আমরা আসছি
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

৯ বছরের বড় আমেরিকান মহিলার প্রেমে পড়লেন অন্ধ্রের যুবক, তাক লাগাবে যুগলের ‘লাভ স্টোরি’

নিজস্ব প্রতিনিধি: কথায় আছে, প্রেম কোনও বয়স, বাঁধা, সময়, জাতি-ধর্ম কিছুই মানে না। ভালবাসা যেকোনও সময়, যেকোনও জায়গায় এবং যে কারোর সঙ্গে হতে পারে। কিছু মানুষ প্রথম দেখাতেই প্রেমে পড়ে যায়, আবার কেউ কেউ প্রেমের বয়স পেরিয়ে যাওয়ার পরেও প্রেমে পড়ে যায়, এবং এমন একজনকে খুঁজে পায় যার সঙ্গে বাকি জীবন কাটিয়ে দিতে চায়। বিশেষ করে, বর্তমানে বিয়ের জন্যে বা প্রেমের জন্যে কোনও ছেলেকে তাঁর ভালবাসার মানুষের থেকে বয়সে বড় হতে হবে, তার কোনও অর্থ নেই। এখন ভালবাসায় বয়স কোনও ব্যাপার নয়। একজন ছেলে তাঁর থেকে বয়সে বড় মেয়ের প্রেমে পড়তে পারেন ইসিলি। হ্যাঁ, আজ এমনই একটি গল্প আপনাদের জানাব, যেখানে একজন ভারতীয় যুবক তাঁর থেকে ৯ বছরের বড় আমেরিকান মহিলার প্রেমে পড়েছেন, যিনি কিনা ডিভোর্সীও। আসলে ডিজিটাল যুগে, ভালবাসাকে সীমানা, দেশ বা ভাষা দিয়ে থামানো যায় না। তেমনই সোশ্যাল মিডিয়া এখন আর কেবল ছবি এবং ভিডিও শেয়ার করার মাধ্যম নয়, বরং অনেকের জীবন বদলে দেওয়ার জন্যেও যথেষ্ট হয়ে উঠেছে। এই প্রেমের গল্পের নায়িকা জ্যাকলিন ফোরো। যিনি আমেরিকার টেক্সাসে থাকেন।

২০২১ সালে ভয়াবহ দাবানলে সবকিছু হারিয়েছিলেন তিনি। ব্যক্তিগত জীবনে অনেক উত্থান-পতনের পর অবশেষে তিনি প্রায় ১৪,৮০০ কিলোমিটার দূরে অন্ধ্রপ্রদেশের একটি প্রত্যন্ত গ্রামে তাঁর ভালবাসা খুঁজে পেয়েছেন। হ্যাঁ, অন্ধ্রপ্রদেশের একটি ছোট গ্রামের বাসিন্দা চন্দন সিংহ রাজপুতের প্রেমে পড়েছেন তিনি। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে চন্দন তাঁর ইনস্টাগ্রামে একটি অজানা বার্তা পান, তখনও তিনি জানতেন না যে, এই বার্তা তাঁর জীবন বদলে দেবে। কারণ সেই বার্তাটি চন্দনকে পাঠিয়েছিলেন আমেরিকান ফটোগ্রাফার জ্যাকলিন, এবং সেখান থেকে শুরু হয় তাঁদের প্রেমের গল্প। চন্দনকে ইনস্টাগ্রামে একটি বার্তার অনুরোধ পাঠিয়েছিলেন জ্যাকলিন। চন্দন খুব বেশি চিন্তা না করেই অনুরোধটি গ্রহণ করেন। এরপর তাঁদের মধ্যে বন্ধুত্ব হয়। সেই রাতেই তাঁরা কথা বলতে শুরু করেন। তাঁদের রুচির সঙ্গে বেশ মিল ছিল। প্রথমদিকে, তারা কেবল আড্ডা দিতেন। একে অপরকে মজার বার্তা, ছবি এবং রসিকতা পাঠাতেন। কিন্তু ধীরে ধীরে তারা একে অপরকে বুঝতে শুরু করেন। জীবনের ছোট ছোট মুহূর্ত ভাগ করে নিতে থাকেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে, তাঁরা WHATSAPP-এর মাধ্যমে কথোপকথন শুরু করেন। যা ভিডিও কলে প্রসারিত হয়। এই কলগুলি তাঁদের মধ্যে দূরত্ব কমিয়ে দেয় এবং তাঁদের বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে।

 

এরপর বয়সের বাধ ভেঙে জ্যাকলিন এবং চন্দন ঘনিষ্ঠ হতে শুরু করে। কিন্তু জ্যাকলিন চন্দনের চেয়ে নয় বছরের বড় ছিলেন এবং আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, তিনি একজন ডিভোর্সী। ভারতীয় সমাজের দৃষ্টিকোণ থেকে এই সম্পর্ক বজায় রাখা সহজ ছিল না তাঁদের পক্ষে। চন্দন যখন তাঁর পরিবারকে সবকিছু বলে, তখন প্রাথমিকভাবে, তাঁদের পরিবার এবং বন্ধুরা তাদের সম্পর্ক নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিল। কিন্তু চন্দন তাঁর জেদ বজায় রেখেছিল এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর পরিবার তাঁদের সম্পর্ক মেনে নেন। তাঁরা ভিডিও কলের মাধ্যমে জ্যাকলিনের সঙ্গে কথা বলেন। ওদিকে জ্যাকলিনের বাবা-মাও চন্দনকে খোলা মনে মেনে নেন। এরপরে তাঁরা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। প্রায় ১৪ মাস ধরে তাঁরা দীর্ঘ দূরত্বের সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন। কিন্তু দূরত্ব বা অপেক্ষা কোনো কিছুই তাঁদের প্রেমকে ঠেকাতে পারেনি। জ্যাকলিন এবং চন্দনের প্রেমকাহিনীর সবচেয়ে বিশেষ মুহূর্তটি ছিল যখন তাঁরা দীর্ঘ ১৪ মাস ডেটিংয়ের পর প্রথম দেখা করেছিলেন। জ্যাকলিন ১৪,০০০ কিলোমিটার ভ্রমণ করে ভারতে আসেন এবং চন্দন বিমানবন্দরে তাঁর সঙ্গে দেখা করেন। ভারতে এসে, জ্যাকলিন কিছুদিন চন্দনের পরিবারের সঙ্গে বসবাস করেন। চন্দনের ঘরোয়া পরিবেশ, ভালবাসা এবং মানুষের উষ্ণতা জ্যাকলিনকে প্রলুব্ধ করে। কিন্তু যখন আমেরিকায় ফিরে যাওয়ার সময় এল, তখন তারা দুজনেই খুব আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তবে
তাঁদের ভালবাসাকে অনেকেই ট্রোলিং করেছিল। কিন্তু এত কিছুর পরেও তাঁদের সম্পর্ক কখনও দুর্বল হয়নি।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

মধ্যপ্রদেশে ৩১ যাত্রী নিয়ে মাঝ নদীতে ডুবল ক্রুজ! মৃত অন্তত ৪, নিখোঁজ অনেকে

শুক্র থেকেই মহারাষ্ট্রের রিকশা-ক্যাব চালকদের মরাঠিতে কথা বলা বাধ্যতামূলক

হরমুজ প্রণালি খুলতে চাইছেন ট্রাম্প, পাল্টা বিশেষ বার্তা মোজতবার

‘তিনি মাদ্রাজ-এর এপস্টিন’, তামিল সুরকারের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ গায়িকার

নিরাপত্তা প্রত্যাহার ইস্যুতে পঞ্জাবের আপ সরকারের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হরভজন

মিশন পঞ্জাব, মাদক ইস্য়ুতে আম আদমি পার্টিকে জব্দ করতে ব্লু প্রিন্ট তৈরি শাহের

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ