চোখ রাখুন
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

জানেন কী? রাবণের মামার অব্যর্থ নিশানায় তীর বিদ্ধ হয়েছিলেন  মহাবলী হনুমান

পৃথ্বীজিৎ চট্টোপাধ্যায় : হিন্দুদের অন্যতম পৌরাণিক মহাকাব্য রামায়ণের একটি বিশেষ অধ্যায় হল রাম-রাবণের যুদ্ধ। তবে, রামের সাথে রাবণের যুদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি রামভক্ত বজরংবলীর সাথেও প্রবল যুদ্ধ হয়েছিল রাবণের। লক্ষণের শক্তিশেলে বিদ্ধ হওয়ার কথা কমবেশি সকলেই জানলেও জানতেন কী? প্রবল পরাক্রমী কোটি সূর্য তেজ সমৃদ্ধ বায়ু পুত্র অখণ্ড ব্রহ্মচারী হনুমান একাধিক বার অগণিত শরবিদ্ধ হয়েছিলেন! তবে প্রত্যেকবারই তাঁর তেজ আরও অনেকাংশে বৃদ্ধি পেয়ে গিয়েছিল। মোটের ওপর এই অধ্যায়ে বীর হনুমানের অসীম সাহস, অসাধারণ শক্তি ও অপরাজেয় মনোবল এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।

কথিত আছে, যুদ্ধ চলাকালীন রাবণের সেনাপতি-সহ পরাক্রমশালী রাক্ষসযোদ্ধারা একের পর এক বীর হনুমানের হাতে নিহত হচ্ছিলেন । তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন রাবণের মামা অকম্পন। তিনি ছিলেন রাবণের এক বিশ্বস্ত সহচর এবং রাক্ষস সেনার একজন বীর সেনাপতি। অকম্পন যখন যুদ্ধক্ষেত্রে প্রবেশ করলেন, তখন যুদ্ধক্ষেত্র ইতোমধ্যেই রক্তাক্ত এবং বানর বাহিনীর বীরত্বে গর্জমান। অকম্পন রণক্ষেত্রে এসে একেবারে হনুমানের দিকেই ধেয়ে গিয়েছিলেন। তিনি মুহূর্তের মধ্যে তূণীর থেকে তীর বের করে হনুমানের দিকে একের পর এক চোদ্দোটি তীক্ষ্ণ তীর নিক্ষেপ করেছিলেন। সেই তীরগুলো হনুমানের দেহে বিঁধে গিয়েছিল, রক্তাক্ত হয়ে উঠেছিল চারপাশ। এই দৃশ্য দেখে রাক্ষস বাহিনী উল্লাসে ফেটে পড়ে, যেন বিজয় আসন্ন!

কিন্তু রাক্ষসদের সেই উল্লাস বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। কারণ মহাবলী হনুমান ছিলেন বীরত্ব ও শক্তির অপর নাম। তিনি স্বয়ং সঙ্কটমোচন।  বাণবিদ্ধ হনুমান রক্তাক্ত হলেও একচুলও দমে যাননি। বরং তীরবিদ্ধ অবস্থায় আরও উগ্র হয়ে উঠেছিলেন। ক্রোধে লাল হয়ে তাঁর চোখ আগুনের মতো জ্বলছিল। তখন তিনি যুদ্ধক্ষেত্রের এক বিশাল অশ্বত্থ গাছ মাটি থেকে উপড়ে নিয়ে সেই গাছকে অস্ত্র করে অকম্পনের দিকে ধেয়ে গিয়েছিলেন।

অকম্পন প্রথমে হনুমানের এই রূপ দেখে ভড়কে গেলেও নিজেকে সামলে নিয়ে নিজের গদা নিয়ে প্রতিরোধের চেষ্টা করলেন। কিন্তু বীর হনুমান অশ্বত্থ গাছটি ঘুরিয়ে নিয়ে এমন এক প্রচণ্ড আঘাত হেনেছিলেন যে অকম্পনের দেহ ছিন্নভিন্ন হয়ে গিয়েছিল। ফলে তিনি রণক্ষেত্রেই প্রাণ হারালেন। অকম্পনের মৃত্যুতে রাক্ষস বাহিনীতে শোকের ছায়া নেমে এলো আর বানরসেনা জয়ধ্বনি দিয়ে আকাশ-বাতাস মুখরিত করল।

এই লড়াই কেবল শারীরিক শক্তির নয়, আত্মশক্তিরও পরিচায়ক। বাণবিদ্ধ অবস্থায়ও হনুমানের অটল মনোবল এবং ভক্তি তার অসাধারণ সাহসিকতাকে উজ্জ্বল করে তোলে। তার এই বীরত্ব আমাদের শেখায়—সত্য ও ধর্মের পথে চললে বিপদ যত বড়ই হোক না কেন, তার মোকাবিলা করা যায় নির্ভীকচিত্তে। হনুমান ছিলেন রামভক্তির প্রতীক; তার জন্যই ভগবান শ্রীরামের আশীর্বাদে তিনি অপরাজেয় হয়েছিলেন।

অকম্পন বধের মাধ্যমে হনুমান প্রমাণ করেছিলেন যে রাবণ ও তার সেনাপতি-সহচরদের শক্তি যতই বিশাল হোক, অন্যায়ের পক্ষে থাকা কোনো শক্তিই ধর্মের সামনে টিকতে পারে না। এই কাহিনী রামায়ণের যুদ্ধ পর্বে বীরত্ব, ভক্তি এবং ন্যায়ের জয়ের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে চিরকাল মানুষের মনে অনুপ্রেরণা জোগাবে।

এইভাবে অকম্পনকে বধ করে মহাবলী হনুমান একদিকে শত্রু সেনায় যেমন ভীতি ছড়িয়েছিলেন, অন্যদিকে বানরসেনার মনোবল বহু গুণ বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। হনুমানের এই অসীম সাহস ও আত্মবিশ্বাসই শেষ পর্যন্ত রাম-রাবণের যুদ্ধের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। এই অধ্যায় আমাদের শিখিয়ে দেয়—কঠিনতম পরিস্থিতিতেও মনোবল হারানো উচিত নয়; কারণ সাহস ও ন্যায়ের শক্তিতেই অশুভ শক্তিকে পরাজিত করা যায়। জয় শ্রী শ্রী হনুমান।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

সার্কাস প্রদর্শনী থেকে লাফ দিয়ে দর্শকদের কাছে ছুটে গেল বাঘ, তারপর….

ইসরো-র ‘যুবিকা’ কর্মসূচিতে সুযোগ পেল বালুরঘাটের অভ্র, দেশে র‍্যাঙ্ক ১৭৬

উপেক্ষার বদলা! প্রেমিককে চেয়ারে বেঁধে আগুনে পুড়িয়ে মারল প্রেমিকা

জীবিত থেকেও সরকারি খাতায় ‘মৃত’,অনাহারে দিন কাটছে ৯৪ বছরের বাউল শিল্পীর

অক্ষয় তৃতীয়ায় শেষ মুহূর্তের কেনাকাটার শুভ লগ্ন কখন শুরু?জানুন সময়সূচি

৯ কোটি টাকায় নিলাম টাইটানিকের ‘বেঁচে যাওয়া’ এক যাত্রীর লাইফ জ্যাকেট

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ