দেখ্তে থাকুন
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

অদ্ভুত পৌরাণিক পাখিটিকে চেনেন কী ?

পৃথ্বীজিৎ চট্টোপাধ্যায় : ভারতীয় পুরাণ ও লোকবিশ্বাসে অসংখ্য পৌরাণিক সত্ত্বার উল্লেখ পাওয়া যায়, যাদের মধ্যে কিছু দেবতা, কিছু দানব বা অসুর এবং কিছু অতিপ্রাকৃত শক্তির প্রতীক। তাঁদের কেউ কেউ আমাদের পরিচিত হলেও অধিকাংশ রূপের নাম ও মাহাত্ম্য আমাদের অজানা রয়ে গিয়েছে। এদেরই মধ্যেই এক রহস্যময়, শক্তিশালী সত্ত্বা হল — গান্দাবেরুন্দা। যা একটি দ্বিমুখী পাখি। এই প্রাণীটির প্রতিটি মাথা অতিশয় ভয়ংকর, এবং হিন্দু শাস্ত্রে এটিকে এক অপ্রতিরোধ্য শক্তির প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে।

গান্দাবেরুন্দা প্রধানত দক্ষিণ ভারতীয় পুরাকথা ও প্রতীকী চর্চায় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, যা বিশেষত কর্নাটক রাজ্যের সাংস্কৃতিক পরিচয়ে গর্বের সঙ্গে ব্যবহৃত হয়। কর্নাটক সরকারের রাজচিহ্নে আজও গান্দাবেরুন্দার ছবি শোভা পায়, যা তার ঐতিহাসিক গুরুত্ব এবং প্রতীকি মূল্যকে আরও শক্তিশালী করে তোলে।

পৌরাণিক বর্ণনা

হিন্দু পৌরাণিক শাস্ত্রে শ্রী হরির অজস্র রূপের বর্ণনা করা হয়েছে। তিনি জগৎপালক। এই মহাবিশ্বের স্থিতি তাঁরই হাতে। বিভিন্ন পুরাণে তাঁর দশ অবতারের কথা বর্ণনা করা হয়েছে, যাঁরা মূলত বিভিন্ন যুগে ধর্মকে রক্ষা করতে আবির্ভুত হয়েছিলেন। এই দশাবতারের বাইরে শ্রী হরির একটি বিশেষ রূপ হল এই গান্দাবেরুন্দা। বলা হয়। জানা যায়, গান্দাবেরুন্দার উল্লেখ বিষ্ণুপুরাণ এবং স্থানীয় কিংবদন্তীতে পাওয়া যায়। কিংবদন্তী অনুসারে, যখন ভগবান বিষ্ণু তাঁর নৃসিংহ অবতারে হিরণ্যকশিপুকে বধ করেন, তখন তিনি অতিমাত্রায় উগ্র ও ধ্বংসাত্মক হয়ে ওঠেন। এই ভয়ঙ্কর রূপ শান্ত করতে না পেরে দেবতারা উৎকণ্ঠিত হয়ে পড়েন। এমন সময় তিনি নিজের রুদ্র রূপকে নিয়ন্ত্রণ করতে গান্দাবেরুন্দা রূপ ধারণ করেন।

গান্দাবেরুন্দার শরীর পাখির মতো হলেও এর দুটি মাথা থাকে, এবং প্রতিটি মাথা ভয়, শক্তি ও প্রতাপের প্রতীক। কল্পনায় এই সত্ত্বা সাধারণত আগুনে মোড়া অবস্থায়, তীক্ষ্ণ নখর যুক্ত আঙ্গুল ও ডানার সঙ্গে চিত্রিত হয়। এর শক্তি এতটাই অতুলনীয় যে এটি বৃহৎ দানব বা দুষ্ট শক্তিকে নিমিষে ধ্বংস করে দিতে পারে।

সাংস্কৃতিক ও প্রতীকী গুরুত্ব

গান্দাবেরুন্দা কেবল পৌরাণিক কাহিনিতে  সীমাবদ্ধ নয়; এর প্রতীকি তাৎপর্যও গভীর। এটি দ্বৈত শক্তির সামঞ্জস্য, সংহার ও সৃষ্টির মধ্যে ভারসাম্য এবং ন্যায় প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি হিসেবে দেখা হয়। দুই মাথা একসঙ্গে কাজ করে একটি অভিন্ন শক্তির বিকাশ ঘটায়—এটি যেন ঈশ্বরের দৃষ্টিভঙ্গির সর্বব্যাপীতা ও সুষম দৃষ্টি প্রতিফলিত করে।

কর্নাটক রাজ্যের ইতিহাসে বিজয়নগর সাম্রাজ্য থেকে শুরু করে মহারাজা ওয়াদেয়ারদের রাজত্বেও গান্দাবেরুন্দা চিহ্নের ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। বিশেষ করে রাজচক্র, সিংহাসন, মুদ্রা ও সেনাবাহিনীর প্রতীক হিসেবে এটি ব্যবহৃত হতো। সমসাময়িক কালে কর্নাটকের রাজ্য সরকার, সরকারি নথি, রাজ্য পুলিশ এবং বিমানবন্দরগুলোতেও এই প্রতীক ব্যবহৃত হয়। এছাড়া এটি শক্তি, ঐতিহ্য, আত্মবিশ্বাস এবং ন্যায়ের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার প্রতিরূপ। কন্নড়দের  এটি একটি আত্মপরিচয়ের অংশ হয়ে উঠেছে। বহু স্থাপত্য, ভাস্কর্য এবং শিল্পকলায় গান্দাবেরুন্দা চিত্রিত হয়ে থাকে।

অতঃএব নিঃসন্দেহে বলা যেতে পারে, গান্দাবেরুন্দা শুধু একটি পৌরাণিক প্রাণী নয়, এটি ভারতীয় সংস্কৃতির এক গৌরবময় প্রতীক, যা শক্তি,  ধ্বংস ও পুনর্গঠনের সমন্বয় ঘটায়। এর রূপ, শক্তি ও তাৎপর্য আমাদের শেখায় যে কখনও কখনও কঠোরতা ও শক্তি দিয়েই ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন হয়। ভারতীয় মিথ এবং বিশ্বাসের জগতে গান্দাবেরুন্দা এক অপার রহস্য ও অলৌকিকতার ধারক, যা যুগ যুগ ধরে ভক্তি, ভয় ও বিস্ময়ের সৃষ্টি করে চলেছে।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

সার্কাস প্রদর্শনী থেকে লাফ দিয়ে দর্শকদের কাছে ছুটে গেল বাঘ, তারপর….

ইসরো-র ‘যুবিকা’ কর্মসূচিতে সুযোগ পেল বালুরঘাটের অভ্র, দেশে র‍্যাঙ্ক ১৭৬

উপেক্ষার বদলা! প্রেমিককে চেয়ারে বেঁধে আগুনে পুড়িয়ে মারল প্রেমিকা

জীবিত থেকেও সরকারি খাতায় ‘মৃত’,অনাহারে দিন কাটছে ৯৪ বছরের বাউল শিল্পীর

অক্ষয় তৃতীয়ায় শেষ মুহূর্তের কেনাকাটার শুভ লগ্ন কখন শুরু?জানুন সময়সূচি

৯ কোটি টাকায় নিলাম টাইটানিকের ‘বেঁচে যাওয়া’ এক যাত্রীর লাইফ জ্যাকেট

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ