৩ কোটি ৬৪ লক্ষ ফেরত চাই, তবেই মিলবে ১০০ দিনের বকেয়া, বার্তা কেন্দ্রের

১০০ দিনের কাজের প্রকল্পে অপব্যবহার হওয়া ৩ কোটি ৬৪ লক্ষ টাকা উদ্ধার করে দিলেই মিলবে এই প্রকল্পের বকেয়া টাকা। রাজ্যকে জানালো কেন্দ্র।

Share:

নিজস্ব প্রতিনিধি: দেশে বিজেপি(BJP) ও বিরোধী শাসিত একাধিক রাজ্যে ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পের(100 Days Work Project) বরাদ্দের ক্ষেত্রে কোটি কোটি টাকা অপব্যবহার হয়েছে। খোদ মনরেগার অডিটেই উঠে এসেছে এই তথ্য। অথচ, টাকা বন্ধ করা হয়েছে শুধুমাত্র বাংলার(Bengal) ক্ষেত্রে। ২০২২ সালের মার্চ মাসের পর থেকে ১০০ দিনের কাজের টাকা আটকে রেখেছে কেন্দ্র। সেই বকেয়া টাকার পরিমাণ ৫,৫৫৩ কোটি টাকা। এবার সেই টাকা ছাড়ার ক্ষেত্রে কেন্দ্র সরকার নয়া শর্ত আরোপ করে চিঠি পাঠালো রাজ্যকে। সেই চিঠি পাঠিয়েছে কেন্দ্রের গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রক। নবান্ন সূত্রে খবর, চিঠিতে বলা হয়েছে, ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পে বাংলার ৪ জেলায় মোট ৫ কোটি ৩৭ লক্ষ টাকার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছিল ২০২২ সালে। সেই সময় কেন্দ্র প্রতিনিধি দল পাঠিয়েছিল বাংলায়। তাঁরা ঘুরে যাওয়ার পরে অপব্যবহার হওয়া ১ কোটি ৬৭ লক্ষ টাকা ইতিমধ্যেই উদ্ধার করেছে রাজ্য। তবে এখনও বাকি আছে ৩ কোটি ৬৪ লক্ষ টাকা উদ্ধার করা। সেই টাকা উদ্ধার করলেই ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পের বকেয়া মিটিয়ে দেওয়া হবে বলে ওই চিঠিতে জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন, আর জি করের দুর্নীতির তদন্ত রবি সকালেই ৪ চিকিৎসক-আধিকারিকের বাড়িতে সিবিআই হানা

প্রশ্ন হচ্ছে, কেন্দ্র সরকার হঠাৎ নতুন করে ১০০ দিনের কাজের টাকা মেটানোর কথা কেন জানাতে গেল রাজ্যের সরকারকে? ওয়াকিবহাল মহলের দাবি, লোকসভা নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়ে এখন জাতীয় রাজনীতিতে অনেকটাই কোনঠাসা দশা হয়েছে পদ্মশিবিরের। জোড়াতাপ্পি দিয়ে একটা সরকার কেন্দ্রে তৈরি হলেও সেই সরকারের মেয়াদ ও স্থায়িত্ব নিয়ে সংশয় আছে সর্বস্তরেই। ইতিমধ্যেই বেশ কিছু ইস্যুতে বিজেপির সঙ্গে কেন্দ্রের শরিক দলগুলির মতভেদ সামনে আসতে শুরু করেছে। লোকসভা নির্বাচনে বাংলাতেও বিজেপির আসন কমেছে। পদ্মশিবিরের নেতাদের একাংশের দাবি, কেন্দ্র যেভাবে একের পর এক প্রকল্পের ক্ষেত্রে বাংলাকে বঞ্চিত করে চলেছে, টাকা আটকে রাখছে, তা ভালভাবে নিচ্ছেন না আমজনতা। এদিকে বছর ২ বাদেই রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন। সেই ভোটে বিরোধী দলের তকমা ধরে রাখতে গেলে বা ভাল ফল করতে গেলে এই জট কাটানো খুবই দরকার। সেটা দেরীতে হলেও বুঝতে পেরেছেন পদ্মের শীর্ষ নেতারাও। আর তাই ৩ কোটি ৬৪ লক্ষ টাকা উদ্ধার করার বার্তা দিয়ে ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পের বকেয়া মেটাতে চাইছে কেন্দ্র।

আরও পড়ুন, ৮ চাকুরীপ্রার্থীর নাম মেধাতালিকায়, তবুও মেলেনি চাকরি, বড় নির্দেশ হাইকোর্টের

এর পাশাপাশি বাংলায় বিজেপির ঘুম কেড়েছে রাজ্য সরকারের নিজস্ব ‘কর্মশ্রী’ প্রকল্পটিও। কেননা সেই প্রকল্পে কাজ পাচ্ছেন, ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পের জবকার্ড হোল্ডাররাই। মজুরি পাচ্ছেন, কেন্দ্রের প্রকল্পের হারেই। সব থেকে বড় কথা, কেন্দ্রের প্রকল্পে বছরে ১০০ দিনের কাজের কথা বলে হলেও, বাস্তবে ৩০ দিনও কাজ মিলতো না। কিন্তু রাজ্যের প্রকল্পে বছরে ৫০ দিনের কাজের নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়েছে। অর্থাৎ আয়ের সুযোগ বেশি রাজ্যের প্রকল্পে। ফলে আগামী দিনে যদি কেন্দ্র সরকার বাংলার জন্য ১০০ দিনের কাজের প্রকল্প ফের চালুও করে তখন আদৌ সেই প্রকল্পে কাজের জন্য লোক মিলবে কিনা সন্দেহ। কেন্দ্রের অতি চালাকির জেরে এখন কেন্দ্রের প্রকল্পই রাজ্যে জমি হারাবার মুখে এসে দাঁড়িয়েছে। কেন্দ্রের প্রকল্পের জমি দখল করতে শুরু করে দিয়েছে রাজ্যের প্রকল্প। শুধু তাই নয়, কেন্দ্রের টাকা আটকে রাখার নীতির বিরুদ্ধে যেভাবে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়(Mamata Banerjee) রুখে দাঁড়িয়ে ‘কর্মশ্রী’ প্রকল্প চালু করার পাশাপাশি রাজ্যের প্রায় ৬০ লক্ষ জবকার্ড হোল্ডারদের বকেয়া মেটানোর ব্যবস্থা করে দিয়েছেন, তা শুধু বিজেপির মুখ পোড়াচ্ছে তাই নয়, সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে মমতার গ্রহণযোগ্যতাও বাড়িয়ে দিয়েছে।

আরও পড়ুন, আর জি করে স্বাস্থ্যকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকেও হল না সমস্যার সমাধান, জারি কর্মবিরতি

কেন্দ্র চাইছিল, দেশের রাজ্যগুলি দিল্লিমুখী নির্ভরশীতলা নিয়ে টিকে থাকুক। তাতে রাজ্যগুলির প্রশাসন ও শাসন দুইই কেন্দ্রের শাসক দলের হাতের মুঠোয় থাকবে। যখন খুশি, যেমন খুশি, নির্দেশ দিয়ে দেওয়া যাবে রাজ্যগুলিকে। বিরোধী দল শাসিত রাজ্যগুলিকে টুঁটি চেপে ধরা যাবে। কিন্তু মমতাই দেশের মধ্যে একমাত্র মুখ্যমন্ত্রী যিনি নরেন্দ্র মোদির(Narendra Modi) সরকারের এই নীতির বিরুদ্ধে বাঘিনীর মতো লড়াই চালিয়ে গিয়েছেন ও যাচ্ছেন। তিনি শুধু যে লড়াই চালাচ্ছেন তাই নয়, কার্যত রাস্তাও দেখাচ্ছেন। বাংলাকে কেন্দ্রের নির্ভরতায় না রেখে তিনি একের পর এক প্রকল্পের মাধ্যমে কার্যত সাবলম্বী করে তুলেছেন ও তুলছেন। আর সেখানেই বেকায়দায় পড়ছে মোদি সরকার। তাঁদের শুধু জাতীয় স্তরের রাজনীতিতে মুখ পুড়ছে তাই নয়, জমিও হারাতে হচ্ছে। কেননা মমতার দেখানো পথে একাধিক প্রকল্পের ক্ষেত্রে হাঁটা দিচ্ছে দেশের একের পর এক রাজ্য। ফলে দেশের সব রাজ্যগুলিকে হাতের মুঠোয় রাখার যে ফন্দি মোদি সরকার নিয়েছিল তা মাঠে মারা যাচ্ছে। আর তাই সময় থাকতে থাকতেই এখন বাংলার সঙ্গে বিবাদ মেটাতে চাইছে কেন্দ্র। নিজেদের স্বার্থেই। আর তাই এসেছে চিঠি।

টিআরপি-তে বড় রদবদল, ‘পরশুরাম’-এর মুখ পুড়িয়ে শীর্ষে ‘জোয়ার ভাঁটা’

‘তিনি সুন্দরী কিন্তু কখনও হাসেন না’, মহিলা সাংবাদিকদের উপর চড়াও হলেন ট্রাম্প

দীর্ঘদিনের স্বপ্নপূরণ! দন্ডি কেটে ‘নৈহাটির বড়মার’ কাছে বর্ধমানের বিজেপি কর্মী

টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে ধুন্ধুমার কাণ্ড, কলাকুশলীদের উপর ডিম, ইটবৃষ্টি, কারণ কী?

আফগানিস্তানের বিপক্ষে কোহলির জায়গায় খেলবেন কে? দৌড়ে এগিয়ে দুই তারকা

‘বাপ-বেটা চোর’, সন্দীপন সাহার বাড়ির সামনে শ্লোগান স্থানীয়দের, সামিল বিজেপি কর্মীরাও

পদত্যাগ করলেন বিধাননগর পুরসভার মেয়র কৃষ্ণা চক্রবর্তী

মদের নেশায় হাসপাতালে পুলিশ অফিসারকে চড়! ভাইরাল ভিডিও ঘিরে চাঞ্চল্য

গ্রেফতার হবেন মমতা? দেশবিরোধী মন্তব্যের অভিযোগে ফের দায়ের এফআইআর

সাতসকালে শওকতের বাড়িতে NIA হানা, আটক প্রাক্তন বিধায়কের ছেলে

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেইনির সঙ্গে বৈঠকে বসতে চান ডোনাল্ড ট্রাম্প

ভয়ে খাটের তলায় মাথাভাঙার তৃণমূল নেতা, কাটমানি নেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার

দুধের চেয়েও বেশি ক্যালসিয়াম! হাড় মজবুত রাখতে বানিয়ে নিন রাগি গন্ড পোরিজ

সমাজমাধ্যমে নিজের বায়ো থেকে তৃণমূলের পরিচয় সরিয়ে দিলেন দেবাশিস কুমার!