আমরা আসছি
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

‘‌আজ যখন তার সাহায্যের প্রয়োজন, তখন কেউ পাশে নেই’‌, মুকুলের জন্মদিনে হতাশা শুভ্রাংশুর

নিজস্ব প্রতিনিধি: মুকুল রায়। রাজ্য–রাজনীতিতে একটা বড় নাম। তৃণমূল কংগ্রেস বিরোধী আসনে থাকার সময় থেকে তাঁকে দেখা গিয়েছিল রাজনৈতিক লড়াই করতে। তারপর একে একে পঞ্চায়েত, পুরসভা, লোকসভা থেকে বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস জিতে ক্ষমতায় আসে ২০১১ সালে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘ আপসহীন লড়াইয়ে সৈনিক হিসাবে কাজ করে গিয়েছেন মুকুল। হয়ে উঠেছিলেন দলের সেকেন্ড–ইন কমান্ড। তারপর নিজে রেলমন্ত্রী পর্যন্ত হয়েছিলেন। ক্ষুদ্র মতপার্থক্যে পরে ঘাসফুল ছেড়ে চলে যান পদ্মফুলে। অর্থাৎ বিজেপিতে। সেখানে গিয়েও সর্বভারতীয় সহ–সভাপতি হয়েছিলেন মুকুল রায়। কৃষ্ণনগর উত্তর বিধানসভা থেকে জয়ীও হন বিজেপির টিকিটে। এখন বিছানায় পড়ে আছেন। আর তাঁর জন্মদিনে অতীতের কথা স্মরণ করে হতাশার সুর শোনা গেল ছেলে শুভ্রাংশু রায়ের গলায়।

এদিকে রাজনীতি থেকে আজ তিনি বহু দূরে। একদা বক্তৃতা দিয়ে মাঠ ভরাতেন। আজ তিনি একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জীবনের শেষ দিনগুলি কাটাচ্ছেন। মুকুল রায় বাংলার রাজনীতির ময়দানে একটা উল্লেখযোগ্য নাম। বিজেপি থেকে তিনি পরে ফিরে আসেন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর। দল তাঁকে গ্রহণও করেছিলেন। মাঝে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে তাঁর নেতৃত্বেই বিজেপি ১৮টি আসন জয় করেছিল। প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছিল রাজ্য–রাজনীতিতে। কিন্তু এখন কেমন আছেন মুকুল রায়?‌ এই প্রশ্নের উত্তর জানতে চান সকলেই। সেখানে আজ ২৩ জানুয়ারি তাঁর জন্মদিনে স্মৃতিচারণ করলেন ছেলে শুভ্রাংশু রায়। ফেসবুকে একটি পোস্ট করে তিনি লিখেছেন, ‘‌মুকুল রায়ের কাছ থেকে অনেকেই রাজনৈতিক সুবিধা নিয়েছেন। কিন্তু আজ শেষের দিনগুলিতে তাঁর পাশে কেউ নেই। তিনি নিঃসঙ্গ।’‌

অন্যদিকে মুকুল রায় এখন আর রাজনীতিতে নেই। তবে তৃণমূল কংগ্রেসে ফিরে আসার পর তাঁকে বিধানসভার পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়েছিল। এখন সেসব অতীত। তাই তো ছেলে শুভ্রাংশু রায় লেখেন, ‘‌মেনি মেনি হ্যাপি রিটার্নস অফ দ্য ডে বলতে পারছি না। কারণ বাবা যে অসহনীয় কষ্ট ভোগ করছেন, তা আর চোখে দেখা যায় না। আজ ২৩ জানুয়ারি নেতাজির জন্মজয়ন্তী একইসঙ্গে সরস্বতী পুজো। নেতাজির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়ে বলতে চাই আমার কাছে রিয়েল হিরো তুমি বাবা। তাঁর যাবতীয় শিক্ষা, জ্ঞান, সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা সবই বাবার কাছ থেকে শেখা। মানুষের জন্য কাজ করা, সমাজ গড়ার ভাবনা এসবের মূল শিক্ষক ছিলেন মুকুল রায়। কিন্তু আজ সেই বাবা একা হাসপাতালের বিছানায় কষ্ট পাচ্ছেন। যেখানে একসময় হাজার হাজার মানুষ তাকে ঘিরে থাকত, সেখানে এখন নীরবতা।’‌

এছাড়া মুকুল রায়ের রাজনৈতিক জীবন বর্ণময়। ২০২৩ সাল থেকে তাঁর স্বাস্থ্যের অবনতি শুরু হয়। পারকিনসনস ডিজিজ, ডিমেনশিয়া এসব রোগে আক্রান্ত। মস্তিষ্কে জল জমার সমস্যায় অস্ত্রোপচারও হয়েছিল। ২০২৪ সালে বাথরুমে পড়ে গিয়ে মাথায় চোট পান। তারপর থেকে তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল নয়। দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসাধীন, যন্ত্রণায় কাতর। রাজনীতির ময়দান থেকে অনেক দূরে আছেন তিনি। তাই শুভ্রাংশু লিখেছেন, ‘‌সবাই সুবিধা নিয়েছে। তাদের অনেকেই তোমার দ্বারা উপকৃত ও আজ সমাজে প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু তোমাকেই ভুলে গেছে কালের নিয়মে।’‌

Published by:

Share Link:

More Releted News:

ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের ভোট বাতিল করল কমিশন, ২১ মে ফের নির্বাচন

মিহিজামের জঙ্গলে যুবক-যুবতীর দেহ উদ্ধার, ব্যাপক চাঞ্চল্য,তদন্ত শুরু

রবিবার স্ট্রং রুমে ইভিএম পাহারায় বিজেপির মহিলা বাহিনী অবস্থানে বসছে

ডায়মন্ড হারবার, মগরাহাটের ১৫ বুথে পুনর্নির্বাচনে ভোট পড়ল ৯০ শতাংশ

ভোট দিয়ে হরিয়ানায় ফেরার পথে পরিযায়ী শ্রমিক বোঝাই বাস রানিগঞ্জে দুর্ঘটনার কবলে

মুখপাত্র থেকে একেবারে গণনা পর্যবেক্ষক, বাড়তি দায়িত্ব পেলেন প্রতীক উর রহমান

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ