আমরা আসছি
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

সেনা অভ্যুত্থানের ইঙ্গিত দিলেন বাংলাদেশের সেনাপ্রধান

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: রাজনৈতিক অস্থিরতা বন্ধ না হলে বাংলাদেশে ফের সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখল করতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন বাংলাদেশের সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান। আজ মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মহাখালীর ‘রাওয়া’ ক্লাবে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক সভায় তিনি বলেন, ‘আমি আপনাদের সতর্ক করে দিচ্ছি, আপনারা যদি নিজেদের মধ্যে ভেদাভেদ ভুলে একসাথে কাজ না করতে পারেন, নিজেরা যদি কাদা ছোড়াছুড়ি করেন, মারামারি কাটাকাটি করেন, এই দেশ এবং জাতির স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হবে। আমি সতর্ক করে দিচ্ছি আপনাদের। আমার অন্য কোনও আকাঙ্ক্ষা নাই, আমার একটাই আকাঙ্ক্ষা, দেশ এবং জাতিটাকে একটা সুন্দর জায়গায় রেখে ছুটি করা। আই হ্যাড এনাফ লাস্ট সেভেন–এইট মান্থস, আই হ্যাড এনাফ। আমি চাই, দেশ এবং জাতিকে একটা সুন্দর জায়গায় রেখে আমরা সেনা নিবাসে ফেরত আসব।’

২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পিলখানায় বাংলাদেশ সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর (ত‍ৎকালীন বিডিআর) অনুষ্ঠান চলাকালীনই বিদ্রোহ ঘোষণা করে বিডিআরের একাংশ। আল কায়দা জঙ্গি তথা প্রাক্তন সেনা আধিকারিক মেজর জিয়া ও পাকিস্তানি গুপ্তচর বাহিনী আইএসআইয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী বিদ্রোহী বিডিআর জওয়ানরা বাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল সাকিল আমেদ-সহ ৫৭ সেনা আধিকারিককে নির্মমভাবে খুন করে। এমনকি সেনা আধিকারিকদের স্ত্রী এবং মেয়েদের গণধর্ষণও করা হয়। গণধর্ষণের পরে বেশ কয়েকজন সেনা আধিকারিকের স্ত্রীকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়। ঢাকার পিলখানার ওই ঘটনার রেশ ছড়িয়ে পড়েছিল দেশের অন্যান্য অংশেও। শেষ পর্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়ে ওই বিদ্রোহ দমন করেন ত‍ৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তদন্তে উঠে আসে বাংলাদেশের শাসন ক্ষমতা থেকে শেখ হাসিনাকে উচ্ছেদের লক্ষ্য নিয়েই ওই বিদ্রোহ সংগঠিত হয়েছিল। বিদ্রোহীদের পিছনে পূর্ণ মদত ছিল রাষ্ট্রপুঞ্জ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থার। ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর ঢাকা মহানগর আদালতের তরফে ৫৭ সামরিক আধিকারিককে খুনে জড়িত থাকার অপরাধে ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ১৬১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ২৫ জনকে বিদ্রোহে জড়িত থাকার কারণে তিন থেকে দশ বছরের মধ্যে কারাদণ্ডের সাজা শোনানো হয়। নিয়ম অনুযায়ী,  আসামিদের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) হাইকোর্টে অনুমোদনের জন্য যায়। ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের উপর শুনানি শেষে তিন বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চ ২০১৭ সালের ২৬ ও ২৭ নভেম্বর রায় ঘোষণা করে। ১৩৯ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়। যাবজ্জীবন সাজা দেওয়া হয় ১৮৫ জনকে এবং বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয় ২২৮ জনকে। খালাস পায় হাইকোর্টের রায়ের আগে অবশ্য ৫৪ জন আসামি মারা যান।

গত ৫ অগস্ট রাজনৈতিক পালাবদলের পরেই বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলে থাকা বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠন ও কুখ্যাত সন্ত্রাসীদের মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূস সরকার। ৫৭ সামরিক আধিকারিককে খুনের দায়ে জেল খাটা বিডিআরের সদস্যদেরও মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এদিন বিডিআর সদস্যদের মুক্তি দেওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ উগরে দিয়ে সেনাপ্রধান বলেন, ‘আজ একটা বেদনাবিধুর দিবস। ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি আমরা এই ৫৭ জন চৌকস সেনা অফিসার, এবং শুধু তাই নয়, তাদের কিছু কিছু পরিবারবর্গের সদস্যের আমরা হারিয়েছি। এখানে আসার সময় এই ছবিগুলো আমি দেখছিলাম। এই ছবিগুলো আপনারা অনেকে ছবিতে দেখেছেন। কিন্তু এগুলো আমার সব চাক্ষুষ দেখা। আমি একটা চাক্ষুষ সাক্ষী এই সমস্ত বর্বরতার।’

এখানেই থামেননি তিনি। বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) সদস্যরাই যে সেনা আধিকারিকদের খুন করেছেন তা উল্লেখ করে সেনাপ্রধান বলেন, ‘একটা জিনিস আমাদের সব সময় মনে রাখতে হবে। এই বর্বরতা কোনও সেনাসদস্য করেনি। সম্পূর্ণটাই তদানীন্তন বিডিআর সদস্য দ্বারা সংগঠিত। ফুলস্টপ। এখানে কোনও ‘ইফ’ এবং ‘বাট’ (যদি ও কিন্তু) নাই। এখানে যদি ‘ইফ’ এবং ‘বাট’ আনেন, এই যে বিচারিক কার্যক্রম এত দিন ধরে হয়েছে, ১৬ বছর ধরে, ১৭ বছর ধরে যারা জেলে আছে, যারা কনভিকটেড, সেই বিচারিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হবে। এই জিনিসটা আমাদের খুব পরিষ্কার করে মনে রাখা প্রয়োজন। এই বিচারিক প্রক্রিয়াকে নষ্ট করবেন না। যে সমস্ত সদস্য শাস্তি পেয়েছে, তারা শাস্তি পাওয়ার যোগ্য।’

পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের এজেন্ট বাংলাদেশের প্রাক্তন সেনা আধিকারিক-সহ ভারত বিদ্বেষী রাজনৈতিক দলগুলির নেতারা পিলখানা হত্যাকাণ্ডকে ত‍ৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের বৈদেশিক গুপ্তচর সংস্থা ‘র’-এর যোগসাজশ রয়েছে বলে অভিযোগ করছেন। সেই অভিযোগ খারিজ করে সেনাপ্রধান বলেন, ‘এখানে কোনও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এর মধ্যে উপস্থিত ছিল কিনা, জড়িত ছিল কিনা, বাইরের কোনও শক্তি এর মধ্যে সংশ্লিষ্ট ছিল কিনা, সেটার জন্য কমিশন করা হয়েছে। কমিশনের চেয়ারম্যান এখানে আছেন। উনি এটা বের করবেন। এবং আপনাদের জানাবেন। কিন্তু বটমলাইন হচ্ছে যে, এই সমস্ত, আমাদের এই চৌকস সেনাসদস্য যারা যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তারা প্রাণ হারিয়েছেন তদানীন্তন বিডিআর সদস্যদের গুলিতে। আমরা নিজেরা এসব জিনিস নিয়ে অনেক ভিন্নমত পোষণ করছি কেউ কেউ। এই জিনিসটাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছি। সেটা আমাদের জন্য মঙ্গলজনক হবে না।’

 

Published by:

Share Link:

More Releted News:

জেল খাটতে কেমন লাগে? কৌতুহল থেকে ১১ বছরের নাবালককে খুন ৬ কিশোরের

বাংলাদেশে জঙ্গলরাজ, তারেক জমানার আড়াই মাসে ৪৬৪টি খুন ও ৬৬৬টি ধর্ষণ

বাংলাদেশে ‘জঙ্গি’ আছে? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বললেন, ‘নেই’, উল্টোসুর তারেকের তথ্য উপদেষ্টার

জঙ্গি হামলার আশঙ্কা , ঢাকা সহ বাংলাদেশের ৮ বিমানবন্দরে কড়া সতর্কতা

বাংলাদেশে একই দিনে সাত জেলায় বজ্রাঘাতে ১৩ জনের মৃত্যু

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা, হিন্দু শিক্ষককে গ্রেফতার

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ