চোখ রাখুন
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

উত্তপ্ত পাক অধিকৃত কাশ্মীর, পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে Gen Z

নিজস্ব প্রতিনিধি: কয়েক সপ্তাহ আগে হিংসায় কেঁপে উঠেছিল পাক-অধিকৃত কাশ্মীর (POK)। তারপর কয়েকদিন কাটতে না কাটতেই ফের এই অঞ্চলে উঠেছে বিক্ষোভের আরও এক ঢেউ।  এবার Gen Z এই বিদ্রোহের কাণ্ডারী। শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নেমেছেন শিক্ষা সংস্কারের বিরুদ্ধে। শিক্ষাক্ষেত্রে বর্ধিত ফি এবং মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ হিসাবে যা শুরু হয়েছিল তা শাহবাজ শরিফের নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভে রূপান্তরিত হয়েছে। এর ফলে অশান্ত অঞ্চলে Gen Z গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেছে।

অক্টোবরের শুরুর দিকে হওয়া বিক্ষোভ প্রথমদিকে শান্তিপূর্ণই ছিল। জানা গিয়েছে, এক অজ্ঞাত বন্দুকধারী একদল ছাত্রের উপর গুলি চালালে একজন আহত হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিওগুলিতে দেখা যাচ্ছে যে মুজাফ্ফরাবাদে একজন ব্যক্তি বিক্ষোভকারীদের উপর গুলি চালাচ্ছেন। এর ফলে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অভিযোগ, এই গুলি চালানোর ঘটনাটি পুলিশ আধিকারিকদের উপস্থিতিতে ঘটেছে।

এরপর Gen Z আন্দোলন গুরুত্বপূর্ণ মোড় নেয়। ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা টায়ার জ্বালিয়ে অগ্নিসংযোগ করে, চলে ভাঙচুর। ছাত্ররা পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দেয় যা দক্ষিণ এশিয়ার দেশ নেপাল এবং বাংলাদেশে Gen Z বিক্ষোভেরই প্রতিফলন।মুজাফ্ফরাবাদের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলির মধ্যে একটিতে ফি বৃদ্ধি এবং উন্নত সুযোগ-সুবিধার দাবিতে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল। আন্দোলন তীব্রতর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসন তৎক্ষণাৎ বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করে।

২০২৪ সালের জানুয়ারিতেও একই রকম আন্দোলন শুরু হয়েছিল। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছিল যে সেমিস্টার ফি’র নামে প্রতি ৩-৪ মাসে লক্ষ লক্ষ টাকা আদায় করা হচ্ছে। এরপর, পাক অধিকৃত কাশ্মীরের শিক্ষক ও প্রশাসনিক কর্মীরাও তাদের দীর্ঘদিনের বকেয়া বেতন বৃদ্ধির দাবিতে বিক্ষোভে যোগ দেন।

এবার, ইন্টারমিডিয়েটের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভে যোগ দিয়েছে। তাদের অভিযোগ হল নতুন শিক্ষাবর্ষে ম্যাট্রিকুলেশন এবং ইন্টারমিডিয়েট স্তরে একটি নতুন ই-মার্কিং বা ডিজিটাল মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালু করার দাবি বহুদিন ধরে উঠলেও তা পূরণ করা হয়নি। ৩০ অক্টোবর প্রায় ছ’মাস পর পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ইন্টারমিডিয়েট প্রথম বর্ষের পরীক্ষার ফলাফল ঘোষিত হয়। স্থানীয় প্রতিবেদন অনুসারে, শিক্ষার্থীরা অপ্রত্যাশিতভাবে কম নম্বর পায়। তাতেই দানা বাঁধে ক্ষোভ। এর জন্য তারা ই-মার্কিং সিস্টেমকে দায়ী করে।

কিছু ক্ষেত্রে, শিক্ষার্থীরা এমন বিষয়গুলিতে পাস করেছে যেগুলির পরীক্ষায় তারা অংশও নেয়নি। সরকারের পক্ষ থেকে কোনও স্পষ্টীকরণ না দেওয়া হলেও, মীরপুরের এডুকেশন বোর্ড ই-মার্কিং প্রক্রিয়া মূল্যায়নের জন্য একটি কমিটি গঠন করেছে।বিক্ষোভকারীরা পুনঃপরীক্ষা নেওয়া এবং  বেতন মুকুবের দাবি জানিয়েছে। কারণ দ্বিতীয়বার পরীক্ষায় বসতে হলে পেপার প্রতি ১,৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সুতরাং, যে শিক্ষার্থী সাতটি বিষয়ে আবার পরীক্ষায় বসতে চায় তাদের ফি দিতে হচ্ছে ১০,৫০০ টাকা।  এই আন্দোলনকে আরও জোরালো করে তুলেছে প্রভাবশালী জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটির (JAAC) সমর্থন, যা অক্টোবরে সহিংস বিক্ষোভের অগ্রভাগে ছিল।

এক মাস আগে অস্থিরতায় জর্জরিত পাক অধ্যুষিত কাশ্মীরে কর ছাড়, আটা ও বিদ্যুতের উপর ভর্তুকি তুলে দেওয়া এবং উন্নয়ন প্রকল্প সম্পন্ন করার মতো ৩০টি দাবি নিয়ে শুরু হওয়া বিক্ষোভে ১২ জনেরও বেশি সাধারণ মানুষ মারা যান। পাকিস্তান সরকার গুলি চালিয়ে আন্দোলন দমন করার চেষ্টা করলে, সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বৃহত্তর আন্দোলন শুরু হয়। বাধ্য হয়ে শরিফ সরকার বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দাবি মেনে নেয়।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

৪৯ দিন বাদে হরমুজ খুলে দিল ইরান, অবরুদ্ধ রাখার ঘোষণা ট্রাম্পের

ইন্দোনেশিয়ায় ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা, নিহত ৮ যাত্রী

সান ফ্রান্সিসকোতে বিপাকে এয়ার ইন্ডিয়ার পাইলট, ব্যাগ থেকে যা উদ্ধার হল….

পিছনে থাকা নতুন শত্রুদের সন্ধানে ইজরায়েল, শীর্ষে পাকিস্তান-তুরস্ক

Ai কাড়ছে চাকরি! প্রতিটা মানুষকে ভাতা দেওয়া উচিত সরকারের, দাবি মাস্কের

যুদ্ধজাহাজে খাদ্য সংকট! পেট ভরে খাবার মিলছে না মার্কিন সেনাদের

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ