ঘরওয়াপ্সির সম্ভাবনা কী বাড়ছে? তীব্র জল্পনা ছড়ালো রাজ্য রাজনীতিতে। নজরে ১জন নন, ৩-৩জন। প্রথমজন রাজ্যের কারামন্ত্রী অখিল গিরি(Akhil Giri)। দ্বিতীয়জন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী(Suvendu Adhikari)। আর তৃতীয়জন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়(Mamata Banerjee)। একসূত্রে আজ যেন বাঁধা পড়ে গেলেন রাজ্য রাজনীতির আবর্তে। শুধু পূর্ব মেদিনীপুরের মাটিতেই নন, রাজ্য রাজনীতির সঙ্গে সম্যক ওয়াকিবহাল থাকা সকলেই জানেন অধিকারীদের অতি ঘনিষ্ঠ আত্মীয় হয়েও কতটা অধিকারী বিরোধী গিরিরা। তৃণমূলে যতদিন অধিকারী রাজ কায়েম ছিল ততদিন রাজ্য ও জেলার রাজনীতিতে তৃণমূলের থেকেও কোনঠাসা ছিলেন গিরিরা। কিন্তু অধিকারীদের তৃণমূল ত্যাগ আর বিজেপিতে যোগদান তৃণমূলে কদর বাড়ায় গিরিদের। কিন্তু শূন্যস্থান পূরণ হয়নি। পূর্ব মেদিনীপুরের মাটিতে অধিকারীদের হটিয়ে তৃণমূলের দাপট প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি গিরিরা। ঘটনাচক্রে অখিল গিরি এদিন যখন পদত্যাগ করছেন রাজ্যের মন্ত্রিসভা থেকে ঠিক তখনই রাজ্য বিধানসভায় বিরল ঐক্যের ছবি এঁকে দিলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী আর রাজ্যের বিরোধী দলনেতা।

আরও পড়ুন OBC Certificate মামলায় রাজ্যকে হলফনামা দাখিলের নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

এদিন রাজ্য বিধানসভায়(West Bengal State Assembly) বাংলা ভাগের বিরদ্ধে প্রস্তাব(Proposal against Bengal Partition) নিয়ে আসে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। প্রস্তাবটি বিধানসভায় পেশ করেন রাজ্যের পরিষদীয় মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। বিধানসভার নাম না করে তিনি আক্রমণ করেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী তথা বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারকে। পরে বিধানসভার অধিবেশনে যোগ দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। শাসক এবং বিরোধী বিধায়কদের বাগযুদ্ধে বার বার উত্তপ্ত হয় বিধানসভার অধিবেশন। প্রস্তাবের পক্ষে রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, ‘বিরোধী দল জানে না কী চায়। কেউ বলছেন রাজ্য চাই। কেউ বলছেন ভাগ চাই।’

চন্দিমার এই মন্তব্যের প্রতিবাদ করেন বিজেপি বিধায়কেরা। তাঁদের দাবি, দলের কেউ রাজ্য ভাগ চায়নি। প্রস্তাবের বিপক্ষে বক্তব্য রাখতে উঠে শুভেন্দু বলেন, ‘আপনাদের আজকের প্রস্তাব পুরোপুরি রাজনৈতিক। এটা পার্টির লিফলেট হয়ে গেছে। বিজেপির একজন সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটা প্রস্তাব দিয়েছেন যা আদৌ বাংলা ভাগের কথা নয়। তিনি বাংলা ভাগের কথা বলেননি। তিনি তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন। আমি একটা প্রস্তাব দি‌চ্ছি। পরিষদীয় মন্ত্রী যখন উত্তর দেবেন তখন বর্তমান প্রস্তাবের বয়ানের কিছুটা পরিবর্তন করুন। আমার প্রস্তাব অখন্ড পশ্চিমবঙ্গ, অবিভক্ত পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়ন নিয়ে প্রস্তাব আনুন। আমরা সহমত পোষণ করবো।’

আরও পড়ুন তিস্তার বুকে ৭৬কিমি এলাকা জুড়ে হবে ড্রেজিং, ৫৫০ কোটির প্রকল্প রাজ্যের

শুভেন্দুর এ কথা শুনে বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আপনারা কোনও সংশোধন প্রস্তাব জমা দেননি। তা জমা দিলে অবশ্যই বিচার করা হত।’ সাধারণত বিরোধীরা কোনও সংশোধন প্রস্তাব আনলে সরকার তা গ্রহণ করে না। তবে সরকার সেই সংশোধন প্রস্তাব নিজেরাই এনে পুরনো প্রস্তাবে পরিবর্তন করে নেন। এদিন শুভেন্দুর বক্তব্য শেষ হতেই দেখা যায়, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় উঠে গিয়ে শুভেন্দুর পাশে গিয়ে বসে পড়েছেন। তারপরেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গ এক থাকবে। আমি শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বলব, বিরোধী দলনেতার প্রস্তাব যুক্ত করা হোক। সংগঠিত প্রস্তাব এলে তা গ্রহণ করা হোক। আমি যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামোয় বিশ্বাসী। কেন্দ্র যেমন সহযোগিতা করবে, তেমনই রাজ্য কেন্দ্রকে সহযোগিতা করবে। শুভেন্দু যেটা বলছে যুক্ত করে নিন। প্রস্তাবে পশ্চিমবঙ্গ এক থাকবে ও বাংলাকে আমরা ভাগ করতে দেব না, এই দুটি লাইন যেন যুক্ত করা হয়।’

কার্যত এদিন সাড়ে তিন বছর বাদে এই প্রথম প্রকাশ্যে শুভেন্দুর নাম মুখে আনলেন মমতা। শুভেন্দু তৃণমূল ছাড়ার পর বিধানসভায় তো বটেই প্রকাশ্য সভাতে তাঁর নাম কখনও মুখে আনেননি। মেদিনীপুরে দলীয় সভায় গেলে তাঁর নাম না করে বলেছেন, ‘গদ্দার’। সেই তুলনায় সোমবারের ঘটনা বিরল। আর সেই কারণেই ছড়াচ্ছে ঘরওয়াপ্সির জল্পনা। আর সেটাও গিরি পতনের পরে পরেই। শুধু তাই নয়, সোমবার তৃণমূল-বিজেপির বিরল ঐক্যের সাক্ষী থাকল বিধানসভায় বাদল অধিবেশনের শেষ দিনটি। বাংলা ভাগ বিরোধী প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার শেষে ‘অখণ্ড পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়নে অঙ্গীকারবদ্ধ’ হল শাসক-বিরোধী দুই পক্ষ। ঐক্যের ছবি ধরা পড়ল অধিবেশনের শেষ লগ্নেও। রাজ্যের মন্ত্রী তথা চন্দননগরের বিধায়ক যখন রাজ্য সঙ্গীত ‘বাংলার মাটি, বাংলার জল’ গাওয়া শুরু করলেন, তখন তৃণমূল বিধায়কদের সঙ্গে উঠে দাঁড়ালেন বিজেপি বিধায়কেরাও।

মমতার দেশবিরোধী মন্তব্য, এবার লালবাজারে অভিযোগ দায়ের হিন্দু মহাসভার

তারেক রহমানের ‘লাল টেলিফোনের’ তার চুরি, পাকড়াও দুই সাগরেদ

ফিরহাদের দুয়ারে এবার সিআইডি, সই জাল কাণ্ডের তদন্তে জেরা

স্বস্তির বৃষ্টিতে মুহুর্মুহু বাজ পড়ে তিন জেলায় প্রাণ হারালেন সাত জন

রাজ্যসভার ১১ আসনের প্রার্থীর নাম ঘোষণা বিজেপির, কারা টিকিট পেলেন?

ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় কেন বিরোধী দলনেতা? ব্যাখ্যা দিলেন বিধানসভার অধ্যক্ষ

কটাক্ষের শিকার, ইনস্টা লাইভ চলাকালীন বিষ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা নেটপ্রভাবীর

‘রেজিনগর থেকে উপনির্বাচনে লড়ুন’, নিঃসঙ্গ মমতাকে প্রস্তাব হুমায়ুন কবীরের

রাহুলের ‘গদ্দারি’তে ক্ষুব্ধ স্ট্যালিন, ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বৈঠক বয়কটের সিদ্ধান্ত ডিএমকে’র

অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের বকেয়া মহার্ঘ ত্রাণ দেওয়ার কাজ শুরু রাজ্য সরকারের

১৬ দিনে শুনানি শেষ, সাত বছরের রামিসার ধর্ষণ-হত্যার মামলার রায় রবিবার

ঋতব্রতদের শিবিরে ভাঙন! মমতাকেই দলনেত্রী মানছেন বিদ্রোহী বিধায়কদের একাংশ

২৪ ঘণ্টায় বিএসএফ-এর দশটি পুশব্যাক রুখে দেওয়ার দাবি বিজিবি’র

‘এবার থেকে ভয়মুক্ত পরিবেশে কাজ করবেন’, প্রযোজকদের আশ্বাস পাপিয়া অধিকারীর